All for Joomla The Word of Web Design
নির্বাচিত পোস্ট

নূরানী ধোঁকা

 আবদুল্লাহ আল মাসউদ
বিশিষ্ট লেখক, ইসলামি চিন্তাবিদ

পুকুর ঘাটে বসে আছি। পাশের বাড়ির একটা ছেলে নাশিদ শুনছে। সে আবার একটা ইসলামী দলের কর্মী। ফলে দাড়ি না রাখলেও মোটামুটি নামাজ-কালাম আদায়ের চেষ্টা করে। সমস্যা হল, তার শোনা নাশীদের কথাগুলো ইসলামিক হলেও তাতে বাদ্যযুক্ত করা। গায়ক সাহেব বাদ্যের তালে তালে সুর তুলছেন। আল্লাহ-রাসুলের নাম জপছেন।

আমি তাকে বললাম, তুমি যে এটা শুনছো তা কি উচিত হচ্ছে? সে ভাবনাচিন্তা ছাড়াই বলে দিলো, আমি তো আর গান শুনছি না! তার কথা শুনে আমি ক্ষণিকের জন্য থ হয়ে গেলাম। যেহেতু ছেলেটা মোটামুটি নামাজ-কালাম পড়ে এবং ইসলামী একটা রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত তাই ভেবেছিলাম অন্তত এতোটুকু বিষয় তার বুঝের বাইরে থাকবে না। কিন্তু আমাকে চরম হতাশ হতে হলো। কারণ সে এই বিষয় নিয়ে আমার সাথে রীতিমতো তর্ক শুরু করে দিলো।

যার সঙ্গিতটা সে শুনছিলো তার নাম ইকবাল হোসেন জীবন। বাংলাদেশী গায়ক হলেও তিনি পুরোপুরি লেবানন বংশোদ্ভূত সুইডিশ গায়ক মেহের জাইনকে অনুকরণ করার চেষ্টা করেন। মুখে তার মতোই খোঁচাখোঁচা দাড়ি। গাওয়ার স্টাইল আর ভিডিওগুলোও তার সঙ্গীতের অনুসরণে করা। তো ছেলেটা আমাকে যুক্তি দিলো, ইকবাল যখন বাদ্য ছাড়া এমনি গাইতো তখন তার অতো নামডাক ছিলো না। এখন দেখেন সে বিদেশেও প্রোগ্রাম করে। ইসলামী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড প্রসারে এটা তো কম না। ইত্যাদি ইত্যাদি। তার এ ধরনের কু-যুক্তি শুনে আমার বিস্ময়ের মাত্রাটা আরো কয়েক ডিগ্রি বেড়ে গিয়েছিলো।

এই ধরনের মানসিকতা পোষণ করার মানুষ বর্তমান সময়ে নেহায়তই কম না। আধুনিকতার নামে তারা হারামকে হালাল সাব্যস্ত করতে একটুও কসুর করে না। ইসলামের বিধি-বিধানগুলোকে নিজেদের মন-মাফিক করে নেয়। তারপর সে অনুপাতে তার একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে সেটাকে বৈধতা প্রদানের কসরত চালায়। এই ধরনের মানসিকতা যে খুবই ভয়ংকর তা তো বলাই বাহুল্য। এর সর্বনিম্ন ক্ষতিটা হলো, এতে করে সুপথে আসার রাস্তাটা আর খোলা থাকে না। কারণ কাজটা করাই হয় জায়েয জ্ঞান করে। সুতরাং যারা এর সাথে জড়িত হয় তাদের থেকে তওবা করে সুপথে ফিরে আসার কল্পনা করাটা তো আকাশ কুসুমই হবে।

