All for Joomla The Word of Web Design
ইসলামী জীবন

পরকালের ভাবনা

সুমাইয়া বিনতে রাশিদ
লেখিকা, মাই নিউজ।

আমরা সবাই জানি, আমরা যেতে চাই বা না চাই একদিন আমাদের সকলকে এই দুনিয়া ছেড়ে যেতে হবেই। দুনিয়ার সব প্রিয় জিনিস, আপন জনদের ছেড়ে পরকালে পাড়ি দিতেই হবে। জানিনা কেমন হবে সেই অন্ধকার কবর? দুনিয়াতে কিচ্ছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ চলে গেলে দম বন্ধ হয়ে যায়, জানিনা কবরে আলো বাতাস ছাড়া কিভাবে থাকব? চারপাশ থাকবে ঘুটঘুটে অন্ধকার, আর নিস্তব্ধ। মাটির সেই চাপ কেমন হবে? এই মাটির চাপ থেকে কেউ রেহাই পাবে না, কেননা “ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “এ সেই ব্যক্তি যার জন্য আরশ কেঁপে উঠেছিল, আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়েছে এবং সত্তর হাজার ফিরিশতা তার জানাযায় অংশ গ্রহণ করেছে, তবুও তাকে একটি চাপ দেওয়ার পর তা সরিয়ে নেওয়া হয়। [নাসায়ী ৪/১০০, সিলসিলা সহীহায় হাদীসের তাখীরজ করা হয়েছে, পৃষ্ঠা নং ১৬৯৫, ৪/২৬৮ আলবানী]

কবরের এই চাপের পরই আসবে মুনকার ও নাকীর, তারা প্রশ্ন করতে আসবে, তাদের কাছে অজুহাত দেয়ার কোন সুযোগ নেই। জানি না, তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব কি না, তারা ক্রমাগত প্রশ্ন করবে।

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃতকে যখন কবরে শায়িত করা হয় তখন তার নিকট নীল চোখবিশিষ্ট দু’জন কালো মালাক (ফেরেশতা) এসে উপস্থিত হন। তাদের একজনকে মুনকার, অপর একজনকে নাকীর বলা হয়। তারা মৃতকে (রসূলের প্রতি ইঙ্গিত করে) জিজ্ঞেস করে, এ ব্যক্তির ব্যাপারে দুনিয়াতে তুমি কি ধারণা পোষণ করতে? সে বলবে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল। তখন মালাক দু’জন বলবেন, আমরা আগেই জানতাম তুমি এ উত্তরই দিবে। অতঃপর তার কবরকে দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেয়া হয় এবং সেখানে তার জন্য আলোর ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। তারপর তাকে বলা হয়, ঘুমিয়ে থাক। তখন কবরবাসী বলবে, (না,) আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চাই এবং তাদের এ সুসংবাদ দিতে চাই। মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) বলবেন, তুমি এখানে বাসর ঘরের বরের ন্যায় ঘুমাতে থাক, যাকে তার পরিবারের সবচেয়ে প্রিয়জন ব্যতীত আর কেউ ঘুম ভাঙ্গাতে পারে না। অতঃপর সে ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিন না আসা পর্যন্ত এভাবে ঘুমিয়ে থাকে। যদি মৃত ব্যক্তি মুনাফিক্ব হয় তাহলে সে বলবে, লোকেদেরকে তাঁর সম্পর্কে যা বলতে শুনতাম আমিও তাই বলতাম, কিন্তু আমি জানি না। তখন মালায়িকাহ্ বলেন, আমরা পূর্বেই জানতে পেরেছিলাম যে, তুমি এ কথাই বলবে। অতঃপর জমিনকে বলা হবে, তার উপর চেপে যাও। সুতরাং জমিন তার উপর এমনভাবে চেপে যাবে, যাতে তার এক দিকের হাড় অপর দিকে চলে যাবে। কবরে সে এভাবে ‘আযাব ভোগ করতে থাকবে, যে পর্যন্ত (ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে) আল্লাহ তা‘আলা তাকে কবর থেকে না উঠাবেন। (তিরমিযী)সহীহ : তিরমিযী ১০৭১, সহীহুত্ তারগীব ৩৫৬০।

প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে কবরের সেই ভয়ানক শাস্তি থেকে মুক্তি পাবো, আর যদি না পারি আল্লাহ জানে কেমন হবে আমার পরিস্থিতি। ঈমানের সাথে মৃত্যু বরণ না করতে পারলে হয়ত কিয়ামত অব্ধি আমাকে কঠিন শাস্তি পেতেই হবে। কবরে যে অনেক রকমের শাস্তি প্রস্তুত করা আছে যার কোনোটা সহ্য করার ক্ষমতা আমার নেই,। যদি জানতাম শাস্তিগুলো কেমন হবে তাহলে হয়ত দুনিয়ার জীবনে কখনো হাসিতামশা করার সাহস হত না।

আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্নিত। তিনি বলেছেনঃ হে উম্মাতে মুহাম্মাদী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ্‌র শপথ! আমি যা জানি যদি তা তোমরা জানতে তবে অবশ্যই তোমরা হাসতে কম আর কাঁদতে বেশি। [৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭৭), সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬৬৩১)

কেমন হবে হাশর? আমি কি পাপী বান্দাদের দলে দাঁড়াবো নাকি আল্লাহর প্রিয় নেক বান্দাদের? সেইদিন কি আমি আমার রবের সামনে তার প্রিয় বান্দা হয়ে দাঁড়াতে পারব? সেইদিন হিসেব হবে আমার নেকি এবং পাপের। নিজের আমলনামা নিজেকে পড়তে হবে , কেমন হবে আমার আমলনামা, সেটা কি পাপে পূর্ণ থাকবে নাকি নেকিতে?

