All for Joomla The Word of Web Design
খাওয়া-দাওয়া

“আমলকী” সস্তা এ ফলটির আশ্চর্য সব গুণাবলী জানেন কি?

 মাহদী হাসানাত খান
বিভাগীয় সম্পাদক

‘আমলকী’ একপ্রকার ভেষজ ফল। সংস্কৃত ভাষায় এর নাম ‘আমালিকা’। ইংরেজি নাম ‘aamla’ বা ‘Indian gooseberry’। আমলকী হলো আমাদের দেহের জন্যে সবচাইতে উপকারি ভেষজের মাঝে একটি। এটি আপনি প্রতিদিনই খেতে পারেন এবং এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। বরং আছে দারুণ সব উপকার। আমলকী ‘ভিটামিন সি’ সমৃদ্ধ রসালো ফল। এ ফলের প্রধান অংশ পানি। এতে প্রায় ৮০ থেকে ৯৫ ভাগ পানি থাকে। শর্করা ও পেকটিন বাদে পাওয়া যায় নানা রকমের খনিজ ও ভিটামিন।

☞ আমলকীর আশ্চর্য কিছু গুণাগুণ ও তার ব্যবহার:

আমলকী নিয়ে প্রাথমিক গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। এতে দেখা গেছে যে, এটি ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে। প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, রিউমেটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং অস্টিওপোরোসিস রোগে আমলকির রস কিছু কাজ করে। কয়েক ধরনের ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও এর কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্যানক্রিয়াটাইটিস রোগেও আমলকি কার্যকর বলে ইঁদুরের উপর চালিত গবেষণায় প্রমান মিলেছে। প্যানক্রিয়াটাইটিস রোগের পরে ক্ষতিগ্রস্ত প্যানক্রিয়াস (অগ্ন্যাশয়)-এর ক্ষত সারাতে আমলকি কার্যকর। আমলকির ফল, পাতা ও ছাল থেকে তৈরি পরীক্ষামূলক ওষুধে কিছু রোগ নিরাময়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। যেমন— ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, প্রদাহ এবং কিডনি-রোগ।

আমলকি মানুষের রক্তের কোলেস্টেরল-মাত্রা হ্রাস করতে পারে বলে প্রমাণ রয়েছে। ডায়াবেটিক ইঁদুরের উপর চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমলকির রস রক্তের চিনির মাত্রা কমাতে পারে এবং লিভারের কর্মক্ষমতা পুনরোদ্ধারে সাহায্য করতে পারে।

আমলকিতে প্রচুর ভিটামিন-সি বা এস্করবিক এসিড থাকে (৪৪৫ মিগ্রা/১০০ গ্রাম)।

আমলকির ভেষজ গুণ রয়েছে অনেক। ফল ও পাতা দুটিই ওষুধরূপে ব্যবহার করা হয়। ছোট-বড় দুই ধরনের আমলকী পাওয়া যায়। তবে ছোট আমলকীতে পুষ্টিগুণ বেশি বিদ্যমান।

আমলকিতে প্রচুর ‘ভিটামিন সি’ থাকে। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, আমলকীতে পেয়ারা ও কাগজি লেবুর চেয়ে ৩ গুণ ও ১০ গুণ বেশি ‘ভিটামিন সি’ রয়েছে। আমলকিতে কমলার চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ‘ভিটামিন সি’ রয়েছে।

একজন বয়স্ক লোকের প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ‘ভিটামিন সি’ দরকার। দিনে দু’টো আমলকি খেলে এ পরিমাণ ‘ভিটামিন সি’ পাওয়া যায়।

আমলকি খেলে মুখে রুচি বাড়ে। স্কার্ভি বা দন্তরোগ সারাতে টাটকা আমলকী ফলের জুড়ি নেই। এছাড়া পেটের ব্যথা, সর্দি, কাশি ও রক্তহীনতার জন্যও খুবই উপকারী। লিভার ও জন্ডিস রোগে উপকারী বলে আমলকী ফলটি বিবেচিত।

আমলকী, হরিতকী ও বহেড়া-কে একত্রে ‘ত্রিফলা’ বলা হয়। এ তিনটি শুকনো ফল একসাথে রাতে ভিজিয়ে রেখে, সকালবেলা ছেঁকে, খালি পেটে শরবত হিসেবে খেলে, পেটের অসুখ ভালো হয়।

বিভিন্ন ধরনের তেল তৈরিতে আমলকি ব্যবহার হয়।

কাঁচা বা শুকনো আমলকি বেটে একটু মাখন মিশিয়ে মাথায় লাগালে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম আসে।