আমি বছর খানেক আগে রমজান মাসে গিয়েছিলাম এ্যালিফেন্ড রোডের একটা মার্কেটে। আমার এক বন্ধুর দোকান ছিল ওই মার্কেটে। সেখানে গিয়েও একই ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হলো। মার্কেটে ফুল সাউন্ডে একজন বৃটিশ গায়কের বাদ্যবাজনাযুক্ত কথিত ইসলামী সঙ্গীন লাগানো হয়েছে। তিনি তার সুরেলা গলায় গেয়ে চলছেন হাসবি রব্বি জাল্লেল্লাহ… অন্যসময় হয়তো সেখানে বাংলা-হিন্দি বা ইংরেজি গানের মহড়া চলে। কিন্তু এখন রমজান মাসের দিনের বেলা বলে তারা একে সম্মান দেখাচ্ছে। গানের পরিবর্তে ইসলামী সঙ্গীত চালানোর চেষ্টা করেছে। ভাবটা এমন যে, বাদ্যযুক্ত এসব গানে আল্লাহ-রাসুলের নাম আছে বিধায় এগুলো সব ইসলামী সঙ্গীত। শুনলে কোন সমস্যা নাই। অথচ এগুলোতে বাদ্যের ব্যবহার ক্ষেত্র বিশেষ কোন কোন গানের চেয়েও আরো বেশি কড়া। জাহালাতের আধুনিক সংস্করণ বোধহয় একেই বলে!

সেই মার্কেটে যে সঙ্গীতটা চলছিল তার কথাগুলোর মধ্যে কয়েকটা লাইন এমন ছিল, ‘ও আল্লাহ দি অলমাইটি, প্রোটাক্ট মি এন্ড গাইড মি…  হাসবি রব্বি জাল্লাল্লাহ। মানে, হে সর্বশক্তিমান আল্লাহ, আমাকে রক্ষা করো এবং পথ প্রদর্শন করো… মহান রব্ব আমার জন্য যথেষ্ট।’ আমি ভেবে পেলাম না যে, রব্ব বা আল্লাহ তাআলা যেই বাদ্য-বাজনাকে নিষেধ করেছেন সেটাকে উপেক্ষা করে যারা বাদ্যযন্ত্রযোগে সঙ্গীত পরিবেশন করছে এবং শুনছে কীভাবে তাদের এই রক্ষা করার ও সুপথ দেখানোর প্রার্থনা কবু্ল হতে পারে? তাদের জন্য কীভাবে তিনি যথেষ্ট হতে পারেন! কারণ আল্লাহ তাআলা তো সেসব লোকদের পছন্দ করেন না, যারা তাঁর অবধ্যতায় মেতে থাকে। সুতরাং তিনি তাদের জন্য যথেষ্ট হবেন এটা বাতুলতা এবং সঙ্গীতের একটা অযাচিত কথা বৈ আর কিছু না। বরং একথা বলাই যথার্থ ও সমীচীন হবে যে, এটা দুআ ও আল্লাহর নাম নিয়ে করা এক ধরনের নিকৃষ্ট ফাজলামো।

মূলত একটা সঙ্গীত জায়েয থেকে নাজায়েযের গণ্ডিতে তখনই প্রবেশ করে যখন তার মধ্যে দুইটি বিষয়ের কোন একটি পাওয়া যায়। প্রথম হলো, যদি তাতে শরীয়ত বহির্ভূত ও গর্হিত কোন কথা থাকে। যেমন, হারাম প্রেমের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা, কুফুরী-শিরীকী বাক্য মিশ্রিত থাকা ইত্যাদি। আর দ্বিতীয় হল, বাদ্যযন্ত্রের উপস্থিতি থাকা। সুতরাং যেসব সঙ্গীতের কথামালা ইসলামীক কিন্তু তাতে বাদ্যযুক্ত করা হয়েছে সেটা হারাম সঙ্গীতেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। গানের ব্যাপারে শরীয়তে যেসব নিষেধাজ্ঞা এসেছে সেগুলো এর জন্য প্রযোজ্য হবে। সাধারণ গান গাওয়া ও শোনার কারণে একজন মুসলিম যেসব শাস্তি ও ধমকের উপযুক্ত হয় এই জাতীয় ইসলামীক লেবেল লাগানো সঙ্গীত গাইলে বা শুনলেও তার বিধানও অপরিবর্তিতই থাকবে। উভয়ে শ্রেণীই হারামে লিপ্ত বলে ধরে নেওয়া হবে। বরং বলা যায়, ইসলামের ছদ্মাবরণে হওয়ার কারণে অনেক সরলপ্রাণ মানুষ, যারা সাধারণত গান-টান শোনেন না, তারাও যেহেতু ধোঁকায় পড়ে যায় অনেক সময় তাই এই ক্ষেত্রে গায়কদের জন্য শাস্তির পরিমাণটা আরো কঠোর হবার কথা।

