All for Joomla The Word of Web Design
ভ্রমণ কাহিনী

সৌদি আরব নবিজীর শহর মদিনা

রহস্যময় জিনের পাহাড়

দুই দিকে সারিবদ্ধ পাথরের পাহাড়সারি; মাঝখান দিয়ে আঁকাবাঁকা হয়ে চলে গেছে ওয়াদে বাইদ সড়ক । এই সড়কের একেবারে শেষ প্রান্তের প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কে গাড়ি চলতে তেল লাগেনা। ইজ্ঞিনবন্ধ অবস্থায়ও গাড়ি চলে ঘন্টায় সর্রোচ্চ ১৪০ কিলোমিটার। এই অলৌকিক জায়গাটির নাম জীনের পাহাড় । সৌদি আরবের নবিজীর শহর মদিনা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দুরে ঐতিহাসিক এই ‘জীনের পাহাড়’। স্থানীয়রা বলেন, ‘ওয়াদে জীন’ অথবা ‘ ওয়াদে বাইদ্’। বপশ কয়েকবার সরেজমিন জীনের পাহাড় পরিদর্শনের সুযোগ হল। সেখানে চোখে যা দেখা গেল তা লিখে প্রকাশ করা সম্ভব না। জীনের পাহাড়ের বৈশিষ্ট হল-অলৌকিকতা। ধরুন, আপনি গাড়ি নিয়ে পাহাড়টি দেখতে গেলেন। সড়কের পাশে গাড়িটি রেখে আপনি হাঁটছেন, দেখবেন গাড়িটি ইঞ্জিন বন্ধ অবস্থায় চলছে।সড়কের ওপর আপনি রাখলেন সঙ্গে আনা মালামাল ভর্তি ব্যাগটি। দেখবেন-ব্যাগটি একদিকে চলে যাচ্ছে। সড়কের ওপর যাই রাখেন-দেখবেন আপনা আপনি ওই জিনিস মদিনার দিকে চলে যাচ্ছে।পাহাড়ের এই অলৌকিকতায় অনেকে বলেন-জীনের পাহাড়। হজ বা ওমরা করতে যাঁরা মক্কা বা মদিনায় যান। তাঁরা একবার অন্তত জীনের পাহাড়টি দেখতে যান। জীনের পাহাড়টি মদিনার অন্যতম দর্শণীয় স্থান হিসাবে উল্লেখ্য। আমার সফরসঙ্গী দেশ থেকে আসা পরিচিতি জনরা জীনের পাহাড় দেখে হতবাক। আমরা যে গাড়িটি নিয়ে সেখানে গেলাম- তা ইজ্ঞিনবন্ধ অবস্থায় চলল ঘন্টায় ১৪০ কিলোমিটার বেগে। তারা বললেন-এটা সম্পূর্ণ আল্লাহর কেরামতি। জীনেরাই এই সড়ক নিয়ন্ত্রন করে। মাধ্যাকষরণের সুত্র অনুযায়ী-গাড়ি বা যেকোনো বস্তু নিচের দিকে চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু জীনের পাহাড় থেকে মদিনার দিকের সড়কটি উঁচু। আর ওয়াদে বাইদার দিকটা নিচু। সে হিসাবে গাড়ি যাবার কথা বাইদার দিকে। কিন্তু তা না হয়ে গাড়ি বা যেকোনো বস্তু যাচ্ছে উল্টো দিকে অর্থাৎ উঁচুর ( মদিনার) দিকে। আমার সাথে যোগ হওয়া হাজিরা এর আগে তিনি দুই বার সৌদি আরব এসেছেন। হজ্জ এবং ওমরা পালন করতে। কিন্তু জীনের পাহাড় পরিদর্শণের সুযোগ তাঁদের হয়নি। এবার জীনের পাহাড়ের কেরামতি দেখে বলেন, সুবহান আল্লাহ। এটা মদিনার প্রতি বিশেষ টান।টান শুধু হৃদয়ে অনুভুত হয়না; বস্তু জগতেও তার প্রতিফলন দেখা দিচ্ছে।পাহাড়ের এই অলৌকিকতা দেখে মানুষ শিক্ষা নিতে পারেন-আল্লাহ মহান। তাঁর ইশারায় সবকিছু হওয়া সম্ভব। জীনের পাহাড় দেখতে ভীর জমাচ্ছেন বহু নারী পুরুষ। এরমধ্যে বাংলাদেশীও অনেক। তাদের কয়েকজন বলেন, এই পাহাড়ে জীন আছে। তাই এই অলৌকিকতা দেখা যায়। জীনরাই নিচ থেকে ওপরের দিকে বস্তুগুলো ঠেলে নেয়। যা মানুষ দেখতে পায় না।বিজ্ঞানমনষ্করা বলে থাকেন, এটা নাকি প্রাকৃতিক ঘটনা। পাহাড়টি নাকি ‘ম্যাগনেটিক হিল’ বা ‘গ্র্যাভিটি হিল’। পাহাড়ের কেরামতি নিয়ে মতান্তর থাকলেও আমার মনে হয়েছে, হাজার হাজার মুসলিম ‘জীনের পাহাড়’ দেখে মহান আল্লাহ ও নবী মোহাম্মদ (স:) এর মহিমা ও অস্তিত্ব খুঁজে পান।ধর্মীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হন মানুষ।

 

 

 

মুহাম্মদ নাসরুল্লাহ ওমরী

ছাত্র:মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়

৫ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   লেখক ফোরামের এবারের ভ্রমণ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ‘নুহাশ পল্লী’তে   ❖   বাসচাপায় প্রাণ হারালেন মামা-ভাগনে   ❖   ‘দৈনিক বিশ্ব ইজতেমা’— দেশজুড়ে ইজতেমার ধ্বনি   ❖   ২০২১ সালে বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের তারিখ নির্ধারণ   ❖   আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা ২০২০   ❖   বিমান বিধ্বস্ত নিয়ে মিথ্যাচার: খামেনির পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ   ❖   প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে মুনাজাতে অংশ নেন   ❖   মোদি-অমিত বলেছেন, কাশ্মীর ইস্যুকে সমর্থন করলে মামলা তুলে নিবে:‌ জাকির নায়েক   ❖   প্রথমবারের মত ইরান সফরে কাতারের আমির   ❖   যুগে যুগে তাবলিগ