All for Joomla The Word of Web Design
অন্যান্য

রোজনামচার পাতা থেকে….

কলেজিং— ১

ইবনে মাসঊদ
তরুণ লেখক

পরীক্ষার ফলাফল শুনে, আমার যা হাসি পেলো না! ওই মুহূর্তে যে কেউ আমাকে দেখতে পেতো, দিব্যি বোকা ঠাওরে নিতো! ফলাফলটা খুব ভালো হয়েছে, ব্যাপারটা যে তা নয়! পাশ করেছি, এই তো ভাগ্যি! পরীক্ষার দিনগুলোতে সময়ের খুবই সদ্ব্যবহার করেছি। পড়েছি আর পড়েছি। কী পড়েছি তা তো বোঝাই যাচ্ছে। পরীক্ষা বলে কথা, তাই না? কিন্তু বলি কী, এই ধারণাটা না, সত্যি না! তাহলে? আসলে পাঠ্যবই তো সে পাঠ্যবই, আমার মনোযোগটা বেশি ছিলো তিন গোয়েন্দা সিরিজের বইগুলোতে। তবে একটা খুব দুঃখজনক খবর হলো, ছেলেদের মধ্যে তিনজন বাদে সবাই… সবাই… মানে, আসলে আমাদের তিনজনের পাশ এসেছে!

এখন একজন ম্যাডামের কথা মনে পড়ছে খুব! তাঁর সাথে যোগাযোগ করতে খুব ইচ্ছে করছে। ম্যাডাম আমার ওপর ‘আন্তরিকভাবে’ অসন্তুষ্ট ছিলেন। তাঁর কথার আমি অবাধ্য হয়েছিলাম। একদিন হল-এ আমার দিকে যেভাবে তাকিয়েছিলেন, মনে পড়লে এখনো অস্বস্তি হয়, দুঃখ হয়। এখনকার সময়ে শুনলে কেউ আশ্চর্য হবে কি না! ম্যাডাম আমাকে বলেছিলেন পরীক্ষার যে প্রশ্ন পারবো না তা ‘নকল’ করে যেন লিখি। কিন্তু যখন পুরো হলজুড়ে সবাই ‘ক সেট’ লিখছিল, আমিই যে কেবল ‘গ সেট’ লিখেছি! একদিন, একজন ‘গার্ড’ যখন ‘ক সেট’ বলে দিলেন, আমি যে তখন কানে হাত চেপে ধরেছিলাম, চেষ্টা করেছিলাম তার বলে দেওয়া উত্তরগুলো আমার কানে যেন ঢুকে না। তবু যা ঢুকে গেলো সেগুলো লিখিনি আর। সত্যি!

একদিন গার্ডে থাকা একজন ম্যাডাম আমার কাছে এসে দাঁড়িয়ে রইলেন। লিখছিলাম আমি। তিনি দেখতে থাকলেন। হঠাৎ জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি নিজের থেকেই উত্তর লিখছো? আমি গর্বের সাথে তখন বলেছিলাম, “জি!” ম্যাডাম দূরে চলে গেলেন। ঘোষণা দিলেন, পরীক্ষার হলরুমে উচ্চ আওয়াজে তিনি বলতে লাগলেন, “মাত্র একজন ছাত্র, একজন পরীক্ষার্থী আমি পেয়েছি এই হল-এ, যে আসলেই পরীক্ষা দিচ্ছে। আর বাকী সবাই, ‘ফাঁও!’ শুধু এই একজন বাদে, তোমরা কেউই পরীক্ষা দিচ্ছো না!”
কেন্দ্রের হেড স্যারের কাছেও আমাকে দেখিয়ে তিনি প্রশংসা করেছিলেন। তবে তারা নাখোশ ছিলেন, যাঁদের কাছে আমার পড়ার ‘সৌভাগ্য’ হয়েছে!