সঙ্গীত শোনাটা আমাদের সমাজে এখন মহামারির আকার ধারণ করেছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এই পাপটাকে আরো গতিশীলতা ও ব্যাপকতা এনে দিয়েছে। মানুষ এখন অবসর সময়টুকু এসব বে-ফায়দা ছাইপাশ শুনেই কাটিয়ে দেয়। হয়তো সে বাসে করে অফিসে বা অন্য কোথাও যাচ্ছে। তো সীটে বসেই
এয়ারফোনটা কানে গুঁজে সারাটা রাস্তা এভাবে পাপের ভেতর নিজেকে অবগাহন করাবে। এটাই এখনকার সময়ের সাধারণ চিত্র। অথচ এই সময়টুকু সে তেলাওয়াত বা কোন জ্ঞানগর্ভ লেকচার শুনে নিজেকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারতো। নিদেন পক্ষে বাদ্যযুক্ত সঙ্গীত পরিহার করে গুনাহমুক্ত ধর্মীয় সঙ্গীত শুনতে পারতো।

অনেকেই আছে কিছুটা ধার্মিক হবার কারণে প্রচলিত গান-বাজনা থেকে দূরে থাকেন। কিন্তু ইসলামী সঙ্গীতের নামে বাদ্য-বাজনাযুক্ত এসব নাশীদ ঠিকই শুনেন। তারা ভাবেন, এটা তো ইসলামী সঙ্গীতই। এটাকেই বোধহয় বলে ‘নূরানী ধোঁকা’। কারণ শয়তান অনেক সময় মুমীনদেরকে যখন সোজাপথে কুমন্ত্রণা দিয়ে বশ করতে পারে না তখন নূরানী ধোঁকার জাল বিছিয়ে দেয়। যেটাবে বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেখতে ভালো মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তা মূলত শয়তানের কর্মকাণ্ডেরই একটা পরিশীলিত রূপ। কেমন যেন মধুর লেভেল আঁটা বোতলে মদের পরিবেশন।

চলুন একটু দেখে আসি কুরআন-হাদীসে বাদ্যবাজনাযুক্ত সঙ্গীতের বিষয়ে কী বলা হয়েছে। শুরুতেই পবিত্র কুরআনুল কারীমে নজর বুলাই। আল্লাহ তা’আলা বলছেন, “এক শ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশ্যে ‘লাহওয়াল হাদীস’ সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং সেটাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।”¹

এখানে আয়াতে ‘লাহওয়াল হাদীস’ দ্বারা কী উদ্দেশ্য সে বিষয়ে সাহাবীদের মধ্যে সবচে বিখ্যাত তাফসীরকারক সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, ‘এটা গান এবং এ জাতীয় কিছুকেই বোঝায়।’²

অন্য আরেক বিখ্যাত সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. তো আরো জোরালো ভাষায় বলেন, ‘আমি সেই সত্তার কসম করে বলছি যাকে ছাড়া কোন কল্যাণ নেই, এখানে গানের কথা বলা হয়েছে।’³

যারা গান গায় এবং শোনে তাদের উভয়ের জন্যই এই আয়াত একটা চরম ধরনের হুমকি। তাদের জন্য এখানে অবমাননাকর শান্তির হুকুম শুনিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইসলামী সঙ্গীতের ছদ্মাবরণে যারা বাদ্যযুক্ত সঙ্গীতকে বৈধ সাব্যস্ত করতে চায় তাদের বিষয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ওয়াসাল্লাম জীবদ্দশাতেই ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন। তিনি বলেছেন,
“আমার উম্মতের মধ্যে অবশ্যই এমন কতোগুলো দলের সৃষ্টি হবে, যারা ব্যাভিচার, রেশমী কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল জ্ঞান করবে।
আমি যখন দেখি কোন ভাই এই জাতীয় সঙ্গীতগুলোর পক্ষ নিয়ে কথা বলছেন তখন নবীজীর এই হাদীসটার কথাই মনে পড়ে যায়। কতো সরলভাবেই না তিনি আমাদেরকে এমন একটি অনাগত ফিতনা সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন।

