All for Joomla The Word of Web Design
খাওয়া-দাওয়া

কলা তো সবাই খান। কিন্তু এর আশ্চর্য সব গুণাগুণের কথা জানেন কি?

মাহদী হাসানাত খান

ফিচার লেখক

‘কলা’ এক প্রকারের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ফল যার ইংরেজি নাম ‘Banana’। সাধারণত উষ্ণ জলবায়ু সম্পন্ন দেশগুলোতে কলা ভালো জন্মায়। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কলার উৎপত্তিস্থল হিসেবে পরিগণিত। বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বহু দেশে কলা অন্যতম প্রধান ফল। বাংলাদেশের নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, যশোর, বরিশাল, বগুড়া, রংপুর, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর প্রভৃতি এলাকায় শত শত বছর যাবৎ ব্যাপকভাবে কলার চাষ হয়ে আসছে। বাংলাদেশে প্রায় ‘১৯টি’ জাতের কলা রয়েছে ।

 কলার খাদ্যগুণ

কলা বিভিন্ন গুণাগুণে সমৃদ্ধ একটি ফল। এর পুষ্টিগুণ অধিক। এতে রয়েছে দৃঢ় টিস্যু গঠনকারী উপাদান। যথা:- আমিষ, ভিটামিন এবং খনিজ। কলা ক্যালরির একটি ভালো উৎস। এতে কঠিন খাদ্য উপাদান এবং সেই সাথে পানি জাতীয় উপাদান সমন্বয়ে যে কোনো তাজা ফলের তুলনায় বেশি। একটি বড় মাপের কলা খেলে ১০০ ক্যালরির বেশি শক্তি পাওয়া যায়। কলাতে রয়েছে সহজে হজমযোগ্য শর্করা। এই শর্করা পরিপাকতন্ত্রকে সহজে হজম করতে সাহায্য করে। গবেষকরা জানান, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ নিশ্চিত করতে দেহে পটাশিয়ামের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও দেহে পটাসিয়ামের আদর্শ উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে কমে যায় স্ট্রোকের ঝুঁকিও। আর এই উপকারী পটাশিয়াম কলায় আছে প্রচুর পরিমাণে।গবেষকরা দেখেছেন, একটি কলায় প্রায় ৫০০ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম থাকে। আর মানবদেহে প্রতিদিন ১৬০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়ামের যোগান দেয়া গেলেই, স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে বছরে রেহাই পেতে পারে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ!

প্রতি ১০০ গ্রাম পরিমাণ কলায় যে খাদ্যগুণ আছে তার বিশ্লেষণ নিম্নরূপ:

পানি (জল) —————— ৭০.১%
আমিষ ————————-  ১.২%
ফ্যাট (চর্বি) ——————-  ০.৩%
খনিজ লবণ ——————- ০.৮%
আঁশ —————————— ০.৪%
শর্করা —————————- ৭.২%
মোট ————————– ১০০.০%।

খনিজ লবণ এবং ভিটামিন:

ক্যালসিয়াম—————— ৮৫ মি. গ্রা.
ফসফরাস——————– ৫০ মি. গ্রা.
আয়রন———————- ০.৬ মি. গ্রা. ভিটামিন-সি, অল্প ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স———————–  ৮ মি. গ্রা.
মোট ক্যালরি—————— ১১৬।

কলার কিছু উপকারিতা

অতিপরিচিত এক দারুণ সুস্বাদু ফল কলা আমাদের অনেকেরই প্রিয়। আবার সস্তা ও সহজলভ্য বলে অনেকে একে তুচ্ছতাচ্ছিল্যও করে থাকেন। কিন্তু আপনি এখন যা জানতে যাচ্ছেন, তা জানার পরে  আর কখনোই কলাকে ছোট-তুচ্ছ ফল হিসেবে দেখবেন না!

কলায় থাকে তিনটি প্রাকৃতিক চিনি– সুক্রোজ, ফ্রুক্টোজ এবং গ্লুকোজ। আরও থাকে প্রচুর ফাইবার যা শরীরকে যোগান দেয় তাৎক্ষণিক শক্তি। ৯০ মিনিটের কষ্টসাধ্য ব্যায়ামের জন্য শক্তি যোগাতে দু’টো কলাই যথেষ্ট! মুহূর্তের মধ্যে এনার্জি পেতে কলার জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু কলা কী শুধু শক্তিই যোগায়? না! কলার আরও গুণ আছে!

