All for Joomla The Word of Web Design
ধর্ম-দর্শন

ঈদে মিলাদুন্নবী ৬০০ হিজরীর পরে আবিষ্কৃত বেদয়াত!

মুফতি রেজাউল কারীম আবরার
মুহাদ্দিস, জামিয়া আবু বকর সিদ্দীক রা., যাত্রাবাড়ী, ঢাকা

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম উপলক্ষে বিশেষ পদ্ধতিতে জন্মবার্ষিকী পালন শুরু হয়েছে কবে? ‘তারিখে ইবনে খাল্লিকান’-এ বর্ণিত হয়েছে, প্রথমত ৬০৪ চার হিজরীতে মাওসিল শহরের বাদশাহ মুযাফফার উদ্দীন (মৃত্যু ৬৩০ হি.) এর হুকুম এ বেদয়াত সৃষ্টি হয়েছিল। যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম উপলক্ষে মিলাদ করেন, তারাও একথা মানেন যে, বাদশাহ মুযাফফার উদ্দীনের আগে কেউ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম উপলক্ষে মিলাদের আয়োজন করেনি। মুযাফফার উদ্দীন যে মিলাদের আবিষ্কারক, এ বিষয়ে কয়েকজন আলেমের বক্তব্য তুলে ধরছি।

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ হাফেজ ইমাদুদ্দীন ইবনে কাছির রহ. বলেন—
وكان يعمل المولد الشريف في ربيع الاول ويحتفل به احتفالا هائلا
অর্থাৎ, বাদশাহ মুযাফফার রবিউল আউয়ালে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মিলাদ পালন করতেন এবং এ উপলক্ষে মাহফিলের ব্যবস্থা করতেন। (আল বেদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৩/১২৭, মাকতাবাতুল মায়ারিফ, বায়রুত। ২য় সংস্করণ।)
হাফেজ জালালুদ্দিন সুয়ুতি রহ. বলেন—
أول من أحدث فعل ذلك – أي فعل المولد- صاحب إربل الملك المظفر
অর্থাৎ, মিলাদ সর্বপ্রথম শুরু করেছেন ইরবিল-এর বাদশাহ মুযাফফার। (আল হাওয়ী লিল ফাতাওয়া ১/১৮৯)
সালেহ আশ শামী রহ. বলেন—
وأول من أحدث ذلك من الملوك صاحب إربل الملك المظفر أبو سعيد كو كوبري
অর্থাৎ, মিলাদ সর্বপ্রথম শুরু করেছেন ইরবিলের বাদশাহ মুযাফফার আবু সাইদ কুকবারী। (সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ১/৩৬২)

এবার দেখা দরকার যে, বাদশাহ প্রথম এ কাজ শুরু করেছেন তার ব্যাপারে ঐতিহাসিকগণ কী বলেন?
বাদশাহ মুযাফফার সম্পর্কে ঐতিহাসিকগণ অনেকেই নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন।
মুহাম্মাদ বিন নুসাইর তাঁর সম্পর্কে লিখেন:
“كان ملكا مسرفا يأمر علماء زمانه أن يعلموا بإستنباطهم واجتهادهم وأن لا يتبعوا مذهب غيرهم حتى مالت إليه جماعة من العلماء وطائفة من الفضلاء ويحتفل لمولد النبي صلى الله عليه وسلم في ربيع الأول وهو أول من أحدث  من الملوك هذا العمل.
অর্থাৎ, সে ছিল অপচয়কারী বাদশাহ। সে যুগের কিছু উলামায়ে কেরামকে নির্দেশ দিয়েছিল, তারা যেন তাদের ইজতেহাদের উপর আমল করেন। অন্য কারো মাযহাবের দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে। তার প্রতি কিছু উলামায়ে কেরাম ধাবিত হলেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম উপলক্ষে রবিউল আউয়ালে মিলাদের ব্যবস্থা করলেন। সেই প্রথম এই আমলের আবিষ্কারক। (রাহে সুন্নাত, আল্লামা সরফরায খান সফদার, পৃষ্ঠা নং ১৬২, মাকতাবা দানিশ, দেওবন্দ)
দেখা গেলো যে, বারো রবিউল আউয়ালে সর্বপ্রথম যার নির্দেশে ঈদে মিলাদুন্নবী শুরু হয়েছিল, সে বাদশাহর অবস্থা সুবিধাজনক না। তিনি ছিলেন অপচয়কারী। যদিও ইতিহাসে তার কিছু ভালো গুণের কথাও উল্লেখ রয়েছে। বাদশাহ মুযাফফার উদ্দীনের নির্দেশকে যে আলেম সমর্থন করেছিলেন, এবার তার অবস্থা নিয়ে আলোচনা করব।
‘মাওলানা আবদুস সামী’ সাহেব ‘আনওয়ারে সাতিআ’ নামক কিতাবে লিখেন, “রবিউল আউয়াল মাসে এ আমল নির্ধারিত হয়েছিল ‘মাওসিল’ শহরে। সেখানে উমর নামে একজন আল্লাহভীরু ব্যক্তি ছিলেন। তিনি এ আমল আবিষ্কার করেছিলেন। সে যুগের বাদশাহ ঐ ব্যক্তির অনুসরণ করেছিলেন। প্রত্যেক বছর রবিউল আউয়ালে লক্ষ রুপি খরচ করে মিলাদ মাহফিলের ব্যবস্থা করতেন।
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রহ. উমর বিন হাসান সম্পর্কে বলেন—
كثير الوقيعة في الأئمة وفي السلف من العلماء خبيث اللسان أحمق شديد الكبر قليل النظر في أمور الدين متهاونا
অর্থাৎ, সে ইমামগণ এবং পূর্ববর্তী মনীষীদের ব্যাপারে আপত্তিকর বক্তব্য প্রদানকারী। খারাপ ভাষার অধিকারী। বোকা এবং অধিক অহংকারী। দ্বীনের আহকামাদির ব্যাপারে উদাসীন। (লিসানুল মিজান  ৪/২৯৬, মুআসসিসাতুল  আলামী, বায়রুত, তৃতীয় সংস্করণ।)