সাহাবীরা বাদ্যযন্ত্রের বিষয়ে কতো  হুশিয়ার ছিলেন সে বিষয়ে একটা ঘটনা শুনাই। একবার বিশিষ্ট সাহাবী ইবনে উমর রা. কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তিনি বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ শুনতে পেলেন। কালবিলম্ব না করে সঙ্গে সঙ্গে তিনি দুই কানে আঙ্গুল দিয়ে দিলেন। যাতে বাদ্যের আওয়াজ তাঁর কানে না আসতে পারে। সাথে ছিলেন তাঁর বিশিষ্ট সাগরেদ নাফে রাহ.। তিনি কিছু দূর গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘নাফে, তুমি কি এখনও কোন শব্দ শুনতে পাচ্ছো?’ যখন নাফে রাহ. না বললেন তখন তিনি কান থেকে হাত সরালেন। তারপর তাকে জানালেন যে, একবার তিনি নবীজির সাথে ছিলেন। তখন এরকম বাদ্যের আওয়াজ শুনে তাকে এমনই করতে দেখেছেন।

সাহাবীদের আদর্শ কেমন ছিল আর আমরা কেমন! দুইয়ের মধ্যে কতো আকাশ-পাতাল ব্যাবধান। তারা অনিচ্ছাকৃতভাবেও যাতে বাদ্য শুনতে না হয় সেজন্য কানে আঙ্গুল দিয়ে দিতেন। আর আমরা সেই গান-বাদ্য শোনার জন্য কানে ইয়ারফোন গুঁজে দেই। আবার তাকে বৈধ সাব্যস্ত করার জন্য টালবাহানাও করি। আল্লাহ-রাসুলের স্তুতিগাঁথাকে বাদ্যের নাপাক আওয়াজে কলুষিত করি। এরচে বড় হঠকারিতা আর কী হতে পারে! আমার কাছে তো সাধারণ বাদ্যযুক্ত গানের তুলনায় এসব ইসলামী (?) সঙ্গীতকে আরো বেশি মারাত্মক মনে হয়। কারণ সাধারণ গানবাজনা যারা শুনে তারা একে পাপ জেনেই শুনে। নফসের বেড়াজালে বন্দি হওয়ার কারণে পাপ জেনেও এটি করে যায়। ফলে সময়ের পরিবর্তনে তার নিজের ভেতরেও কোন একদিন পরিবর্তন চলে আসতে পারে আশা করা যায়। নিজের ভুল বুঝতে পেরে কায়মনোবাক্যে রব্বের দরবারে অনুতপ্ত হবে প্রত্যাশা রাখা যায়। কিন্তু ইসলামের লেবেল লাগানো এসব সঙ্গীতের ক্ষেত্রে শ্রোতার মনে পাপের সেই অনুভূতিটাই থাকে না। সে ভাবে আমি তো খারাপ কিছু শুনছি না! এর মধ্যে তো আল্লার গুণগানই গাওয়া হচ্ছে। বা নবীজীর স্তুতি-কীর্তন করা হচ্ছে। ফলে তওবা করার ভাগ্য তার নসীবে আর জুটে না। তো পাপকে পাপ মনে করে করার তুলনায় অ-পাপ মনে করে করাটা যে বেশি ভয়ংকর ও বিপদজনক সেটা তো বলাই বাহুল্য।

অনেক সময় দেখা যায় এসব বাদ্যবাজনাযুক্ত কথিত ইসলামী সঙ্গীতই ধীরেধীরে একজন মানুষকে গান-বাদ্যের প্রতি ধাবিত করে। তার হৃদয়ে মিউজিকের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে। পূর্বে গান-বাদ্যের প্রতি যে একটা ঘৃণাবোধ ছিল সেটাকে আস্তে আস্তে বিদূরিত করে দেয়। কারণ মানুষের একটা প্রাকৃতিজাত স্বভাব হলো, সে কোন কাজের প্রতি একসাথে হুট করে ঝুঁকে পড়ে না। বরং এটা সময়ের স্রোত ধরে অল্প অল্প করে সেটা সংঘটিত হতে থাকে। যেমন, যে ছেলেটা চরম পর্যায়ের নেশাখোর, তার নেশার শুরুটা মদ-হিরোইন দিয়ে শুরু হয় না সাধারণত। হয় সিগারেটের মতো হালটা বস্তু দিয়ে। সেই হালকা বস্তুটার হাত ধরে একসময় সে নেশার জগতের আরো গভীর থেকে গভীরে ডুব দেয়। ভেসে যায় উন্মাদনার উত্তাল স্রোতে। তাই এসব বাদ্যবাজনাযুক্ত কথিত ইসলমাী সঙ্গীতকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই।

