All for Joomla The Word of Web Design
উপ-সম্পাদকীয়

সামাজিক যোগাযোগ কি আমাদের অসামজিক ও অবাধ্য করে তুলছে!

ফারজানা আফরিন আমাতুল্লাহ
নিয়মিত লেখিকা, মাই নিউজ।

প্রতিদিনের কত কি ঘটনা। কত আনন্দ। কত আপুকে দেখি সারাদিন শুধু পোষ্টের উপর পোষ্ট। কেউ ব্যস্ত খেলা নিয়ে, কেউ ব্যস্ত গান-বাজনায়, কেউবা আবার রঙ-তামাশায়। রংবেরঙের এই জগতে সবই আছে। সবাই আছে। এখানে নেই বলতে কিছু নেই।

এখানে একেক জন একেক কারণে এসেছে। কেউ ভালো কিছু নিতে চায়। কেউ ভালো কিছু দিতে চায়। কেউ  আসে মজার জন্য। কেউ আবার টাইম পাস করার মানসে নিজেদের একাকীত্বের সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছে ফেসবুককে।  একসময় তাদের এই আকর্ষণ আসক্তিতে পরিণত হয়। ফলে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই তারা ডুবে থাকে এই নীল জগতে। এভাবেই তাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত  হয়ে ওঠে ফেসবুক, টুইটার আর ইনস্টাগ্রামময়। তারা আবেগে আপ্লূত হয়, উল্লাসিত হয় বিনোদনে। নিজেকে পারফেক্ট এন্ড আলট্রা মডার্ন হিসাবে প্রমাণ করার ব্যর্থ চেষ্টায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে যায়। এভাবে একসময় তারা জীবনের স্বাভাবিক চক্র থেকে ছিটকে পড়ে। জীবনের গতি হয় ব্যাহত।

এই পারফেক্ট এর হবার নেশায় তারা এতটাই বুদ হয়ে আছে যে, নিজের দৈর্ঘ্য-ইঞ্চি কোনটাই বাদ যায়না অন্যকে জানাতে। আর এতকিছু করেও দিন শেষে তারা হতাশায় ভুগে। তাদের একটা না পাওয়া বা অপূর্ণতা থেকেই যায়। ফলে আবারো ছুটে সেই পরিচিকার পিছনে। এত লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের পরেও তারা হতাশার গভীরে নিমজ্জিত হয়। তাদের অন্তরে অশান্তির দাবানল দাউদাউ করে জলে ওঠে। তারা না শান্তি না সস্তি পায়! আর শান্তি পাবেই বা কীভাবে? ফেসবুকের এই অস্থির জগতে যে শান্তি নেই। কারণ অন্তরে শান্তি যে শুধু আল্লাহ্‌র যিকিরের মধ্যেই নিহিত।

এমন কিছু দীনী বোনকেও দেখি যারা বোরখা, নিকাব পরে ঠিকই কিন্তু ফেসবুক নিজের সাজগোজের  ছবি দিতে  কোনরূপ কার্পণ্য করেনা! করো কারো আইডিতে অনলি গার্লস থাকলেও পাবলিক করা সব পিকচার তো চলে যাচ্ছে সবার কাছে। মেদেহি লাগানো হাতটি তো সবাই দেখছে, অথচ পর্দাহীণ নারীর সামনেও কিন্ত নারীর পর্দা করা উচিৎ।

এই ধরুন একটা নতুন মোবাইল বা ল্যাপটপ বা ঘড়ি কিনলো, তো এখন তার প্রথম কাজ হলো, ফেসবুককে জানানো! অনুরুপ, কেউ গাড়ি কিনেছে,শুকরিয়া আল্লাহকে না দিয়ে আগে পোস্ট করে! আর এই সবকিছুর সাথে একটি selfie. তারপর কমেন্ট আর অভিনন্দে সে পুলকিত!

কোথাও রেস্টুরেন্ট গেলো বা করো বাসায় তার দাওয়াত। পারিবারিকভাবে সবাই মিলে উৎসব। একটি selfie না কেমন হয়!  ফেসবুক, টুইটার,  Instagram যে তারই অপেক্ষায়! । কিন্তু শান্তি! না এখানেও নেই।

স্টুডেন্ট লাইফ শেষ, তাই একটা পিক। রেজাল্ট বেরিয়েছে, একটা পিক। নতুন job হয়েছে, একটা পিক! এরপর শুভাকাঙ্ক্ষীর তো আর অভাব নেই। এখন সে আকাশে ভাসবে।

সন্তান হয়েছে, হসপিটাল থেকে আদুরে ছেলে-মেয়ে বা ভাই-বোনদের নিয়ে একটি selfie না তোললে কি হয়! তুলল। এরপর!? নজর লেগে সন্তান অসুস্থ। এরপর দোয়া চেয়ে আবারো পোষ্ট।

কেউ নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছে, অমনিই একটি পিক প্রসব!  আহ্! কি শান্তি এই পোস্ট করে!

