All for Joomla The Word of Web Design
ইসলামী জীবন

বেহেশতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবী

হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা.

 মাহদী হাসানাত খান
বিভাগীয় সম্পাদক

জান্নাত! প্রতিটি মুসলিম হৃদয়ের চূড়ান্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা। জান্নাত যেন হয় চিরস্থায়ী নিবাস, তাই তো মুসলমানরা মহান আল্লাহর বিধি-বিধান এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রিয় সুন্নত অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার চেষ্টা করেন। তবে এ জান্নাত মিলবে ‘বিচার দিবসে’। ‘মিজান’-এ পুণ্যের ভাগ বেশি হলে। তাই তো মুসলমানরা সবসময়ই থাকেন আশা আর ভয়ের দোটানার মধ্যে। কিন্তু কেউ যদি পার্থিব জীবনেই লাভ করেন বহুল আকাঙ্ক্ষিত ‘জান্নাত’ এর সুসংবাদ! এ তো মহা সফলতা! মহা সৌভাগ্য!

বিশেষ ‘দশজন’ সৌভাগ্যবান সাহাবি (রা.) ছিলেন, যারা তাদের বিশেষ আমল এবং সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে পার্থিব জীবনেই লাভ করেছিলেন অপরিমিত নেয়ামতের স্থান ‘জান্নাত’ এর সুসংবাদ! সৌভাগ্যবান সাহাবিদের (রা.) বলা হয় ‘আশারায়ে মুবাশশারাহ’। তাদের অন্যতম হলেন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)।

উমর রা.-কে জান্নাতের সুসংবাদ:- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘…..এবং উমর জান্নাতি।’ (মুসনাদে আহমদ, ১/১৮৭; আবু দাউদ, হাদীস নং: ৪৬৫০)

পূর্ণ নাম:- উমর ইবনুল খাত্তাব।

উপনাম:- আমিরুল মুমিনিন,ফারুক।

জন্মগ্রহণ:- ৫৭৭ খ্রিষ্টাব্দে, মক্কার কুরাইশ বংশের ‘বনু আদি’ গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন।

জন্মস্থান:- মক্কা, আরব উপদ্বীপ।

পিতার নাম:- খাত্তাব ইবনে নুফায়েল।

মাতার নাম:- হানতামাহ বিনতে হিশাম।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ:- উমর রা. ৬১৬ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন তার বয়স ছিল ৩৯ বছর।

ইসলাম ধর্মে তাঁর কিছু অবদান:-

উমর রা. ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা।

প্রধান সাহাবিদের অন্যতম।

আবু বকর রা. ইনতেকালের পর তিনি দ্বিতীয় খলিফা হিসেবে নিযুক্ত হন।

উমর রা. ইসলামী আইনের একজন অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ ছিলেন। ন্যায়ের পক্ষাবলম্বন করার কারণে তাকে আল ফারুক (সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী) উপাধি দেওয়া হয়।

‘আমিরুল মুমিনিন’ উপাধিটি সর্বপ্রথম তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে।

উমর রা.-এর ইসলাম গ্রহণের পর, প্রকাশ্যে কাবার সামনে নামাজ আদায় করাতে মুসলিমগণ বাধার সম্মুখীন হয়নি। ইসলাম গ্রহণের পর গোপনীয়তা পরিহার করে, প্রকাশ্যে তিনি মুসলিমদের নিয়ে বাইরে আসেন এবং কাবা প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। সেদিন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে “ফারুক” উপাধি দেন।

উমর রা.-এর অন্তর ও কথা অনুযায়ী ওহী অবতীর্ণ হয়েছিল।

উমর রা.-এর কাছে যা ইলহাম হত, তা আল্লাহর সিদ্ধান্ত হত।

উমর রা. এমন ব্যক্তিত্ব, শয়তানও তাঁকে ভয় পেতো।

দ্বীনের বিষয়াবলিতে উমর রা. ছিলেন বেশ কঠোর।

মহান আল্লাহর কাছে উমর রা. হলেন সবচে’ প্রিয়।

শাসনকাল:- ২৩ আগস্ট ৬৩৪ – ৩ নভেম্বর ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ।

ইনতেকাল:- ৩ নভেম্বর ৬৪৪ (২৬ জিলহজ ২৩ হিজরি)।

সমাধি:- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সমাধিস্থলের পাশে।
মসজিদে নববী, মদিনা, সৌদি আরব।

* লেখকের ই-মেইল:
mahdikhanayon@gmail.com

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   ধর্মান্তর নিষিদ্ধ হচ্ছে ভারতে! নিষিদ্ধ ‘লাভ জেহাদ’   ❖   পানিবাহিত রোগ ও তার প্রতিরোধ   ❖   কুরবানি তাকওয়ার শিক্ষা   ❖   সামাজিক যোগাযোগ কি আমাদের অসামজিক ও অবাধ্য করে তুলছে!   ❖   কোরবানী: তাকওয়া অর্জনের অন্নতম একটি মাধ্যম   ❖   জীবনের কোনো গ্যারান্টি নেই   ❖   র‍্যাগ ডে: বিজাতীয় সংস্কৃতির নতুন উম্মাদনা   ❖   বাংলাদেশ ইসলাম ও আলেম-ওলামার দেশ   ❖   সেইজ দ্যা ডে সংস্কৃতি ও আমরা…   ❖   দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য, দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য