All for Joomla The Word of Web Design
বিশেষ কলাম

এখন কি তুরস্কের ন্যাটো ছাড়ার সময়?

বুরহানুদ্দিন দুরান
গত সপ্তাহে নরওয়ের স্ট্যাভেরয়ারে ন্যাটোর যৌথ ওয়ারফেয়ার সেন্টারের মহড়ার সময় যে কেলেঙ্কারি সংঘটিত হয়েছিল, তাতে তুরস্কে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তুরস্কের সরকার এবং বিরোধী দলগুলি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক এবং প্রেসিডেন্ট রেসেপ তায়িপ এরদোগানকে অপমান করার ব্যাপারে এই সামরিক জোটের জোরালো সমালোচনা করেছে।
ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল জেন্স স্টলবারবার্গ এবং অন্যরা তুরস্কের প্রতি এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইলেও প্রেসিডেন্ট এরদোগান সতর্ক করে দেন যে “একটি সহজ ক্ষমা এ জন্য যথেষ্ট নয়”। আর তিনি মনে করেন যে, কেবলমাত্র তিনি নিজেই নন, তুরস্কই এখন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। স্পষ্টতই, এই ধরনের একটি কলঙ্কজনক ঘটনার উদঘাটনের জন্য নিছক তত্ত্বাবধানের চেয়ে অনেক বেশি কিছু লাগে। এটি দৃশ্যমান হয় যে পশ্চিমা সরকারগুলো কিছু দিন ধরে যে তুরস্ক বিরোধী আবেগ তৈরি করছে মহড়ার মধ্যে তার প্রকাশ ঘটেছে।
ন্যাটো এমন একটি সংগঠন যার প্রতিটি ইভেন্টের প্রতিটি জিনিসই নিখুঁতভাবে পরিচালিত হয়। সংস্থার মহাসচিবের পক্ষ থেকে যে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে তা এবং নরওয়েজীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী তুরস্কের উদ্বেগের বিষয়টি মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছেন যেটি তুরস্ক-ন্যাটো সম্পর্কে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তৈরি হয়েছে। ১৫ জুলাই অভ্যুত্থান চেষ্টার প্রতি ন্যাটোর সার্বিক ভূমিকা এবং গুলেনিস্ট সৈন্যদেরকে তুরস্কে ফিরিয়ে দিতে ব্যর্থতা আঙ্কারা ও জোটের মধ্যে বিশ্বাসের জন্য ক্ষতিকর ছিল। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে তুরস্কের চাপের সম্পর্ক ন্যাটোর সাথে দেশটির সম্পর্কে পরোক্ষ প্রভাব ফেলেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, তুর্কি কর্মকর্তারা বারবার উল্লেখ করেছেন যে, তাদের দেশটি পিকেকে ও গুলেনিস্ট সন্ত্রাসি গ্রুপের (ফেটো) মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একা একা লড়াই করছে। এদিকে, তুরস্কের এস -৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ের সিদ্ধান্তসহ রাশিয়ার সহযোগিতার জন্য তুরস্কের প্রচেষ্টাকে পশ্চিমা গণমাধ্যমে ন্যাটোর বিশ্বাসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। বিষয়টির আরও অবনতির জন্য তুর্কি প্রেসিডেন্টকে একনায়ক হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্তকারী পশ্চিমা দেশের কয়েকটি গ্রুপ ন্যাটো থেকে তুরস্ককে বিদায় করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আতাতুর্ক ও এরদোগানকে জোটের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করায় দেশটির ন্যাটো সদস্যপদ সম্পর্কে তুরস্কে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
সংশয়বাদীরা যুক্তি দেন যে, সংগঠনটি তুরস্কের জাতীয় স্বার্থকে নিখুঁতভাবে উপেক্ষা করে চলেছে। ১৯৬০ সাল থেকে সব সামরিক অভ্যুত্থানের পেছনে এটি কাজ করেছে আর এইজন্য সংস্থাটি বিশ্বস্ত সংগঠন হতে পারে না। এই বিতর্কের মধ্যে সর্বাধিক চরম দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে রয়েছে, আংকারার বিরুদ্ধে “খোলাখুলিভাবে বৈরিতা” প্রদর্শন করার জন্য তুরস্কের সরকারকে ন্যাটো থেকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো।