এভাবে সবাই এই রোগে আক্রান্ত। আপনি সুযোগ পেয়েছেন পবিত্র হজ্জ বা বা উমরাহ করার। পাথর নিক্ষেপ করছেন, ছবি তুললেন। এহরাম বাঁধলেন সেলফি তুললেন। তারপর দিবেন সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করে। বুঝাতে চাচ্ছেন আপনি অনেক ধর্মভীরু। আর আপনি একাই রবের অনুগ্রহে ব্যাকুল। এখন ভেবে দেখুন বাকি কী রইলো আপনার!

আবার অনেক মুসলিম যারা অনেকের কাছে আইডল। যাদের নসীহা থেকে বড়ো ছোটও কেউ রক্ষা পায়না। অল্পতে কাউকে কাফের জাহেল বানিয়ে ফেলে, তাদের ঘরের মধ্যে স্টার জলস্‌ জি বাংলা দেখছে তাদেরই মা, ভাই বোন। তাহলে সে ফেসবুক কি নসীহা করছে?!

আপনি কি একবার ভেবে দেখেছেন এসব নিয়ে? নিজের ব্যক্তিগত সবকিছু জানিয়ে দিচ্ছেন একটু ফেমাস হবার আশায়। মনে রাখবেন, ব্যক্তিগত জীবন আপনার ততক্ষন নিরাপদ যতক্ষন তা নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবেন। নিজের রিয়া/অহংকার ছুড়ে ফেলে দিন। বন্ধ করুন নিজের ব্যক্তিগত জীবন সবার কাছে দেখানো। দিন শেষে এই সো অফ এর দুনিয়া আঙ্গুল তুলে আপনাকে টিটকারী করবে আর তাচ্ছিল্যের হাসি হাসবে। জীবন একটি মরীচিকা। এবাদতের পাশাপাশি বিনোদন করুন, তবে হালালভাবে করুন।

বর্তমান পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর দৃষ্টি দিলে দেখা যায় যে, মানুষ বিভিন্নভাবে, নানান পদ্ধতিতে প্রবৃত্তির অনুসরণ করছে ও শয়তানের দাসত্বে লিপ্ত হচ্ছে। কারো আছে নারীর প্রতি অবৈধ আসক্তি, কারো আছে সম্পদের মোহ, কারো আছে অভিজাত পোশাক-আশাকের লোভ, কারও আছে বাড়ি-গাড়ি ও ঐশ্বর্যের সীমাহীন আকাঙ্খা। কারও আছে ক্ষমতার লোভ। কারো আছে খেল-তামাশা ও গান-বাজনার অধীর আগ্রহ, ইত্যাদি। আর এসব কিছুর অনৈতিক প্রকাশের মুলে আমাদের সামাজিক মাধ্যম।

আসুন নিজের ও সবার জন্য দুআ করি, আল্লাহ সুবহানাতা’আলা আমাদেরকে রিয়া থেকে, ব্নদ জর থেকে এবং লোক দেখানো পর্দা ও আমল থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দিন। আমিন।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   ধর্মান্তর নিষিদ্ধ হচ্ছে ভারতে! নিষিদ্ধ ‘লাভ জেহাদ’   ❖   পানিবাহিত রোগ ও তার প্রতিরোধ   ❖   কুরবানি তাকওয়ার শিক্ষা   ❖   সামাজিক যোগাযোগ কি আমাদের অসামজিক ও অবাধ্য করে তুলছে!   ❖   কোরবানী: তাকওয়া অর্জনের অন্নতম একটি মাধ্যম   ❖   জীবনের কোনো গ্যারান্টি নেই   ❖   র‍্যাগ ডে: বিজাতীয় সংস্কৃতির নতুন উম্মাদনা   ❖   বাংলাদেশ ইসলাম ও আলেম-ওলামার দেশ   ❖   সেইজ দ্যা ডে সংস্কৃতি ও আমরা…   ❖   দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য, দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য