এই সময়টাতে গত বছর মাদরাসায় ছিলাম। যেখানে ছিলাম, মানিকগঞ্জী হুযূরের কাছে মাগরীবের পর মোবাইল করলাম। আমার পরীক্ষার ফলাফল বললাম, আমার ছাত্র ভাইদের কথাও বললাম। সব শুনে হুযূর বললেন, “খুব ভালো কথা। আর তাদেরকে বলুন, আমাদের মাদরাসায় এসে এক বছর পড়ে যেতে।”

তাদেরও মেধায় যাতে এই শক্তি সঞ্চয় হয়, যা দিয়ে ছয় মাসের পড়াশোনা আপনাকে সফলতা দিয়েছে। যেখানে দুই বছর পড়েও তারা ব্যর্থ। “… আর যে ম্যাডাম আপনাকে নিয়ে ‘সেই মন্তব্য’ করেছিলেন, তাঁর সাথে যোগাযোগ হয়েছে কি?” (ম্যাডাম আমাকে বলেছিলেন, নকল যদি না করো, আমি বলে দিলাম, তুমি ফেইল!) হুযূর বললেন, “সবার সাথেই যোগাযোগ থাকা চাই।”
এরপর বললেন, “তা আপনার সাথি ভাইদেরকে কি জানাব?” (মানে, মাদরাসায় যারা আমার সাথি ছিলো।) “তারা তো জানতে ইচ্ছুক। অবশ্য সেই সাথে মিষ্টিও চায়!” ফলাফল না জেনেই তাদের এই মিষ্টি চাওয়া, বেশ তো! কথাটি শুনে হেসে ফেললাম। আর যা সুন্দর করে তিনি বলেন না কথা, খুবই ভালো লাগে, খুব!

বিকেলবেলা।
আমার একজন স্যারের কাছে গেলাম। ওই সময় একজন ছাত্রীকে পড়াচ্ছিলেন। রুমে ঢুকলাম এবং তিনি আমার দিকে তাকানো মাত্রই বলে ফেললাম, “স্যার, ফোর পয়েন্ট জিরো সিক্স।”
যা বুঝার, বুঝে গেলেন। বললেন, “সে তো বেশ ভালোই। তিন মাস পড়েই (একটু বাড়িয়েই বলেছেন, না মানে, কমিয়ে।) এই করতে পেরেছো, শুকরিয়া!”

কেন আমি এসব লিখছি এখানে? নিজের গুণাবলী প্রকাশ করার জন্য? আসলেও। যখন আমার চারপাশে নকলের এমন ছড়াছড়ি…। আমার গর্বের বিষয় এটা। তবে যদি ফেল করেও বসতাম, তবু হাসতাম, বুক ফুলিয়ে বলতাম, ‘মহাসুযোগ’ ছিল, তবু নকল থেকে বিরত থাকার আমার বীরত্ব ছিল আমার।

গার্ড স্যার এবং ম্যাডাম ‘ফটোকপি’ এনে এনে বিলি করে দিয়েছেন, দিয়েছেন হাতে হাতে, যাদের, আজ তারাই…। তোমার শোকর হে আল্লাহ, তোমার শোকর!

এরপর শুরু, জীবনের নতুন গল্পের। সূচনা একটি নতুন অধ্যায়ের। আমার কলেজিং।

০৪/০৫/১৭ খ্রি.

চলবে….

 

মাই নিউজ/মাহদী

৭ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   রাস্তার ছেলে   ❖   সাধারণ রোগীরা কি চিকিৎসা পাচ্ছে?   ❖   বাজেট দিয়ে কী হবে?   ❖   তুরষ্ক পাঠ্যবইয়ে জিহাদ ঢুকিয়েছে, বের করেছে বিবর্তনবাদ   ❖   আরব আমিরাতের করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় ভাইস প্রেসিডেন্টের অনলাইন বৈঠক !   ❖   চার্জ ফ্রি রেমিট্যান্স প্রেরণ সুবিধা চালু করল ব্যাংক এশিয়া   ❖   তিনি কত দয়ালু এবং ক্ষমাশীল   ❖   খিদমাহ ফাউন্ডেশনের চান্দিনায় ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ   ❖   সম্পত্তির লোভে বাবাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত   ❖   করোনা মৃত্যুতে ইউরোপে শীর্ষে ব্রিটেন