All for Joomla The Word of Web Design
খাওয়া-দাওয়া

ভিটামিন সম্পর্কে জানা-অজানা: ৪

 মাহদী হাসানাত খান
বিভাগীয় সম্পাদক

* ভিটামিন ‘ডি’-এর পরে এবার আলোচনা করব অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ‘ই’ নিয়ে।

☞ ভিটামিন ‘ই’:

আলোচিত ভিটামিনের নাম ভিটামিন-ই। অনেক খাদ্যে ভিটামিন-ই পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে বলে শরীরে তার অভাব পরিলক্ষিত হয় না। ভিটামিন-ই রাসায়নিক ক্রিয়া বা অক্সিডেশনকে প্রতিহত করে, এ অক্সিডেশন শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। শরীরের স্নায়ু ও মাংসপেশির কাজ সঠিক করার জন্যও ভিটামিন-ই গুরুত্বপূর্ণ।

শারীরিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ও সুস্থ থাকতে হলে ভিটামিন ‘ই’ -এর ভূমিকা অপরিসীম। এটি লিভার, যকৃত, অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। স্নায়ু ও মাংসপেশীর কার্যক্ষমতাও বজায় রাখতেও এটি সাহায্য করে। ত্বকের নানা ধরনের সমস্যা ও চুল পড়া রোধে ভিটামিন ‘ই’ খুব কার্যকরী।

ভিটামিন ‘ই’ সমৃদ্ধ কিছু খাবারের কথা—

লাল মরিচের গুঁড়া: ঝালের কারণে আমরা অনেকেই মরিচ কম খেয়ে থাকি। অবাক হলেও কথা সত্য। ভিটামিন ‘ই’ সমৃদ্ধ খাবারের তালিকায় দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে লাল মরিচের গুঁড়া। প্রতি ১০০ গ্রাম লাল মরিচের গুঁড়ায় রয়েছে ২৯.৮৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই।

শুকনো এপ্রিকট: খাদ্যআঁশ ও নানা ভিটামিনের উৎকৃষ্ট উৎস বলা হয় এপ্রিকটকে। প্রতি ১০০ গ্রাম শুকনো এপ্রিকটে রয়েছে ৪.৩৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘ই’।

ভেষজ: ভেষজের মধ্য বেসিল ও অরিগানোতে রয়েছে সর্বোচ্চ ভিটামিন ‘ই’। প্রতি ১০০ গ্রাম বেসিল ও অরিগানোতে রয়েছে ৭.৪৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘ই’। পাস্তা, পিজা, সালাদ ও স্যান্ডউইচ তৈরির উপকরণ হিসেবে বেসিল এবং অরিগানো ব্যবহার করা হয়।

কাঠ বাদাম: ভিটামিন ‘ই’ এর উৎস হিসেবে কাঠবাদাম বেশি জনপ্রিয়। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঠবাদামে রয়েছে ২৬.২২ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘ই’। দাম বেশি বলে কাঠবাদাম খাবার হিসেবে খুব বেশি প্রচলিত নয়। সাধারণত ক্ষীর, পায়েস, মিষ্টি, সন্দেশ, হালুয়াসহ অন্যান্য খাবার তৈরিতে অনুষঙ্গিক উপকরণ হিসেবে কাঠবাদাম ব্যবহার করা হয়।

সূর্যমুখীর বীজ: বেশি পরিমাণে ভিটামিন ‘ই’ পাওয়া যায় সূর্যমুখীর বীজে। প্রতি ১০০ গ্রাম সূর্যমুখীর বীজে রয়েছে ৩৬.৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘ই’। সূর্যমুখীর বীজ থেকে তৈরি তেল সালাদ, স্যুপ বা গার্নিশে ব্যবহার করা হয়। এতে কোনো কোলেস্টেরল না থাকায় রান্নাতেও ব্যবহার করা যায়। যে কারণে রক্তচাপ ও হৃদরোগীরা অনায়াসে তা খেতে পারেন।

পেস্তা বাদাম: কাঠবাদামের পরেই রয়েছে পাইন নাট বা পেস্তা বাদামের স্থান। প্রতি ১০০ গ্রাম পেস্তা বাদামে রয়েছে ৯.৩৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘ই’। কাঠবাদামের মতোই পেস্তা বাদামও আমাদের দেশে বিভিন্ন খাবার তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

কচুর মূল: আয়রন ও ক্যালসিয়ামের সর্বোৎকৃষ্ট উৎস হলো কচুর মূল। এটি আমাদের দেশে অতি সহজলভ্য একটি খাবার। আলুর বিকল্প হিসেবেও কচুর মূল খাওয়া যায়। সর্বোচ্চ ভিটামিন ‘ই’ সমৃদ্ধ খাদ্য তালিকার দশ নম্বরে রয়েছে কচুর মূল। প্রতি ১০০ গ্রাম কচুর মূলে রয়েছে ২.৯৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘ই’।

পালং শাক: রান্না করা পালং শাক আয়রন, ক্যালসিয়াম ও খনিজ পদার্থের আধার হিসেবে পরিগণিত হয়। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘ই’। প্রতি ১০০ গ্রাম রান্না করা পালং শাকে রয়েছে ৩.৫৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘ই’।

জলপাইয়ের আচার: ভিটামিন ‘ই’-এর একটি উৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে গণ্য করা হয় কাঁচা জলপাইকে। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা জলপাইয়ের আচারে রয়েছে ৩.৮১ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘ই’।

আগামী পর্বে ভিটামিন ‘কে’…

(তথ্যসূত্র: অনলাইন, অফলাইন হেলথ নিউজস)

☞ লেখকের ই-মেইল:
mahdikhanayon@gmail.com

৯৪৭ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   রাস্তার ছেলে   ❖   সাধারণ রোগীরা কি চিকিৎসা পাচ্ছে?   ❖   বাজেট দিয়ে কী হবে?   ❖   তুরষ্ক পাঠ্যবইয়ে জিহাদ ঢুকিয়েছে, বের করেছে বিবর্তনবাদ   ❖   আরব আমিরাতের করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় ভাইস প্রেসিডেন্টের অনলাইন বৈঠক !   ❖   চার্জ ফ্রি রেমিট্যান্স প্রেরণ সুবিধা চালু করল ব্যাংক এশিয়া   ❖   তিনি কত দয়ালু এবং ক্ষমাশীল   ❖   খিদমাহ ফাউন্ডেশনের চান্দিনায় ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ   ❖   সম্পত্তির লোভে বাবাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত   ❖   করোনা মৃত্যুতে ইউরোপে শীর্ষে ব্রিটেন