All for Joomla The Word of Web Design
বইপত্র

‘আর্গুমেন্টস অব আরজু’ গ্রন্থের পাঠোপলব্ধি

বই: আর্গুমেন্টস অব আরজু
লেখক: আরিফুল ইসলাম
প্রকাশনী: বইপোকা
প্রকাশকাল: নভেম্বর ১৭’
মুদ্রিত মূল্য: ২০০ টাকা
পৃষ্ঠা: ১২৮
পাঠোপলব্ধি লিখেছেন: সালেহ খান বাবলু

উক্তি:
“বিজ্ঞানী নিউটন মুক্তমনার মানুষ না,
অথচ আমাদের দেশে বাংলা সাহিত্যে পড়া মানুষরা মুক্তমনার মানুষ।”
-পৃষ্ঠা: ৬০
(হুমায়ুন আজাদের ‘আমার অবিশ্বাস’ বইয়ের হাস্যকর যুক্তির জবাবে আরজু।)

পর্যালোচনা:
বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দ্বন্দ্বদুর্বিপাকে চারপাশ আজ সরগরম। অবশ্য এই দ্বন্দ্ব নতুন নয়। যুগে যুগেই ছিল। যেখানেই বিশ্বাসের পুষ্প প্রস্ফুটিত, সেখানেই অবিশ্বাসের বীজও অঙ্কুরিত। বিশ্বাসের বাতাসে বারবার গন্ধ ছড়াতে চেয়েছে অবিশ্বাসীরা। কিন্তু প্রত্যেকবারই ব্যর্থ হয়েছে।
কখনো বিশ্বাসীদেরকে যুক্তির করতলে ফেলে, কখনো বিদ্বেষের বিষ বাষ্পিয়ে, আবার কখনো বিশ্বাসের অনুভূতিতে আঘাত হেনে নাস্তানাবুদ করতে চেয়েছে। অবিশ্বাসীদের বিদ্বেষবিষে জর্জরিত হয়েও বিশ্বাসীরা প্রতিরোধ করেছে। ওদের প্রযুক্তির অপব্যবহারের শিকার হয়ে বিশ্বাসীদের ভীতে টনক নড়লেও রুখে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বাসকে পরিচর্যার অভাবে সাময়িকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হলেও বিশ্বাসীরা বরাবরই বিজেতা। অবিশ্বাসীরা যেভাবেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে ফাটল ধরাতে চেয়েছে বিশ্বাসীরা সেভাবেই তাদের পরাহত করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অবিশ্বাসীরা যখন যুক্তি-প্রযুক্তি, জ্ঞান-বিজ্ঞানকে বিশ্বাসীদের বিপক্ষে প্রমাণ করতে চেয়েছে ঠিক তখনই একদল বিশ্বাসী প্রতিহত করেছে। তাঁরা হাতে কলম নিয়েছেন। যুক্তির খণ্ডন করছেন। সজ্ঞানে বিজ্ঞানের আঞ্জাম দিচ্ছেন। সর্বোপরি বিশ্বাসের ভীতকে পাকাপোক্ত করছেন। বিশ্বাসীদের ওপর আজ্ঞেয়বাদীদের উত্থাপিত কিছু প্রশ্ন, কিছু যুক্তি, কিছু সন্দেহ ও সংশয়ের অবসানকল্পেই সংকলিত হয়েছে ‘আর্গুমেন্টস অব আরজু’। বইটি বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবার জন্যই অত্যন্ত ফলপ্রসূ। অবিশ্বাসীরা যদি প্রকৃতপক্ষেই মুক্তমনা হয়, তাহলে তাদের অনেকগুলি সংশয় দূর হবে বইটি পড়ে। ঠিক তেমনি বিশ্বাসীদের ভীত মজবুত হবে বইটি পাঠে।

বইটি গল্পের ভঙ্গিমায় লেখা। লম্বা লম্বা শিরোনামে গল্পগুলো ছোট ছোট হলেও সুখপাঠ্য। গল্পচ্ছলে যুক্তি খণ্ডন করেছেন। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। সাবলীল ভাষায়। বইয়ের প্রচ্ছদ নয়নকাড়া। পৃষ্ঠাগুলো রঙিন। ঝকঝকে। সুন্দর।
বইটির মূল চরিত্র ‘আরজু’।
আরজুর বন্ধুরা বিভিন্ন প্রশ্ন নিয়ে তার দ্বারস্থ হয়। আরজু তার সমাধান দেয়। দূর থেকেও মানুষ আসে তার কাছে। এমনকি আরজু তার স্যারেরও বিভিন্ন যুক্তি খণ্ডন করে। কখনো যুক্তি, কখনো প্রযুক্তি, কখনো তথ্য, কখনো তত্ত্ব, আবার কখনো বিজ্ঞান ও কুরআনের মাধ্যমে ঐসব প্রশ্নের সমাধান দেয় আরজু। ফলে অনেক সংশয়বাদীর সংশয় দূর হয়। অনেক অবিশ্বাসীদের বিশ্বাসের চেতনা জাগ্রত হয়। এবং বিশ্বাসীদের বিশ্বাস দৃঢ়মূল হয়।

