All for Joomla The Word of Web Design
ইসলামী জীবন

সব সমস্যার সমাধান

মুহাম্মাদ ইয়াসীন
নিয়মিত লেখক 

অন্ধকার একটা ঘর— নিস্তব্ধ, শ্বাসরুদ্ধকর, নিঃসঙ্গ, অসহায় আপনি। বসে আছেন ঘরের একটি কোণে, মাথা নিচু করে। জীবনের নানান প্রতিকূলতা আপনাকে চেপে ধরেছে। আপনি হাল ছেড়ে দিয়েছেন। কারণ এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো উপায় আপনার জানা নেই। কিন্তু হঠাৎ! স্বর্গীয় কোনো কণ্ঠে ভেসে আসে এক মনোমুগ্ধকর এক আহ্বান, “হাইয়্যা আ’লালফালাহ!” (সাফল্যের দিকে এসো!)

মুসলিম হিসেবে আমাদের দায়িত্ব আছে। যে আল্লাহ তা’আলার পবিত্র কোরআন এবং সুন্নাতের মাধ্যমে আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠ ফেরেশতা জিবরাঈল আ.-এর মাধ্যমে তাঁর পবিত্র বাণী পৌঁছে দিয়েছেন তাঁর শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এবং তিনি আমাদেরকে আমাদের নানান কর্তব্য জানিয়ে দিয়েছেন। রোজা, হজ্জ, যাকাত এসব ফরযগুলো এভাবেই আমাদের কাছে এসেছে। কিন্তু আল্লাহর একটি আদেশ রয়েছে, যা বাকী আদেশ থেকে ভিন্ন।

আল্লাহ যখন আমাদের ওপর নামায ফরয করলেন, তিনি তাঁর ফেরেশতার মাধ্যমে সেই আদেশ পৃথিবীতে পাঠাননি বরং তাঁর প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পৃথিবী থেকে সপ্তম আসমানের উপরে নিয়ে গিয়েছিলেন। যাকে আমরা “লাইলাতুল মে’রাজ” বলি এবং সেই উচ্চতরস্থানে, যেই উচ্চতায় স্বয়ং জিবরাঈল আ. পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি পাননি, সেই মহিমান্বিত স্থানে তিনি তাঁর প্রিয় পাত্রকে ডেকে নিয়েছিলেন। একজন বাবা যখন তার আদরের সন্তানকে বুকে টেনে নিয়ে অত্যন্ত মমতার সাথে কোনো কথা বলেন, তার চাইতেও হাজারো গুণে বেশি মমতা এবং রহমত প্রদর্শন করে, আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সসাল্লামকে তাঁর কাছে টেনে নিয়েছেন এবং আমাকে, আপনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “যেন নামায আদায় করি।”

নামায হচ্ছে এমন একটি ইবাদত, যেখানে আমাদের শরীর এবং অন্তর দুটো মিলে আল্লাহর কাছে নত হয়। শরীর এবং অন্তর উভয়ের দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

আমরা আমাদের দেহকে না খাইয়ে রাখলে বা ক্ষতিকর বস্তু খাওয়ালে আমরা যেমন অসুস্থ হয়ে পড়ি, তেমনি নিয়মিত নামায না পড়লে, আমাদের অন্তর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং বর্তমান সময়ের বেশিরভাগ সমস্যার মূলেই রয়েছে অন্তরের অসুস্থতা।

চারপাশে তাকিয়ে দেখুন!
যাদের দেখলে মনে হয় একজন মানুষের সুন্দর জীবনযাপন করার জন্য যা যা প্রয়োজন সবই তাদের আছে।

তবুও কেন এতো অশান্তি?
তবুও কেন বুকভরা হাহাকার?

বর্তমানে একজন বাবা-মা তার সন্তান ফযরের নামায বাদ দিলে যত না কষ্ট পান, তারচেয়ে লক্ষ্যগুণে বেশি কষ্ট পান পরিক্ষায় “জি. পি. এ. ফাইভ” না পেলে, ভালো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হতে পারলে।