কাঁচা আমলকি বেটে রস প্রতিদিন চুলে লাগিয়ে দুই-তিন ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এভাবে একমাস মাখলে চুলের গোড়া শক্ত, চুল উঠা এবং তাড়াতড়ি চুল পাকা বন্ধ হবে।

☞ আমলকীর কিছু ঔষধি গুণাগুণ:

আমলকী কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের উপর কাজ করে।

বমি বন্ধে কাজ করে।

দীর্ঘমেয়াদি কাশি-সর্দি থেকে উপকার পাওয়ার জন্য আমলকীর নির্যাস উপকারী।

এটি হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধক।

‘ভিটামিন সি’ সমৃদ্ধ আমলকীতে প্রচুর পরিমাণে এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। বিভিন্ন অসুখ সারানো ছাড়াও রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তুলতেও আমলকী দারুণ সাহায্য করে।

আমলকীর গুণাগুণের জন্য আয়ুর্বেদিক ওষুধেও এখন আমলকীর নির্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে।

☞ আমলকী খাওয়ার উপকারিতা:

আমলকী ত্বক, চুল ও চোখ ভাল রাখার জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িও ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

আমলকী হজমে সাহায্য করে ও পাকস্থলী এ্যাসিডে ব্যালেন্স বজায় রাখে।

আমলকী লিভার ভাল রাখে।

ব্রেনের সুষ্ঠু কার্যকলাপে সাহায্য করে।

আমলকী ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।

হার্ট সুস্থ রাখে। ফুসফুসকে শক্তিশালী করে তোলে।

শরীর ঠাণ্ডা রাখে।

শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে তুলে। দাঁত ও নখ ভালো রাখে।

জ্বর, বদহজম, সানবার্ন (রোদেপোড়া), সানস্ট্রোক থেকে রক্ষা করে।

আমলকীর জুস দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখার জন্য উপকারী। ছানি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ব্রণ ও ত্বকের অন্যান্য সমস্যায় উপকারী।

পেটের জ্বালাভাব কম রাখে। লিভারের কার্যকলাপে সাহায্য করে। পাইলস সমস্যা কমায়।

শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে।

ব্রঙ্কাইটেসও এ্যাজমার জন্য আমলকীর জুস উপকারী।

আমলকী গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেতে পারেন। এটা ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করে।

এক গ্লাস দুধ বা পানির মধ্যে আমলকী গুঁড়ো ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দু’বার খেতে পারেন। এ্যাসিডেটের/ গ্যাস্ট্রিক সমস্যা কম রাখতে সাহায্য করবে।

আমলকীতে সামান্য লবণ, লেবুর রস মাখিয়ে রোদে রাখুন। শুকিয়ে যাওয়ার পর খেতে পারেন।

খাবারের সঙ্গে আমলকীর আচার খেতে পারেন। হজমে সাহায্য করবে।

আমলকী মাঝারি আকারে টুকরো করে নিয়ে ফুটন্ত পানির মধ্যে দিন। আমলকী নরম হয়ে এলে, চুলা থেকে নামান। পানি ঝরিয়ে লবণ, আদা কুঁচি, লেবুর রস মাখিয়ে রোদে রেখে দিতে পারেন। সারা বছরই ভাল থাকবে।

★ প্রতিদিন এক গাদা ভিটামিন ট্যাবলেট না খেয়ে, একটি করে আমলকী কিংবা আমলকীর আচার খেতে পারেন। আমলকীর মোরব্বা কিংবা আমলকীর পাউডার ব্যবহার করতে পারেন রান্নায়। এই সস্তা ‘আমলকী’ আপনার দেহে করবে বিস্ময়কর সব উপকার।

(তথ্যসূত্র: অনলাইন, অফলাইন হেলথ নিউজস)

* লেখকের ই-মেইল:

mahdikhanayon@gmail.com

৩৩৮ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   রাস্তার ছেলে   ❖   সাধারণ রোগীরা কি চিকিৎসা পাচ্ছে?   ❖   বাজেট দিয়ে কী হবে?   ❖   তুরষ্ক পাঠ্যবইয়ে জিহাদ ঢুকিয়েছে, বের করেছে বিবর্তনবাদ   ❖   আরব আমিরাতের করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় ভাইস প্রেসিডেন্টের অনলাইন বৈঠক !   ❖   চার্জ ফ্রি রেমিট্যান্স প্রেরণ সুবিধা চালু করল ব্যাংক এশিয়া   ❖   তিনি কত দয়ালু এবং ক্ষমাশীল   ❖   খিদমাহ ফাউন্ডেশনের চান্দিনায় ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ   ❖   সম্পত্তির লোভে বাবাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত   ❖   করোনা মৃত্যুতে ইউরোপে শীর্ষে ব্রিটেন