ইবনুন নাজ্জার রহ. উমর বিন হাসান সম্পর্কে বলেন—
رأيت الناس مجتمعين على كذبه وضعفه
অর্থাৎ সে যে একজন মিথ্যুক এবং দুর্বল এ বিষয়ে আমি সকলকে একমত দেখেছি। (লিসানুল মিজান ৪/২৯৭)

লক্ষণীয় বিষয় হলো, ঈদে মিলাদুন্নাবী ষষ্ঠ শতক পরে আবিষ্কার হয়েছে। শুরুতে যে দুইজন লোক রয়েছেন, তাদের একজন হলেন সে যুগের বাদশাহ। ইতিহাস বলে তিনি সুবিধাজনক ছিলেন না। রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় করতেন। আর তার নির্দেশ অনুযায়ী যে আলেম ঈদে মিলাদুন্নবী আবিষ্কার করেছিলেন, সে আলেম হলো মিথ্যুক! বোকা। খারাপ ভাষার অধিকারী। এমন লোকের আবিষ্কৃত কাজ কীভাবে অনুসৃত হতে পারে?

এছাড়া তারা যখন প্রথম শুরু করেছিলেন, তারপর ঈদে মিলাদুন্নাবী এক অবস্থায় থাকেনি। সময়ের আবর্তে তার সাথে এমন বহু কাজ যুক্ত হয়েছে, শরীয়ত যেগুলো সমর্থন করা দূরের কথা, সুস্থ বিবেকও সেগুলো সমর্থন করে না। বর্তমানে ঈদে মিলাদুন্নাবী উপলক্ষে কেক কাটা হয়। ‘মারহাবা ইয়া মুসতাফা’ এর শ্লোগান দিয়ে জশনে জুলুস মিছিল বের করা হয়। অথচ মিছিলের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের কোনো সম্পর্ক নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন সাহাবারা। কিন্তু তারা কখনো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম উপলক্ষে কখনো মিছিল বের করা তো দূরের কথা, এ উপলক্ষে কোনো কিছু করা তাঁদের থেকে প্রমাণিত নয়।

মহান আল্লাহ আমাদের দীনের সহীহ সমঝ-বুঝ দান করুন। আমীন।

☞ লেখকের ই-মেইল:
[email protected]

মাই নিউজ/মাহদী

৫৬৮ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   নবজাতক জন্ম—পরবর্তী করণীয় সম্পর্কিত ইসলামি নির্দেশনা   ❖   বাংলাদেশি বশির মালয়েশিয়ার মাহসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি   ❖   ৫০ হাজার ধার দিয়ে লিখে নেন আড়াই কোটি টাকার চেক   ❖   একই পরিবারের ৩ জনের লাশ উদ্ধার বরিশালে   ❖   রুম্পার সারা শরীরের হাড় ভাঙ্গা   ❖   দেশের সব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেবে সরকার   ❖   মানুষের মতো বাচ্চা জন্ম দিল ছাগল!   ❖   নারীদের গণপরিবহনে চলাচল: পুলিশের ৯ পরামর্শ   ❖   “কুরআন-সুন্নাহর আলোকে মাযহাব” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন   ❖   বিএনপি যে ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে, তা ক্ষমার অযোগ্য