All for Joomla The Word of Web Design
অন্যান্য

বিস্ময়কর মেধাবী যুবক ওয়ালী মুহাম্মদ!!

গাজী ইয়াকুব : মিরপুর-১২ তে অবস্থিত মাদরাসায়ে দারুর রাশাদে ভর্তি হওয়ার পর সকল ওস্তাদছাত্রের মুখে মুখে একটি নাম ওয়ালী মুহাম্মদ আনসারী, যেমন মেধাবী তেমনি দূরদর্শী।এককালে লন্ডনের শিল্পপতিদের অন্যতম এ আর আনসারী সাহেবের ছোট ছেলে ওয়ালী ভাই তখন মিশকাত জামাতে পড়তেন, আসরের পরে দেখতাম, ছোট-বড় অনেকেই কিতাব বুজতে এবং হাতের লেখা ঠিক করতে তাঁর রুমে ভিড় জমাতেন।

একদিন মাদরাসার বাৎসরীক পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সেরাছাত্র হিসাবে ওয়ালী ভাই প্রথম পুরষ্কার হিসাবে যে হাদিয়া পান, অন্য বিষয়ে আমিও একই হাদিয়া পাই।পুরষ্কার বিতরণের পর থেকে ভাইজানের সাথে কিছুটা সখ্যতা তৈরী হওয়ায় বুজতে পারলাম এতো আমার দেশের একবিশাল সম্পদ, এমন এমন কথা বলতেন যা শুধু বড় বড় মনিষীদের বইতেই পেতাম, ধনাঢ্য পরিবারে জন্ম নেওয়ায় পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে নানান ইলমী বই সংগ্রহ করে পড়াশুনা করতেন, মাঝেমাঝে তাঁর ইলমী গভীরতার কাছে ওস্তাদরাও কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে বলতেন এই ছেলে এমনসব তথ্যাদি কোথা থেকে জমা করে! মাত্র ছয় মাসে হাফেজ হওয়া ছেলেটি জামাত বিভাগে এসে একবছরের মাথাতে নাহুর (আরবী ব্যাকরণ) উপরে কিতাবও লিখে ফেলেন!

অবশেষে দশবছরের স্থলে মাত্র সাড়ে তিনবছর পড়াশুনা করে কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাক থেকে দাওরায়ে হাদীসে পরিক্ষা দিয়ে সারা বাংলাদেশে প্রথম স্থান অধীকার করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন, বিদায় বেলা মাদরাসার গেইট দিয়ে আসার পথে মাদরাসার প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা সালমান সাহেব মন্তব্য করেন, আমাদের বাংলাদেশের আবুল হাসান আলী নদভী ও বাংলার তাকী ওসমানী আজ আমাদের মাদরাসা থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছেন!

ভাগ্যচক্সে এই মানুষটিকে নিয়ে ২০০০ সালের কোরবানির পরে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তির জন্য নিয়ে গেলে তৎকালীন “মুরুব্বী” হযরত সাইয়্যেদ আসয়াদ মাদানি (রাহ্) আমাকে তাহাজ্জুদের পরে মোলাকাতের সময় দিলে আমিও সময়মত হযরতের দরবারে ওয়ালী ভাইকে না দেখিয়ে বেফাকের রেজাল্ট শিটটি হাতে করে নিয়ে হযরতকে দেখালে “প্রথম প্রশ্ন” ইয়ে কিতনে সালকে বাচ্চা? বললাম পনদারহ সালকে, আপ কিয়া বলতে, ইয়ে হাফেজ হায়, সাথ সাথ দাওরাহ ভী কর লিয়া, আওর সারে দেশ মে ভী একনাম্বার? ইয়ে কেইসে হু সাকতে! এইসে লাড়কা বাংলাদেশ মে হায়? হযরত খুশি হয়ে বলতে লাগলেন এখন তো আর ভর্তির সময় নেই, তারপরেও আমি তাকে অন্য একটি বিভাগে রেখে তাকে থাকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি, এবং আগামীবছর বিনা পরীক্ষাতে ভর্তি নিয়ে নিবো ইনশা আল্লাহ।

ওয়ালী ভাই সময় নষ্ট হবে এই অযুহাতে হযরতের প্রস্তাবকে মেনে না নিয়ে পাশে একটি ভাড়া রুমে থেকে মাদরাসার ক্লাসে আসাযাওয়া করতেন, একদিন তাঁকে বললাম মাঝেমাঝে দারুলউলুমের সমৃদ্ধ পাঠাগারে গেলে ভাল হয় না! জবাব আসলো “ইয়াকুব” এই পাঠাগারে কি আছে না আছে আমার জানা হয়ে গিয়েছে, ভাবলাম এমন কঠিন কথা ও কি করে বলতে পারলো, আবার ক’দিন পর শুনলাম দেওবন্দের ছেলেরা বলাবলি শুরু করলো, বাংলাদেশ থেকে আসা একটি ছেলে ওয়ালী ভাইয়ের প্রায় সব কিতাবই মুখস্থ!

