All for Joomla The Word of Web Design
ইসলামী জীবন

ইভটিজিং প্রতিরোধে ইসলামী অনুশাসন

সুমাইয়া বিনতে রাশিদ
ঢাকা সিটি কলেজ, লেখক- মাই নিউজ।

“ইভটিজিং” খুব কমন একটি শব্দ। এর সাথে পরিচিত প্রায় সব মানুষই। প্রতিনিয়ত এর শিকার হচ্ছে কিশোরী ও যুবতী মেয়েরা।
আজ আমি আপনাদের কিছু ঘটনা বলবো-

♦ঘটনা-১ঃ
“জানালার পাশে বসে কাঁদছে রিয়া। কি করবে সে ভেবে পাচ্ছে না। ভাবছে তার কি করা উচিৎ? সুইসাইড করাই হয়তো উত্তম। আজ যা হয়েছে তার পর বেচেঁ থাকার প্রশ্নই উঠে না। নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করছে আমার কি দোষ? আমি তো খারাপ পোশাক পরে বাইরে যাইনি, তাহলে কেন ছেলেগুলো আমাকে দেখে এতো বাজে মন্তব্য করলো? কেন তারা আমার গায়ে হাত দিলো? কাল যদি তারা আমার এর চেয়ে বড় ক্ষতি করে তাহলে! আমি তো কাউকে নিজের মুখ দেখাতে পারবো না। আমার বাবা মার সব সম্মান এক নিমিষে শেষ হয়ে যাবে। এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে সে ঘুমিয়ে পড়ল।

♦ঘটনা-২ঃ
ঝর্ণার নিচে দাঁড়িয়ে আজকের ঘটে যাওয়া কাহিনীর কথা ভাবছে মিতা।  শরীরের সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে কেটে ফেলতে মন চাচ্ছে তার। কি থেকে কি হয়ে গেলো। সে তো রোজ বাসে যাতায়াত করে, কখনো তো এমন হয়নি। রোজই তো শার্ট প্যান্ট পরে যায় আমার সাথে, আগে তো কখনো এমন হয়নি। তো আজ কেন!? কেন ওরা বাসে আমার গায়ে হাত দিলো? আমার বাবা মাই তো আমাকে বলেছে আধুনিক যুগে এসব পোশাকই চলে। ঝর্ণার পানিতে যেন মিতার সব রাগ, অভিমান, কষ্টে ভাসছে।

♦ঘটনা-৩ঃ
প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ে সুমি। ছেলে বন্ধু থাকবে না এমনটা তো হয়না। তাদের সাথে ফ্রি হয়ে গায়ে মাখামাখি করে চলাফেরা না করলে তো বন্ধুত্ব টিকবে না। সেই জাস্ট ফ্রেন্ড ছেলেগুলো আজ ক্লাস শেষে কোকের বোতলে মদ মিশিয়ে দিলো, সেই কোক খেয়ে সুমি অচেতন হয়ে গেলো। তাকে নিয়ে ছেলেগুলো ছাদে যায় সময়মত দারোয়ান না আসলে সুমি আজ নিজের সম্মান হারিয়ে ফেলতো। এরপর থেকে সুমিকে আর ক্লাস করতে দেখা যায়নি।

♦ঘটনা-৪ঃ
ঈদের শপিং করতে মার্কেটে গেল মিম। এতো ভিড়ের মধ্যে কে যেন মিমের জামার চেইন খুলে দিলো। এতো বাজে কাজটা কে করল তা বুঝে উঠার আগেই মানুষের মন্তব্যের শিকার হলো মিম। মানুষ তার বিপদে তাকে সাহায্য না করে তাকেই তিরস্কার করছে। আরে ভাই সমাজ বলে কথা, সমাজের কাজই এটা। আপনার সমস্যা তাদের জন্য একটা মজার ব্যাপার। তারা আপনাকে নিয়ে হাসবে না তা তো হয়না। আপনাকে ফেলে দেয়ার মানুষ অনেক আছে কিন্তু আপনাকে উঠানোর মানু্ষ অনেক কম। কান্না করতে করতে বাসায় ফিরলো মিম।

♦ঘটনা-৫ঃ
বাবা মার একমাত্র মেয়ে ফারহানা। বাবা মা দুজনই চাকরি করেন। বিকেলে বাসায় স্যার পড়াতে আসেন। হঠাৎ একদিন স্যার ফারহানার হাত ধরলো। ধরে বলল আমি তোমাকে আজ অনেক ভালো ভাবে পড়া বুঝাবো, এই কথা বলা মাত্রই সে ফারহানার গায়ে হাত দিলো। ফারহানা বুঝতে পেরে তার সামনে থাকা ফুলের টব দিয়ে স্যারের মাথায় আঘাত করলো। এর পর মাকে ফোন দিয়ে সব বলল। মা বাসায় ফিরে সে স্যারকে পুলিশের হাতে দিলো।

এমন হাজারও ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলছে। কেউ কেউ বেশ সাহস করে বলছে, এতে মেয়েদেরই দোষ, তারা যদি পর্দা করতো তাহলে ছেলেদের নজর পড়তো না। মেয়েদের পোশাকে দোষ, মেয়েদের চালচলনে দোষ, মেয়েরা নিজেদের প্রতি ছেলেদের আকৃষ্ট করে। আমিও চুপচাপ মেনে নিলাম। কি ভেবেছেন এখানেই শেষ মন্তব্য? না! অন্য পক্ষ এসে বলল, মেয়েরা কেনো নিজেদের ঢাকবে আগে ছেলেদের চোখের পর্দা করা উচিৎ। তারা যদি না তাকায় তাহলেই তো হয়। আমি তাও চুপচাপ মেনে নিলাম। দুইপক্ষের যুক্তি সঠিক।

এখন বলা যায় মেয়েদের পর্দৎ। হ্যাঁ, মেয়েরা যদি পর্দা করতো তাহলে ছেলেরা তাদের দিকে তাকাতো না। যেমন, চকলেটের প্যাকেট খুলে রাখলে পিপড়া উঠবেই, কিন্তু প্যাকেটে আবদ্ধ করা চকলেটের চারপাশে পিপড়া ঘুরলেও চকলেটের উপর উঠবে না।

অন্যপক্ষ, ছেলেদের নজর ঠিক রাখা। একটা ছেলে যদি সকলে মেয়ের মাঝে নিজের বোনকে দেখত তাহলে হয়ত এমনটা করত না। একটি সুন্দর মেয়ে সামনে হেটে যাচ্ছে, দেখে তাকে বেশ ভালো লাগছে তখন যদি কিছু না বলে একবার ভাবত যে আমার বোনও বাইরে যায় তার সাথে যদি এমন হয় তাহলে কি হবে।

কিছু নসীহতঃ

জামা সেলাই করতে গিয়ে টেইলর বেশ ভালো ভাবেই আপনার শরীরের মাপ নিচ্ছে। তাতে কোন আপত্তি প্রকাশ করছেন না আপনি, কেন করবেন? মাপ না নিলে সুন্দরভাবে সেলাই করতে পারবে  না। আপনি যদি একজন মহিলার কাছে যান হয়তো এই সমস্যার সমাধান হবে। বা একটি জামা দিয়ে আসলে সে লোকটি এমনি আপনার শরীর স্পর্শ ছাড়াই ভালো জামা বানাতে পারবে।

আপনি আধুনিকতার নাম করে নিজের মেয়েকে অশালীন পোশাক দিচ্ছেন। আপনার বিবেক কীভাবে এ কাজে সায় দিলো? আপনার সন্তানকে আপনি নিজেই বিপদে ফেলে দিলেন। আপনার ছেলে যখন টাকা চায় আপনি প্রশ্ন না করেই দিয়ে দেন। সে টাকা দিয়ে কি করে খবর নেয়ার প্রয়োজন আপনি মনে করেন না। আপনি গিয়ে কখনো দেখেছেন আপনার মেয়েটি কাকে নিজের জাস্ট ফ্রেন্ড বলছে? আপনি কখনো জানতে চেয়েছেন? আপনার ছেলে কার সাথে চলাফেরা করে? সন্তানকে আপনি নিজেই জাহান্নামের পথ দেখাচ্ছেন।

ইভটিজিং করে ছেলেরা দোষ হয় মেয়েদের। কেন? মেয়েটি কান্না করে আপনার কাছে আসল কিন্তু আপনি অনায়াসে তার দোষ দিয়ে দিলেন? কীভাবে? সে ছেলেটি কি দোষী না? আপনার কি উচিৎ ছিলনা সেই মেয়েটিকে শান্তনা দিয়ে তাকে বুঝানো? আপনার ছেলেকে যদি আপনি ছোট বেলায় শিক্ষা দিতেন তাহলে হয়ত আজ সে কোন মেয়েকে নিয়ে বাজে কথা বলত না।
আপনি যদি খবর নিতেন আপনার ছেলে বাইরে কার সাথে আছে কি করে? তাহলে হয়তো সে এতো খারাপ হত না।

আপনি যদি আপনার সন্তানকে ইসলামের শিক্ষা দিতেন, কি সুন্দর ভাবে কোরআনে আছে, ‘আর মুমিন নারীদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। আর যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশকে আবৃত করে রাখে। আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজদের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাই এর ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীগণ, তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে, অধীনস্থ যৌনকামনামুক্ত পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে নিজদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো’। {সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩১}।

আপনি যদি আপনার মেয়ের পোশাক নিয়ে সচেতন হতেন, তাহলে আপনার মেয়ে দুনিয়া ও আখিরাতে মুক্তি পেতো। হজরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا، قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ، وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلَاتٌ مَائِلَاتٌ، رُءُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ، لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ، وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا، وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا»

‘জাহান্নামবাসী দুটি দল রয়েছে। যাদেরকে আমি এখনো দেখিনি। একদল এমন লোক যাদের হাতে গরুর লেজের মত লাঠি থাকবে যা দিয়ে তারা লোকদেরকে প্রহার করবে। আর অন্য দল এমন নারী যারা পোশাক পরেও উলঙ্গ থাকে। তারা অন্যদের তাদের প্রতি আকৃষ্ট করবে নিজেরাও অন্যদের প্রতি ঝুঁকবে। তাদের মস্তক উটের পিঠের কুঁজের মত হবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এমনকি জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ এর ঘ্রাণ এত এত দূর থেকেও পাওয়া যায়।’ [মুসলিম : ২১২৮]।

হাদিসে উল্লেখিত ‘পোশাক পরেও উলঙ্গ’– এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এমন সংক্ষিপ্ত পোশাক যা নারীর আবরণীয় অংশ ঢাকতে যথেষ্ট নয়। এমন পাতলা পোশাক যা ভেদ করে সহজেই নারীর ত্বক দেখা যায়। এমনকি টাইট কাপড় যা ভেদ করে ত্বক দেখা যায় না।

তাই সময় আছে এখনো সর্তক হোন। তাদের সঠিক শিক্ষা দিন। আর ভাই -বোনেরা সব হারাম কাজ থেকে দূরে থাকুন না হলে দুনিয়া ও আখিরাত আপনার জন্য কয়েদখানা হবে।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   ধর্মান্তর নিষিদ্ধ হচ্ছে ভারতে! নিষিদ্ধ ‘লাভ জেহাদ’   ❖   পানিবাহিত রোগ ও তার প্রতিরোধ   ❖   কুরবানি তাকওয়ার শিক্ষা   ❖   সামাজিক যোগাযোগ কি আমাদের অসামজিক ও অবাধ্য করে তুলছে!   ❖   কোরবানী: তাকওয়া অর্জনের অন্নতম একটি মাধ্যম   ❖   জীবনের কোনো গ্যারান্টি নেই   ❖   র‍্যাগ ডে: বিজাতীয় সংস্কৃতির নতুন উম্মাদনা   ❖   বাংলাদেশ ইসলাম ও আলেম-ওলামার দেশ   ❖   সেইজ দ্যা ডে সংস্কৃতি ও আমরা…   ❖   দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য, দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য