আমাদের সকলের সুপরিচিত ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর বিষয়ে পড়েছিলাম তিনি ঢাকা কলেজের অনেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন। তবে যখন গানের অনুষ্ঠান হতো তখন তিনি উপস্থিত থাকতেন না। এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, ‘গান চিত্তের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে।’
পরবর্তীতে এর স্বপক্ষে একজন বিখ্যাত মুসলিম মনীষী যাহহাক রাহ. এর একটা মন্তব্যও পড়েছিলাম। তিনি বলেছেন, ‘গান টাকা-পয়সা নষ্ট করে, আল্লাহর গোস্বার কারণ হয় এবং অন্তরকে বিনষ্ট করে।
গান-বাদ্যের দ্বীনী ক্ষতির পাশাপাশি দুনিয়াবী ক্ষতিও যে কম নয় এখান থেকে তা বুঝে আসে।

আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা মনে পড়ে গেল। সেখানে প্রতিদিন আসরের পর ‘এক মিনিটের মাদরাসা’ নামে একটা বই থেকে একটা করে অনুচ্ছেদ পড়া হয়। যেখানে কয়েকটা বিষয় থাকে। তারমধ্যে একটা হল, ‘গুনাহের দুনিয়াবী ক্ষতি’। আমাদের মনের ধারেকাছেও আসতে চায় না যে, গুনাহের আখেরাতী ক্ষতির পাশাপাশি দুনিয়াবী কিছু ক্ষতিও থাকে। আখেরাতের বিষয়টা যেহেতু মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের সাথে সমৃক্ত তাই সেটা আমাদের মনোজগতে অতোটা রেখাপাত করে না। কারণ আমরা বাকীর তুলনায় নগতে বেশি বিশ্বাসী। সেদিক বিবেচনায় হলেও গান-বাজনা শোনাটা আমাদের পরিহার করা উচিত। কারণ এর পার্থিব ক্ষতির পরিমাণটাও নেহায়েত কম নয়।

১. সুরা লুকমান -৬
২. তাফসীরে তাবারী ১৮:৫৩৫
৩. প্রাগুক্ত: ১৮:৫৩৪
৪. সহীহ বুখারী- ৫৬৪৯
৫. মুসনাদে আহমাদ-৪৫৩৫
৬. সৈয়দ আলী আহসান, জীবনের শিলান্যাস- ৩৬
৭. ইমাম তাবারী, আল রদ্দ-৪৫

মাই নিউজ/মাহদী

৯৩ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   কাল থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে আরব আমিরাতের মসজিদ   ❖   এডিআইও আবুধাবিতে স্টার্টআপের তহবিলের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর জন্য শোরুক পার্টনার্স বেদায়া তহবিলে বিনিয়োগ করেছে   ❖   বাইতুল মোকাররমের খতিব হতে পারেন মাওলানা হাসান জামিল সাহেব!   ❖   ভারতীয় একজন কিডনী ব্যর্থতায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, তুমি নিরাপদ হাতে রয়েছ   ❖   উচ্চ আদালতের স্থিতিবস্থা জারির পরও ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে রাজধানীর একটি মসজিদ   ❖   করোনাকালে ক্বওমী মাদরাসাগুলোর ১২ চ্যালেঞ্জ   ❖   চাকরিচ্যুৎ সেই ইমামকে স্বপদে বহাল করতে লিগ্যাল নোটিস   ❖   আজারবাইজানকে ১১ টন চিকিত্সা সহায়তা পাঠিয়েছে আমিরাত   ❖   রাতে নৌকার ছাদে জানাজা পড়ে লাশ ফেলা হতো সাগরে : খোদেজা বেগমের দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রা   ❖   স্বেচ্ছাচার, স্বজনপ্রীতি ও স্বৈরাচার