তাঁর প্রচন্ড অনুরোধে আবারো দেওবন্দে গিয়ে তাকে নিয়ে আসার পর নিজে নিজেই উত্তরার একটি স্কুল থেকে মাত্র ছয়মাসে মেট্রিক দিয়ে ঢাকা বোর্ড সেরা হয়ে আমেরিকার উদ্দেশ্য পাড়ি জমিয়ে সাইন্স নিয়ে একটি ভার্সিটিতে পড়াশুনা করে সেখানেও মেধাতালিকায় প্রথম হয়ে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সংস্থায় চান্স পেয়ে যান, আমার জানামতে বাংলাদেশে একসময়ে কওমি অঙ্গনে পড়ুয়া ছেলেটি প্রথম বিজ্ঞানী হিসাবে যোগদান করেন, সেখানে বেশকিছু দিন থাকার পর একমেয়ে এবং একছেলের জনক ওয়ালী ভাই এখন বিশ্বখ্যাত একটি কোম্পানির ডিরেক্টর,

শাইখুল হাদীস আল্লামা আজীজুল হক (রাহ্) বাংলা সাহিত্যের দিকপাল মাওলানা মুহিউদ্দিন খান (রাহ্) এবং মরহুম খতীব ওবায়দুল হক (রাহ্) সিলেটের শায়খে কৌড়িয়া (রাহ্) বলতেন এমন মেধাবী ছেলে এইদেশে বিরল!

লন্ডনী পাসপোর্টধারী এই মানুষটি সতেরো বছর ধরে আমেরিকায় থাকলেও সুখেদুখে আমার খোঁজখবর নিতে কোনসপ্তাহও মিস করেন না এবং সে প্রায়শই বলেন “ইয়াকুব” আজ এই পর্যন্ত আসার পিছনে যদি কারো কোন অবদান থাকে সেটা হচ্ছিস তুই, তোর চেয়ে আপন আমার কোন বন্ধুও নেই, আমার কঠিন অসুস্থতার সময়ে বারবার ফোন দিয়ে বলতেন যত টাকাই লাগুক আমি পৃথীবির নামকরা হাসপাতালে তোকে চিকিৎসা করাবো, দেখবি অচিরেই আল্লাহ তোকে ভাল করে দিবেন।

আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে মেধাবী মানুষটির কথা মনে পড়লে ভাবি যে, আল্লাহ পাক এমন ইলমী মানুষকে দ্বীনের লাইনে কবুল করলে দেশ এবং স্বজাতির কি পরিমাণ ফায়দা হতো! অর্থে, বিত্তে, চিত্তে কোনদিক দিয়ে আমাদের ওয়ালী ভাইয়ের কমতি ছিল, বাংলাদেশী ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ায় ইংরেজী সাহিত্য ছিল নখদর্পনে, আরবীতেও সেইমকেস, ইচ্ছা করলে এই দুই ভাষায় কিতাব লিখে প্রাচ্যে এবং পাশ্চাত্যে অনেক বড় খিদমত করতে পারতেন, হজ্বের সফর গুলোতে আল্লাহর ঘর ধরে কত দোয়া যে আমি তাঁর জন্য করেছি, আসল কথা কাবেলিয়্যাত নয় কবুলিয়্যাতই আসল, আল্লাহ কবুল না করলে যা হয়!

তারপরেও আমি আশাবাদী একেবারে প্রচারবৈমুখ্য আমার প্রিয় ওয়ালী মুহাম্মদ আনসারী ভাই একদিন না একদিন আপন নীড়ে ফিরে আসবেন ইনশা আল্লাহ।

সূত্র : রিপোর্ট টোয়েন্টিফোর ডটকম

৯১ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   হেফাজতের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব   ❖   হাটহাজারী মাদরাসার বর্তমান অবস্থা শান্তিপূর্ণ   ❖   ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে আমার রাজনৈতিক পত্র   ❖   ভাসানচর নিয়ে জাতিসঙ্ঘের মূল্যায়ন চায় ইইউ   ❖   এমসি কলেজে ‘ছাত্রলীগের দখলে থাকা’ কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার   ❖   তরুণীকে তুলে নিয়ে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ‘ছাত্রলীগের কক্ষের’ সামনে গণধর্ষণ   ❖   ক্ষমতা দখলের চক্রান্ত ॥ জেদ্দায় বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে গোপন বৈঠক   ❖   সরকার বিএনপির গোপন বৈঠকেরও খবর পায়: কাদের   ❖   উপ-নির্বাচনে সন্ত্রাসী আলামত দেখছেন রিজভী   ❖   বিশ্বের মাফিয়া চক্রের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বিএনপি