All for Joomla The Word of Web Design
ইসলামী জীবন

“সত্য আমায় ব্যাকুল করেছে”- উম্মে হাবীবা

উম্মে হাবীবা
লেখিকা, মাই নিউজ।

চলুন একটা গল্প বলি। গল্প হলেও সত্য। একজন মেয়ের হিদায়াতের গল্প, হকের পথে চলার গল্প, কাউকে না বলা একটি গল্প।

দ্বীনে ফেরার গল্পগুলোতে সাধারণত দেখা যায়, যে সকল ভাই বোনেরা হিদায়াতের আলোতে আলোকিত হন, তাদের পরিবার, সমাজ কিংবা ফ্রেন্ড সার্কেল থেকে আসে নানারকম বাধা বিপত্তি কিংবা সহ্য করতে হয় অসহনীয় ব্যথা বেদনা। কিন্তু এখানে যার কথা বলবো তার ঘটনাটা একটু অন্যরকম।

মেয়েটির নাম আমাতুল্লাহ (ছদ্মনাম)। বাবা, মা, ভাই, বোন, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে নিয়ে ভালোই কাটছিলো ওর দিনগুলো। দ্বীনের বিধানগুলো ও মানার ক্ষেত্রে ঐ ২/৩ ওয়াক্তের সালাত, তারাবীহ আর কিছু বিদআত-(আল্লাহ্‌ ক্ষমা করুন)। তবে ও তথাকথিত মডার্নিজম থেকে দূরে ছিলো। দ্বীন সম্পর্কে কখনো কেউ জানায়নি আর ও জানতেও চায় নি ওভার অল নাম কা ওয়াস্তে মুসলিম ছিলো।

আল্লাহ্‌ যখন কারো ভালো চান তখন তাকে হিদায়াত দান করেন। “আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াতের সরল সহজ পথের সন্ধান দেন।” {সূরা আন’আম:৩৯}

হিদায়াহ একটা আলো, যেই আলো আশেপাশের সবাইকে আলোকিত করে। আর জাহিলিয়াত এমন এক অন্ধকার যেটা সবকিছুকে গ্রাস করে ফেলে।

আলহামদুলিল্লাহ্‌ যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান সত্তার যিনি আমাতুল্লাহকে অন্ধকার থেকে আলো দেখিয়েছেন, জাহান্নামের পথ থেকে জান্নাতের পথ চিনিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ্‌। সেই সরল, সোজা পথটা খুব দীর্ঘ যেখানে বিজয়ী হওয়া জরুরি না হলেও টিকে থাকা খুবই জরুরি, আর কষ্টকরও বটে কারণ ওয়াসওয়াসা দেওয়ার জন্য শয়তান সবসময়ই ছিলো, আছে, থাকবে। আল্লাহ্‌ আমাদের শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করুন আমিন। তাহলে চলুন এবার শুনে আসি আমাতুল্লাহর গল্প।

আমাতুল্লাহ সর্বপ্রথম দ্বীনের কিছু মৌলিক বিধান সম্পর্কে জানতে পারলো ওর খালামণির কাছে। কিছু পদ্ধতি, কিছু নিয়ম, এতদিনের করা,জানা সবকিছুই ভুল প্রমাণিত হলো। ও জানলো কুরআন ও হাদিসে কি আছে? সত্যিকার অর্থে যেগুলো এর আগে কখনোই জানার জন্য, মানার জন্য কিংবা তাফসীরসহ পড়া হয়নি। একটু একটু করে সেই শত বছরের চাপা পড়া হীরে মুক্তো থেকেও দামী ইসলামকে জানার পথে পা বাড়ালো আমাতুল্লাহ। চারদিকে এত ভুল, এত আহাজারি যেটা সবসময়ই পীড়া দিতো ওর মনের মধ্যে। আশেপাশের মানুষদের চেষ্টা করেছে বুঝানোর কিন্তু হতাশ হয়েই ফিরে আসতে হয়েছে। বার বার শুনতে হয়েছে এতদিন আমরা যা করেছি সব ভুল? এত নতুন নতুন হাদিস কুরআন পাচ্ছে কোথা থেকে? ও তো আর মাদরাসায় পড়েনি তো ওর এসব জানারও কথা নয়। ও কি হুজুর, আলেমদের থেকে বেশি জানে? নানাকিছু, কত শত সমালোচনা।

তবে আমাতুল্লাহ কুরআনের আয়াতটি মনে করে ”তুমি যাকে ভালবাস, ইচ্ছা করলেই তাকে সৎ পথে আনতে পারবেনা। তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎ পথে আনেন এবং তিনিই ভাল জানেন কারা সৎ পথ অনুসরণকারী।” {সূরা কাসাস:৫৬} এভাবেই যখন যেভাবে পারে সাধ্য মতো চেষ্টা করে সঠিকটা বুঝানোর,জানানোর ও যতটুকু জেনেছে।

অনেকে হয়তো বাপ-দাদা কিংবা সমাজের অধিকাংশের কথা বলে ঘোমরাহীতে পড়ে থাকে যেমনটা করেছিলো আবু জাহেল ও তাঁর সঙ্গীরা। কিন্তু ওর সামনে যখন দলিল-প্রমাণাদি আসলো আমাতুল্লাহ, ওর বাবা,মা,ভাই বোন সবাই গ্রহণ করে নিলো আলহামদুলিল্লাহ্‌।