প্রথমত, ন্যাটো থেকে তুরস্ককে “অপসারণ” কার্যত অসম্ভব। কারণ নর্থ আটলান্টিক চুক্তির সদস্য কোন রাষ্ট্রকে জোরপূর্বক অপসারণের কোনও ধারা নেই। ন্যাটো জোটের কোন কোন দেশের তুরস্কের ঘন ঘন সমালোচনারও মানে হয়তো এই যে দেশটিকে অবশ্যই জোট ছেড়ে চলে যেতে হবে।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান তুরস্কের সঙ্গে তার দেশের মৈত্রির ক্ষেত্রে আন্তরিকতা সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপনের পাশাপাশি তিনি পশ্চিমা-কেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অন্যায্যতার অভিযোগ এনেছেন। এর মাধ্যমে সাথে সাথে তিনি একটি নতুন এবং আরো ন্যায্য সম্পর্কের জন্য আঙ্কারার খোঁজের প্রতীকী ইঙ্গিত দিয়েছেন। তুর্কি প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য পশ্চিমা দেশগুলোর ‘আপত্তিকর কথা’ বলার প্রতিবাদের পাশাপাশি পশ্চিমের সাথে তুরস্কের সম্পর্কের অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রকৃতির সংশোধন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, প্রেসিডেন্ট এরদোগান একটি বাধ্যবাধ্যকতাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির লালন করেন না যা পশ্চিমারা একসাথে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে। যেমন, ন্যাটোর তুরস্কের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে সমালোচনা এবং এই জোট থেকে দেশটির প্রত্যাহারের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটো উভয়েই আন্তর্জাতিক সংস্থা, যেখানে তুরস্ক তার জাতীয় স্বার্থকে আরও বড় করে তুলতে চায়। স্পষ্টতই, এই ধরনের সংগঠনে তুরস্কের সদস্যপদ আবেগের কোন বিষয় নয় যে জনসাধারণের মধ্যে প্রচারণার মাধ্যমে এর সমাধান করা যাবে। আর এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আমরা কিছু গ্রুপের উত্থাপিত প্রস্তাব অনুসারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবো না যাতে তুরস্কের জন্য কোনও সংস্থার দরজা বন্ধ হয়ে যায়।
তুরস্ককে সব ধরনের সিদ্ধান্ত দীর্ঘস্থায়ী স্বার্থের উপর ভিত্তি করে এবং বিশ্বের চলমান ও যুক্তিসঙ্গত হিসাব নিকাশের বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করে গ্রহণ করতে হবে। আর আমি বিশ্বাস করি না যে, ট্রান্সআটলান্টিক বিষয়গুলির উপর ট্র্যাম্প প্রশাসনের অবস্থানের অনিশ্চয়তার বিষয়টি শেষ হবার আগে সংস্থা ত্যাগ ঠিক হবে। আর আমরা জানি যে স্থায়ী কাঠামোগত সহযোগিতা (পেসকো) কোথায় পরিচালিত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যকার দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কোনো এক দিকে নিজেদেরকে সমর্পণ করতে পারি না। তবে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে এই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দেশ হিসাবে তুরস্ককে এসব সংগঠনের সাথে ক্রিটিক্যাল সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে এবং বিভিন্ন খেলোয়াড়দের সাথে তার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে হবে। সহজভাবে কথাটি হলো পশ্চিমের সাথে স্থবির সম্পর্ককে কোন ভাঙ্গন ছাড়াই সামনে এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে তুরস্ক বিরোধী কিছু সময়ের কোন প্রচারণা অভিযান আমাদের ভুল পথে পরিচালিত করছে না।

দৈনিক সাবাহ থেকে অনুবাদ মাসুমুর রহমান খলিলী

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   ধর্মান্তর নিষিদ্ধ হচ্ছে ভারতে! নিষিদ্ধ ‘লাভ জেহাদ’   ❖   পানিবাহিত রোগ ও তার প্রতিরোধ   ❖   কুরবানি তাকওয়ার শিক্ষা   ❖   সামাজিক যোগাযোগ কি আমাদের অসামজিক ও অবাধ্য করে তুলছে!   ❖   কোরবানী: তাকওয়া অর্জনের অন্নতম একটি মাধ্যম   ❖   জীবনের কোনো গ্যারান্টি নেই   ❖   র‍্যাগ ডে: বিজাতীয় সংস্কৃতির নতুন উম্মাদনা   ❖   বাংলাদেশ ইসলাম ও আলেম-ওলামার দেশ   ❖   সেইজ দ্যা ডে সংস্কৃতি ও আমরা…   ❖   দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য, দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য