All for Joomla The Word of Web Design
অর্থনীতি

দারিদ্র্য কমলেও বেড়েছে বৈষম্য

দেশে গত ছয় বছরে দারিদ্র্যের হার সাত দশমিক দুই শতাংশ কমেছে। তবে দারিদ্র্য কমলেও বেড়েছে আয় বৈষম্য। দারিদ্র্য হার বর্তমানে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। একইভাবে অতি দরিদ্র্যের হারও কমে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে। অন্যদিকে বৈষম্যের হার বেড়েছে। এর মানে ধনী ব্যক্তির আয়ের হার যেভাবে বেড়েছে, গরিব মানুষের আয়ের হার সে তুলনায় বাড়েনি বলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয় ও ব্যয় জরিপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজধানীর আগারগাওয়ে পরিসংখ্যান ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে হাউজহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভে-২০১৬ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বক্তব্য দেন এসআইডি সচিব কেএম মোজাম্মেল হক, বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর রাজশ্রী পারালকার, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের মূখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন, মহাপরিচালক মো. আমীর হোসেন প্রমুখ। ৬২টি প্রশ্নের উত্তরে মানুষের আয়, ব্যয়, ভোগ, স্বাস্থ্য, প্রবাস আয়সহ অন্যান্য তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক দীপঙ্কর রায়।

প্রদত্ত তথ্য অনুসারে, ২০১০ সালের জরিপে দারিদ্র্যের হার ছিল ৩১.৫ শতাংশ। ২০১৬ সালে সালের হিসাবে ৬ বছরে দারিদ্র্যের হার কমে দাড়িয়েছে ২৪.৩ শতাংশে। ছয় বছরের ব্যবধানে দারিদ্র্যের হার কমেছে ৭.২ শতাংশ। তবে দারিদ্র্য কমার এই হার আগের ছয় বছরের চেয়ে কম। অন্যদিকে দারিদ্রের হার কমলেও বেড়েছে আয় বৈষম্য। বৈষম্য নিরূপনে সমাদৃত মানদণ্ড গিনি সূচক নামে পরিচিত। নিয়মানুসারে গিনি সূচক শুন্য হলে কোনো বৈষম্য নেই বলে ধরা হয়। ১ কে বলা হয় সবোচ্চ বৈষম্য। তার মানে শুন্য থেকে এর হার যত বাড়বে বৈষম্যও তত বাড়বে।

অনুষ্ঠানে জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে দারিদ্র কমেছে এটা একটা ভাল সংবাদ। এই দারিদ্র্য কমার সূচকে হতদরিদ্রও রয়েছে। কিন্তু এই জরিপে কিছু মন্দ দিক উঠে এসেছে। যার একটি হলো আয় বৈষম্য বেড়েছে। অর্থ হলো দারিদ্র কমলেও বৈষম্য বাড়ছে। তিনি বলেন, ২০১০ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপে ১২ হাজার খানার তথ্য নেয়া হয়েছিল। এবার নমুনা দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৪৬ হাজার খানার ওপর জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে।

বিবিএসের খানা আয়-ব্যয় জরিপের তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০০৫ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ। ২০১০ সালে সেটি কমে আসে ৩১.৫ শতাংশে। সে হিসাবে ছয় বছরে দারিদ্র্যের হার কমেছে ৮.৫ শতাংশ। প্রতিবছর দারিদ্র্যের হার কমেছে ১.৭ শতাংশ হারে। আর ২০১১ থেকে ২০১৬ এই সময়ে দারিদ্র্যের হার কমেছে ৭.২ শতাংশ। প্রতিবছর কমেছে ১.২ শতাংশ হারে। খানা আয়-ব্যয় জরিপের তথ্য বলছে, দেশে এখন অতি দরিদ্র্যের হার ১২.৯ শতাংশ। সংখ্যার হিসাবে দুই কোটি। ২০১০ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপে এই হার ছিল ১৭.৬ শতাংশ।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দেশের মানুষের আয় বেড়েছে। দরিদ্র ও হত দরিদ্রের সংখ্যাও কমেছে। এটি আমাদের জন্য ভালো সংবাদ। যেভাবে দরিদদ্রের হার কমছে এ হিসাবে আমরা বলতে পারি ২০৩০ সাল নাগাদ দেশে কোন দারিদ্র্য থাকবে না।

বৈষম্য বিষয়ে তিনি বলেন, বৈষম্য বেড়েছে ঠিক আছে, কিন্তু আমরা অন্য পদ্ধতিতে এই বৈষম্য কমিয়ে আনব। সম্পদ কর (ওয়েলথ টেক্স) বাড়নো হবে। যারা আয় বেশি করবে, তারা করও বেশি দিবেন।

সুত্রঃ নয়া দিগন্ত

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   লেবানন মানবিক সঙ্কটের মুখে: জাতিসংঘ   ❖   পারমাণবিক বোমা বানাচ্ছে সৌদি আরব   ❖   ওসি প্রদীপের ভয়ঙ্কর স্টাইল   ❖   প্রিয় হাফেয মাহফুজ   ❖   মেজর সিনহা হত্যা : ওসি প্রদীপ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীসহ ৭ পুলিশ বরখাস্ত   ❖   বৈরুত বিস্ফোরণে প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর শোক   ❖   লেবাননে খাদ্য ও মেডিকেল টিম পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ   ❖   পাকিস্তানে জামাত-ই-ইসলামীর সমাবেশে গ্রেনেড হামলা, জখম ৩৯   ❖   লেবাননে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় আমিরাত   ❖   ৮ আগস্ট মাদরাসা খোলার সিদ্ধান্ত স্থগিত করলো হাইআতুল উলয়া