এ যেনো কুরআন আয়াতের প্রতিচ্ছবি। আল্লাহ্‌ সূরা আল বাকারা:২৮৪ তে বলেছেন- “রাসূল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর, আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই শেষ প্রত্যাবর্তন।”

ওরা মিথ্যাকে ত্যাগ করে সত্যকে গ্রহণ করেছিলো। আল্লাহ্‌ বলেছেন- “বলুন সত্য এসেছে আর মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে।মিথ্যা তো বিলুপ্ত হওয়ারই ছিলো”। {বণী ইসরাঈল:৮১}

পরিবার থেকে ও তেমম বড় কোনো বাধার সম্মুখীন হয় নি।এমনকি ওর যেসকল বান্ধুবীরা জাহেলিয়াতে মগ্ন ছিলো আল্লাহ্‌ ওদের বিনিময়ে এমন কিছু বোনদের মিলিয়ে দিলো আলহামদুলিল্লাহ্‌। বস্তুত আমরা তো জানি আল্লাহ্‌ কারো কাছ থেকে কিছু নিয়ে উত্তম কিছু দান করেন আলহামদুলিল্লাহ্‌। সমাজ,পরিবার কিংবা শিক্ষাক্ষেত্রে তেমন বড় কোনো জটিলতার সম্মুখীন ও হয়নি আলহামদুলিল্লাহ্‌। যেটুকু হয়েছে আল্লাহ্‌র রাস্তায় ঐগুলো না হলেও নয়।হকের পথে বাধা আসবে না এমনটা কখনো হয়নি, প্রয়োজন শুধু ধৈর্য ও সবর করার। এমনি করেই চলছে ওর দিনগুলো,রবের সন্তুষ্টির পাওয়ার লক্ষ্যে কিছু করার চেষ্টায় রত আছে।

আমাতুল্লাহ মাঝে মাঝেই ভাবে এই যে এত এত নি’য়ামত রহমান দিচ্ছেন। হিসাব ও তো দিতে হবে সবকিছুর, একেবারে সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্ম জিনিসের।এত রহমত, নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার সৌভাগ্য ও তো অনেকের হয় না।ও কি পারছে শুকরিয়া আদায় করতে? কিংবা রহমান কি কবুল করছেন?ভাবতে ভাবতে চোখ ঝাপসা হয়ে আসে তবুও আবার শান্তনা দেয় নিজেকে আল্লাহ্‌ তো রহমান,তিনি তো গাফফার, তিনিই তো প্রার্থনা শ্রবণকারী।

আল্লাহ্‌ বলেছেন- তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নি’য়ামাতকে অস্বীকার করবে? {সূরা আর রহমান:১৪} আদৌ কোন কিছু অস্বীকার করা কি সম্ভব?আল্লাহ্‌র দয়া ছাড়া কি বাঁচা সম্ভব?

আমাতুল্লাহ সবার কাছে দোআর দরখাস্ত করছে আমৃত্যু হকের উপর টিকে থেকে, রবের সন্তুষ্টি অর্জন করে, ইমানের সাথে মৃত্যুর জন্য যেহেতু হিদায়াত পাওয়ার থেকে ধরে রাখাটা কষ্টকর। এই ছিলো ওর গল্প। গল্প হলেও সত্য।

যেটুকু মহান রব আমাদের দিচ্ছেন আমরা সেসব কিছুর মুখাপেক্ষী। সবকিছুর জন্য হিসাব দিতে হবে। অনন্তকালের ঐ জীবনে ভালো থাকার জন্য এই জীবনটাকে কাজে লাগাতে হবে,আজি, এখনি, এই মূহুর্ত থেকে,বলা তো যায় না কখন মৃত্যু চলে আসবে।মৃত্যুর সময় আর একটুও অবকাশ দেওয়া হবে না। সকল গুনাহ থেকে তওবা করে নিয়ে এখনি আমলে সলেহ করার পিছনে ধাবিত হতে হবে। সময় আর কতটুকু বাকি তা তো আমরা কেউই জানি না।আল্লাহ্‌ আমাদের গোপন, প্রকাশ্য,বড়, ছোট, সামনের, পিছনের সকল গুনাহ ক্ষমা করুন আর আমাদের সকলকে জান্নাতুল ফিরদাউসে একত্রিত করুন। আমিন ইয়া রহমান।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   ধর্মান্তর নিষিদ্ধ হচ্ছে ভারতে! নিষিদ্ধ ‘লাভ জেহাদ’   ❖   পানিবাহিত রোগ ও তার প্রতিরোধ   ❖   কুরবানি তাকওয়ার শিক্ষা   ❖   সামাজিক যোগাযোগ কি আমাদের অসামজিক ও অবাধ্য করে তুলছে!   ❖   কোরবানী: তাকওয়া অর্জনের অন্নতম একটি মাধ্যম   ❖   জীবনের কোনো গ্যারান্টি নেই   ❖   র‍্যাগ ডে: বিজাতীয় সংস্কৃতির নতুন উম্মাদনা   ❖   বাংলাদেশ ইসলাম ও আলেম-ওলামার দেশ   ❖   সেইজ দ্যা ডে সংস্কৃতি ও আমরা…   ❖   দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য, দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য