বিয়ের আলাপ দেওয়া হলে শিক্ষা, বংশ ,সম্পদ এসব নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। কিন্তু সম্ভাব্য পাত্র-পাত্রীর আত্মিক পরিপুষ্টতা যাচাই করা হয় না বললেই চলে। এর ফলে একদিকে সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি! ঘরে ঘরে এখন টেলিভিশন,স্মার্টফোন, ফ্রিজ ইত্যাদি থাকাটা খুবই স্বাভাবিক হয়ে গেছে। কিন্তু অন্যদিকে সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে নানান ধরনের সমস্যা। মাদকাসক্তি, ডিপ্রেশন, বিবাহবিচ্ছেদ থেকে শুরু করে, আত্মহত্যা এবং ধর্ষণের মতো গুরুতর ঘটনা এখন প্রতিনিয়তই ঘটছে। দিনে পাঁচবার মুয়াজ্জিনের হৃদয় জুড়িয়ে যাওয়া কণ্ঠ আমাদের আহ্বান জানায় সাফল্যের দিকে ছুটে যাওয়ার জন্য। মুসলিম হিসেবে আমরা জানি এবং বুঝি নামায পড়া আসলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নামাজ পড়লে আমাদের ভালোও লাগে, অন্তরে এক অতুলনীয় শান্তি ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু কোনো না কোনো কারণে আমাদের মধ্যে অনেকেই নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ার অভ্যাসটা গড়ে তুলতে পারছেন না। অথচ যারা নিয়মিত নামায পড়েন, তাঁদের জিজ্ঞেস করলে দেখবেন, তাঁদের জন্য নামায ছেড়ে দেয়াটাই বড় কঠিন। নামাযের ওয়াক্ত গড়িয়ে যেতে থাকলে তাঁদের মনের মধ্যে এক অস্বস্তিবোধ কাজ করতে থাকে।

তাঁরা কী তাহলে এভাবেই জন্মেছেন?
তাদের মস্তিষ্ক কী অন্যদের থেকে ভিন্নভাবে কাজ করে?

বাস্তবে আপনি যদি একওয়াক্ত নামাযও না পড়ে থাকেন, আপনার পক্ষেও সেই অবস্থানে যাওয়া সম্ভব।

আজকে আপনার মনে হচ্ছে; ফজরের নামাজের সময় কাঁচাঘুম থেকে উঠে, ফজরের নামায পড়া অসম্ভব। কালকে আপনারই মনে হবে— ফজরের সময়ে নামায না পড়ে থাকাটাই অসম্ভব।

প্রথমত আমাদের মস্তিষ্ককে বুঝাতে হবে।

আমরা যখন যে কোনো নতুন অভ্যাস গড়ে তুলতে চাই, আমাদের মস্তিষ্কের সেই কাজটার সাথে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগে। আস্তে আস্তে সেই কাজটি আমাদের জন্য আরো সহজ হতে থাকে। একটি পর্যায় এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত সহজ হয়ে যায়। তারপর কাজটা এমন অবস্থায় চলে যায় যে, সেটা না করলেই বরং আমাদের অস্বস্তি লাগে। এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের বৈজ্ঞানিক গবেষণা রয়েছে।
কেউ কেউ বলেন, একটি নতুন অভ্যাস গড়ে উঠতে একুশদিন সময় লাগে। কেউ কেউ বলেন, সাতদিন সময় লাগে।

মূলকথা হচ্ছে, আমাদেরকে বুঝতে যে, প্রথমদিকে নামায পড়তে কষ্ট হলেও যত দিন যাবে নামায পড়াটা ততো সহজ হতে থাকবে। বলা যেতে পারে, তিন থেকে ছয়মাস আমরা নিয়মিত নামায পড়ে যেতে পারি এবং সেই সাথে আল্লাহর কাছে অনেক অনেক দু’আ করি। যেন তিনি আমাদের জন্য নামাযটাকে সহজ করে দেন। তাহলে ইনশা আল্লাহ এটা আমাদের জন্য একটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে।

ভাবছেন, টানা তিন-চারমাস আমি কীভাবে নিয়মিত নামায পড়ব?

ভেবে দেখুন, যারা নামায পড়েন না, কিন্তু রমজান মাসে রোজা রাখে, তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারবেন, “প্রথমদিনের রোজা রাখাটা অনেক কষ্টকর ছিল। কিন্তু উনত্রিশতম দিনে রোজা কোন দিক দিয়ে শেষ হল, টেরই পেলাম না। ”

তাছাড়া আমরা নামাযের অভ্যাসটা ধারাবাহিকভাবে গড়ে তুলতে পারি। আমি যদি বর্তমানে একওয়াক্ত নামায না পড়ে থাকি, তাহলে আমি প্রথমে একটি নামায বাছাই করব। ধরে নিই, মাগরিবের নামায। আমি নিজেকে চ্যালেঞ্জ করব। এখন থেকে যতো যাই হোক না কেন, আমি মাগরিবের নামায মাগরিবের ওয়াক্তেই পড়ব। মানুষিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে যে, প্রথমদিকে কাজটিকে অনেক কঠিন মনে হবে। বিশেষ করে আজকে মাগরিবের নামাজ পড়ে ফেললাম। কিন্তু কালকে তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে অনেক কষ্ট করতে হবে। মসজিদে হোক, ঘরে হোক, রাস্তায় হোক যেই অবস্থাতে আমি থাকি না কেন, আমি মাগরিবের নামাযটা পড়বই। প্রয়োজনে আমি বাসায় একটি ‘চ্যাকলিস্ট’ রাখতে পারি। প্রতিদিন মাগরিবের নামায পড়ব আর সেই চ্যাকলিস্টে একটা করে টিকচিহ্ন দিব।