♦فَاَمَّا مَنۡ اُوۡتِیَ کِتٰبَہٗ بِیَمِیۡنِہٖ ۙ فَیَقُوۡلُ ہَآؤُمُ اقۡرَءُوۡا کِتٰبِیَہۡ ﴿ۚ۱۹﴾

তখন যার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে সে বলবে, ‘নাও, আমার আমলনামা পড়ে দেখ…_(আল হাক্বাহ- ১৯)

وَ اَمَّا مَنۡ اُوۡتِیَ کِتٰبَہٗ بِشِمَالِہٖ ۬ۙ فَیَقُوۡلُ یٰلَیۡتَنِیۡ لَمۡ اُوۡتَ کِتٰبِیَہۡ ﴿ۚ۲۵﴾

কিন্তু যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে সে বলবে, ‘হায়, আমাকে যদি আমার আমলনামা দেয়া না হত’।(আল হাক্বাহ -২৫)

সেদিন আমার কোন গোপন পাপ আর গোপন থাকবে না,

یَوۡمَئِذٍ تُعۡرَضُوۡنَ لَا تَخۡفٰی مِنۡکُمۡ خَافِیَۃٌ ﴿۱۸﴾

সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন গোপনীয়তাই গোপন থাকবে না। (আল হাক্বাহ – ১৮)

হিসেব শেষ হলে ফয়সালা হবে আমার ঠিকানা কোনটি জান্নাত নাকি জাহান্নাম, আল্লাহ যদি আমার উপর সন্তষ্ট থাকে তাহলে আমার রব আমাকে জান্নাতে যাওয়ার অনুমতি দিবেন কিন্তু যদি আমার পাপ আল্লাহকে নারাজ করে দেন তাহলে হয়ত স্থান জাহান্নাম হবে। জানিনা কেমন হবে জান্নাত, যারা সারাজীবন আল্লাহর ইবাদত করেছে আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাত তৈরি করে রেখেছে,

لٰکِنِ الَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا رَبَّہُمۡ لَہُمۡ جَنّٰتٌ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا نُزُلًا مِّنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ ؕ وَ مَا عِنۡدَ اللّٰہِ خَیۡرٌ لِّلۡاَبۡرَارِ ﴿۱۹۸﴾

কিন্তু যারা তাদের রবকে ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে মেহমানদারী। আর আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা নেককার লোকদের জন্য উত্তম।(আল ইমরান -১৯৮)

কিন্তু যারা দুনিয়াকে ভালোবেসে আল্লাহর অবাধ্য করেছে তাদের স্থান জাহান্নাম,

اَفَمَنِ اتَّبَعَ رِضۡوَانَ اللّٰہِ کَمَنۡۢ بَآءَ بِسَخَطٍ مِّنَ اللّٰہِ وَ مَاۡوٰىہُ جَہَنَّمُ ؕ وَ بِئۡسَ الۡمَصِیۡرُ ﴿۱۶۲﴾

যে আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুসরণ করেছে সেকি তার মত যে আল্লাহর ক্রোধ নিয়ে ফিরে এসেছে ? আর তার আশ্রয়স্থল জাহান্নাম এবং তা কতই না মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল!(আল ইমরান -১৬২)

মাঝে মাঝে যখন একা বসে নিজের গুনাহের দিকে তাকাই তখন অন্য কারো পাপ বড় মনে হয় না, মনে হয় হয়ত আল্লাহ মাফ না করলে আমার স্থান জাহান্নাম হবে আবার যখন একটু ভালো কাজ করি তখন হয়ত জান্নাতে যাওয়ার আশা করতে পারি কিন্তু এই ভালো কাজ কি যথেষ্ট যেখানে আমার গুনাহের তালিকা অনেক বড়?

আমি জানি, ভালো কাজ মন্দ কাজকে মুছে দেয়। আবূ যার জুনদুব বিন জুনাদাহ্ এবং আবূ আব্দুর রহমান মু’আয বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত আছে, তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তুমি যেখানে যে  অবস্থায় থাক না কেন আল্লাহকে ভয় কর এবং প্রত্যেক মন্দ কাজের পর ভাল কাজ কর, যা তাকে মুছে দেবে; আর মানুষের সঙ্গে ভাল ব্যবহার কর।” [তিরমিযী: ১৯৮৭, এবং (তিরমিযী) বলেছেন যে, এটা হচ্ছে হাসান হাদীস। কোন কোন সংকলনে এটাকে সহীহ্ (হাসান) বলা হয়েছে।]

হে রব আমার, তোমাকে ডেকে আমি কখনো ব্যর্থ হইনি। اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي،
আল্লা-হুম্মাগফির লী।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   ধর্মান্তর নিষিদ্ধ হচ্ছে ভারতে! নিষিদ্ধ ‘লাভ জেহাদ’   ❖   পানিবাহিত রোগ ও তার প্রতিরোধ   ❖   কুরবানি তাকওয়ার শিক্ষা   ❖   সামাজিক যোগাযোগ কি আমাদের অসামজিক ও অবাধ্য করে তুলছে!   ❖   কোরবানী: তাকওয়া অর্জনের অন্নতম একটি মাধ্যম   ❖   জীবনের কোনো গ্যারান্টি নেই   ❖   র‍্যাগ ডে: বিজাতীয় সংস্কৃতির নতুন উম্মাদনা   ❖   বাংলাদেশ ইসলাম ও আলেম-ওলামার দেশ   ❖   সেইজ দ্যা ডে সংস্কৃতি ও আমরা…   ❖   দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য, দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য