অবসাদ: অবসাদে ভোগা কিছু মানুষের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, কলা খেলে ভালো বোধ করেন তারা। কলার মধ্যে থাকা ট্রিপটোফ্যান প্রোটিন মানুষের শরীরে পরিণত করে সিরোটোনিন হরমোন। সিরোটোনিন হরমোন অফ হ্যাপিনেস নামে পরিচিত শরীরে এই হরমোনের মাত্রা বাড়লে মুড ভাল হয়ে প্রশান্তি বোধ করে মানুষ। মুড অফ একটি অতি পরিচিত প্রি-মেন্সট্রয়াল সিনড্রোম। কলার মধ্যে থাকা ভিটামিন বি৬ শরীরে গ্লুকোজের সামঞ্জস্য বজায় রেখে মুড ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

রক্তশূন্যতা: কলার মধ্যে থাকা প্রচুর পরিমান আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন উত্‍পাদনে সাহায্য করে। ফলে রক্তশূন্যতার সম্ভাবনা কমে। এমনকি রক্তশূন্যতা সমস্যা সারাতেও সাহায্য করে কলা।

রক্তচাপ: কলার মধ্যে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি অথচ লবণের মাত্রা কম থাকায় উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যা রুখতে পারে কলা। ইউ ফুড ও ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কলার এই গুণের কথা মাথায় রেখে স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধে কলার ব্যবহার সুপারিশ করেছে।

মস্তিষ্ক: টানা ১ বছর ধরে পরীক্ষা চালানো হয়েছিল ইংল্যান্ডের টুইকেনহ্যাম স্কুলের ২০০ জন পড়ুয়াদের ওপর। পরীক্ষার আগে সকালের নাস্তায় ও দুপুরের খাবারে টানা কলা খাওয়ানো হয় তাদেরকে। দেখা গিয়েছিল, কলার মধ্যে থাকা পটাশিয়াম তাদের মনোসংযোগ বাড়ানোর ফলে, অন্যদের থেকে পরীক্ষায় ভাল করেছিলো ঐ ২০০ জন শিক্ষার্থী!

কোষ্ঠকাঠিন্য: কলার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় পেট পরিষ্কার রাখতে কলা অপরিহার্য।

সকালে অসুস্থ বোধ: কাজের চাপ, মানসিক চাপে অনেক সময়ই সকালে ঘুম থেকে উঠে অসুস্থ বোধ করি আমরা। রক্তে শর্করার মাত্রা কম থাকায়, কম থাকে এনার্জির মাত্রাও। এই সময় কলা বজায় রাখতে পারে রক্তে শর্করার সঠিক মাত্রা।

মশার কামড়: মশার কামড়ে ফুলে, লাল হয়ে ওঠা ত্বকের যত্ন নিতে ক্রিম বা অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করার আগে কলার খোসা ঘষে দেখুন, ত্বকের ফুলে ওঠা অংশে!

স্নায়ু: কলায় থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি, যা স্নায়ুকে শান্ত করে। মানসিক চাপ কাটাতে ফ্যাটি ফুডের থেকে বেশি প্রয়োজনীয় কলা। কার্বোহাইড্রেটে পরিপূর্ণ হওয়ায়, কলা রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রেখে, স্নায়বিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

আলসার: নরম ও মিহি হওয়ার জন্য পেটের সমস্যায় খুবই উপকারী খাবার কলা। অত্যন্ত খারাপ পেটের রোগেও কলাই একমাত্র ফল, যা নির্বিঘ্নে খাওয়া যেতে পারে। কলা অস্বস্তি কমিয়ে, আরামদায়ক অনুভূতি দেয়।

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: অনেক দেশে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে কলা খাওয়া হয়।

আপেলের সাথে কলার তুলনা করলে বলতে হয়, এতে আপেলের চাইতে দ্বিগুণ কার্বোহাইড্রেট আছে। তিনগুন ফসফরাস আছে। পাঁচগুণ ভিটামিন এ ও আয়রন আছে। দ্বিগুণ পরিমাণে অন্যান্য ভিটামিন ও খনিজ আছে। আর আছে পটাশিয়াম, যা একটি অত্যন্ত কার্যকরী উপাদান।

প্রতিদিন খাদ্যাভাসে কলা রাখা আবশ্যক।

তথ্যসূত্র : অনলাইন, অফলাইন হেলথ্ নিউজস

ই-মেইল : mahdikhanayon@gmail.com

১৭৯ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   রাস্তার ছেলে   ❖   সাধারণ রোগীরা কি চিকিৎসা পাচ্ছে?   ❖   বাজেট দিয়ে কী হবে?   ❖   তুরষ্ক পাঠ্যবইয়ে জিহাদ ঢুকিয়েছে, বের করেছে বিবর্তনবাদ   ❖   আরব আমিরাতের করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় ভাইস প্রেসিডেন্টের অনলাইন বৈঠক !   ❖   চার্জ ফ্রি রেমিট্যান্স প্রেরণ সুবিধা চালু করল ব্যাংক এশিয়া   ❖   তিনি কত দয়ালু এবং ক্ষমাশীল   ❖   খিদমাহ ফাউন্ডেশনের চান্দিনায় ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ   ❖   সম্পত্তির লোভে বাবাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত   ❖   করোনা মৃত্যুতে ইউরোপে শীর্ষে ব্রিটেন