এভাবে আমি একমাস সফলভাবে, একদিনও বাদ না দিয়ে মাগরিবের নামায আদায় করতে পারি। তাহলে আমি পরের লেভেলে উঠে গেলাম। এখন মাগরিবের পাশাপাশি আসরের নামাযটাও টার্গেট করতে পারি। এভাবে করে আস্তে আস্তে নিয়মিত নামাযের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি। বিস্ময়কর বিষয় হল এই, আপনি যখন এভাবে একটু একটু করে নামায পড়া শুরু করবেন, কেমন করে যেন জীবনের বাকী বিষয়গুলো ঠিক হয়ে যাচ্ছে। মনে হবে, এইতো সেদিনও মনে হচ্ছিল, জীবনে এত সমস্যা, এত বাধা, বিপত্তি। এখন মনে হচ্ছে, জীবনের সবকিছু সুন্দরভাবে গুছিয়ে গেছে। টুকটাক কোনো সমস্যা আসলেও নিজেকে আর অসহায় মনে হবে না। গন্তব্যহীন মনে হবে না।

পরিশেষে আমাদের একটি জিনিস মনে রাখতে হবে; “আমরা যদি মেনে নিই আল্লাহ আমাদের রব এবং পবিত্র কোরআন তাঁর প্রেরিত কিতাব— তাহলে অবশ্যই আমাদের নামায কায়েম করতে হবে।”

শেষ বয়সে গিয়ে পাঁচওয়াক্ত নামায পড়ব, এখনো অনেক সময় বাকী আছে— এ ধরনের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যেন আমরা নিজেদের ধোঁকা না-ই দেই।

কারণ, নামায শুধু আমাদের আখেরাতকেই সুন্দর করবে না, তা শুধু কবরের জীবনকে শান্তিময় করবে না; নামায আমাদের বর্তমানকেও সুন্দর করবে।

আমাদের এই মুহূর্তের যত সমস্যা, যত অশান্তি, যতো বাধা-বিপত্তি, সবকিছুর সমাধান করে দিবে। নামায আমাদের অন্তরের শূন্যতাকে দূরীভূত করে, জীবনের উদ্দেশ্যকে পূর্ণতা দান করবে। তখনই আল্লাহর বান্দা হয়ে, বেছে থাকা আমাদের জন্য স্বার্থক হবে।

আসুন! আমরা আজকে থেকেই এই মুহূর্ত থেকেই অঙ্গীকার করি, আমরা যেন মৃত্যু পর্যন্ত নামায আদায় করতে পারি। যদি মনে যে এটা অসম্ভব, যদি মনে হয় আমাকে দিয়ে এসব হবে না— তাহলে এই লেখা-পড়া শেষ হওয়া মাত্র অজু করে নিন। দুই রাকাত নফল নামায পড়ে নিন। এবং আল্লাহর কাছে মন থেকে দু’আ করুন, যেন তিনি আপনাকে আপনার লক্ষ্য অর্জন করার ক্ষেত্রে সাহায্য করেন। আমি কথা দিচ্ছি, তিনি আপনাকে অবশ্যই পথ দেখাবেন এবং সব অসম্ভবকে সম্ভব করে দিবেন। কিন্তু অবশ্যই আপনাকে প্রথম ধাপটি নিতে হবে।

প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি সেই প্রথম ধাপটি নিতে প্রস্তুত তো?

 

মাই নিউজ/মাহদী

৮ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   আরব আমিরাতে আজমানে আগামীকাল হতে সিনেমা, জিম, সেলুন ও যা যা খোলা হবে !   ❖   রাস্তার ছেলে   ❖   সাধারণ রোগীরা কি চিকিৎসা পাচ্ছে?   ❖   বাজেট দিয়ে কী হবে?   ❖   তুরষ্ক পাঠ্যবইয়ে জিহাদ ঢুকিয়েছে, বের করেছে বিবর্তনবাদ   ❖   আরব আমিরাতের করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় ভাইস প্রেসিডেন্টের অনলাইন বৈঠক !   ❖   চার্জ ফ্রি রেমিট্যান্স প্রেরণ সুবিধা চালু করল ব্যাংক এশিয়া   ❖   তিনি কত দয়ালু এবং ক্ষমাশীল   ❖   খিদমাহ ফাউন্ডেশনের চান্দিনায় ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ   ❖   সম্পত্তির লোভে বাবাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত