All for Joomla The Word of Web Design
স্বাস্থ্য পরামর্শ

নারীরা কেন হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন?

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জীবন যাত্রায় ঘটেছে আমূল পরিবর্তন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও সমানতালে তাল মিলিয়ে বয়ে চলেছেন ঘরে–বাইরের নানা দায়ভার। কিছুদিন আগেও আমাদের একটা ধারণা ছিলো হার্টের অসুখ শুধুমাত্র পুরুষদেরই হয়ে থাকে। নারীদের মেনোপজ না হওয়া পর্যন্ত ইস্ট্রোজেন হরমোন এই রোগের রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করে। সময়ের সঙ্গে এই ধারণার আজ পরিবর্তন ঘটেছে। আধুনিক সমীক্ষা অনুযায়ী প্রায় ২০ শতাংশ নারী মেনোপজের আগে থেকেই হৃদ রোগের সমস্যায় ভুগছেন।

চিরকালই নারীরা নিজেদের স্বাস্থ্য-সচেতনতার ব্যাপারে একটু বেশিই অনাগ্রহী। সবার খেয়াল রাখতে রাখতে নিজেদের খেয়াল রাখার ইচ্ছা বা সময় কোনোটাই বোধহয় তাদের থাকে না। আবার আধুনিক সমাজের নারীদের অনেকের ক্ষেত্রেই একথা বলা যায় শুধুমাত্র লাগামহীন জীবনযাপন, মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম ইত্যাদি নানা কারণে তারা নিজেরাই অনেক সময় নিজেদের অজান্তেই এই রক্ষাকবচকে সঙ্কটে ফেলছেন।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চলাফেরার সময় হাঁপ ধরা, কোনো প্রকারের বুকে ব্যাথা, অস্বস্তি বোধ ইত্যাদি বিষয় নারীদের মধ্যে একটা অগ্রাহ্য ভাব বা অবহেলা লক্ষ করা যায়। এমন ধারণাও তারা পোষণ করেন যে সামান্য গ্যাস অ্যাসিডিটি থেকেই এই উপসর্গগুলো দেখা দিচ্ছে। তাই এই ছোটখাট ব্যাপারে পাত্তা না দিয়ে রোজকার জীবনযাত্রায় বেশি মনোযোগী হওয়া তাদের কাছে জরুরি মনে হয়। আর ঠিক এই সুযোগেই তাদের দেহে বাসা বাঁধে হৃদরোগ নামক মারাত্মক রোগটি।

এটা ঠিক যে নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন বিরাট এক ভূমিকা পালন করে। সাধারণত মহিলাদের যতদিন স্বাভাবিক মেনস্ট্রুয়েশন চলে ততদিন ডিম্বাশয় থেকে স্বাভাবিক মাত্রায় ইস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা হৃদরোগের রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করে। কিন্তু আজকাল অনেকের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস থাকা, তামাক জাতীয় কিছু সেবন করা, ইত্যাদি নানা কারণে ইস্ট্রোজেন হরমোন রক্ষাকবচের কাজ করতে পারে না। যার ফলে নারীদের মধ্যেও আনেক কম বয়স থেকেই হৃদরোগের প্রকোপ বাড়ছে। মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন কমে যাওয়ায় এই রোগের মাত্রা আরো বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

আধুনিক যুগে ফাস্ট ফুডের ওপর মানুষের আকর্ষণ ও নির্ভরতা ক্রমশ বাড়ছে। আর ফাস্ট ফুড মানেই বেশি ক্যালোরি ও ফ্যাট। আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক পরিশ্রম অনেকাংশেই কমে গেছে, আমরা একটু বেশি মাত্রায় যন্ত্র নির্ভর হয়ে পড়েছি। যার ফলে স্থূলাকায় হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস-এর সমস্যা ক্রমশই বেড়ে চলেছে। এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল বেড়ে যাচ্ছে এবং ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল কমে যাচ্ছে। এছাড়াও মনে রাখতে হবে, দ্রুতগতির জীবনযাপন, মানসিক চাপ, অবসাদ হৃদরোগের সমস্যা অনেক পরিমাণে বাড়িয়ে দেয়। এহেন পরিস্থিতিতে আচমকা হার্ট-অ্যাটাক হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সেইরকম অবস্থায় বিপজ্জনক পরিস্থিতি সামাল দিতে একান্তভাবে প্রয়োজন অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা। সঠিক সময় সঠিক ব্যবস্থা নেয়া গেলে বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

তবে কথায় আছে, রোগে সারানোর চাইতে রোগ প্রতিরোধই শ্রেয়। অতএব হৃদরোগ আটকাতে নারীদের উচিত প্রতিবছর একবার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো। সঙ্গে খাদ্যে তেল ও কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্যের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আর অতিঅবশ্যই প্রতিদিন ৩৫ মিনিট করে হাঁটুন। ভালো থাকুন। ভালো রাখুন।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   ধর্মান্তর নিষিদ্ধ হচ্ছে ভারতে! নিষিদ্ধ ‘লাভ জেহাদ’   ❖   পানিবাহিত রোগ ও তার প্রতিরোধ   ❖   কুরবানি তাকওয়ার শিক্ষা   ❖   সামাজিক যোগাযোগ কি আমাদের অসামজিক ও অবাধ্য করে তুলছে!   ❖   কোরবানী: তাকওয়া অর্জনের অন্নতম একটি মাধ্যম   ❖   জীবনের কোনো গ্যারান্টি নেই   ❖   র‍্যাগ ডে: বিজাতীয় সংস্কৃতির নতুন উম্মাদনা   ❖   বাংলাদেশ ইসলাম ও আলেম-ওলামার দেশ   ❖   সেইজ দ্যা ডে সংস্কৃতি ও আমরা…   ❖   দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য, দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য