আল-কোরআন।
ঐশীগ্রন্থ। মানুষের জীবনপাথেয়। কিন্তু এই কোরআনে গাভী, পিঁপড়া, মৌমাছির মত প্রাণীর নামেও অধ্যায় আছে। ব্যাপারটা নিয়ে যখন অভিজিত্‍ নামের লোকটি হাসা শুরু করল, ঠিক তখন আরজু কোরআনের এই তত্ত্ব-উদ্ঘাটন করে। আধুনিক বিজ্ঞান পিপীলিকাকে কীভাবে দেখছে এর উদাহরণ টেনে কোরআনে পিঁপড়ার রহস্য ভেদ করে। তখন থেমে যায় লোকটার হাসি। ফ্যাকাশে হয়ে যায় চেহারা। এমনই কাহিনি নিয়ে বইটির ‘মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া’ গল্পটি।

‘অনেক মুসলমান নাস্তিক হয়, কিন্তু নাস্তিকরা আস্তিক হয় কি?’ এমন শিরোনামের অধ্যায়টিতে পাওয়া যায় কিছু মূল্যবান তথ্য-উপাত্ত। নাস্তিকরা যখন আস্তিক হয় তা কীভাবে গোপন রাখতে একটি মহল তত্‍পর তা বোঝা যায় গল্পটি পড়ে।

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবিদের হত্যা করেন! সুতরাং ইসলাম ধর্ম কবিতা বিদ্বেষী!
যারা সত্যিই এমন মনে করেন তাদের ভ্রান্তি নিরসনে বইয়ের তৃতীয় গল্পটি।

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কালোজিরা সকল রোগের ওষুধ। তাহলে ক্যান্সার হলে কালোজিরা খাওয়ায় না কেন? এই প্রশ্নের চমত্‍কার জবাব পাওয়া যায় বইটিতে।

হুমায়ুন আজাদের ‘আমার অবিশ্বাস’ বইটি দিয়ে কিছু মুক্তমনা ভাই মোক্ষমভাবে সাফাই গান নিজেদের। অথচ মুক্তমনে পাঠ করলেই বোঝা যায় বইটির যুক্তিগুলো হাস্যকর! একচোখা! শিশুসূলভ! আরজু যখন
‘আমার অবিশ্বাস’ বইটিকে বুকশেলফের জোকস ক্যাটাগরির তাকে রাখে তখন হাসতে হাসতে গড়াগড়ি অবস্থা!
গল্পটা হাসিরও বটে!

মুসলমানরা সাম্প্রদায়িক, কারণ কোরআনে বলা আছে অমুসলিমদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করতে!
এটাকে উপাত্ত বানিয়ে যারা বিদ্বেষ ছড়ায় তাদের বিদ্বেষে তাদেরকেই নিপতিত করে বইটির একটি গল্প।

ইসলামবিদ্বেষীদের উত্থাপিত এমন আরো অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর নিয়ে ‘আর্গুমেন্টস অব আরজু’ বইটি। তাই ইসলামপ্রেমী এমনকি ইসলামবিদ্বেষীদেরও বইটি পড়া অতীব জরুরি। অন্তত সত্যকে জানার জন্য। বিশ্বাসের পথকে আরো বিশ্বস্ত করার জন্য। এবং মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে বাঁচানোর জন্য।

প্রতিক্রিয়া:
আমি দুর্বলচিত্তের মানুষ। স্মরণশক্তি অত্যন্ত দুর্বল। তাই বইটা ভালোভাবে জব্দ ও আয়ত্ত করতে আস্তে আস্তে পড়ব ভেবেছিলাম। কারণ এমন বই আত্মস্থ করা খুব প্রয়োজন। কিন্তু বইটা যখন শুরু করলাম শেষ না করে উঠতে পারিনি। প্রতিটা প্রশ্ন পড়ে যেভাবে উত্‍কণ্ঠায় থাকি, তেমনি উত্তরগুলো পেয়েও খুশিতে গদগদ অবস্থা! আমাদের চারপাশের উপমা দিয়ে লেখক প্রতিটি যুক্তি যেভাবে খণ্ডন করেছেন, সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। কত তথ্যবহুল, কত যুক্তিবিপুল বইটা।
“হুমায়ুন আজাদের ‘আমার অবিশ্বাস’ বইয়ের হাস্যকর যুক্তির জবাব” অধ্যায়টা পড়ে খুব বিনোদন পেয়েছি! হাসতে হাসতে গড়াগড়ি অবস্থা। এত বড় একজন সাহিত্যিক কীভাবে এমন একচোখা ও হাস্যকর যুক্তি দেন! কীভাবে ভুল তথ্য উপস্থাপন করে পাঠককে বিভ্রান্ত করেন! হুমায়ুন আজাদ স্যার আমার প্রিয় লেখকদের একজন। কিছুদিন আগেও উনার ‘আমার অবিশ্বাস’ পড়েছি। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েছি। কিন্তু তখন যুক্তিগুলো হাস্যকর বলে আমার মনে উদয় হয়নি। কিন্তু আরজু যখন আঙুল দিয়ে যুক্তির অসারতা দেখিয়েছে, তখন আমার চোখ খুলল। চেতনা প্রসারিত হলো। তাছাড়া বইয়ের প্রতিটি গল্প পড়েই অত্যন্ত উপকৃত হয়েছি। তাই এমন অসাধারণ বইটির প্রতি কৃতজ্ঞ না থাকলে রীতিমত অপরাধই হবে!

 

মাই নিউজ/মাহদী

২৭ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   আরব আমিরাতে আজমানে আগামীকাল হতে সিনেমা, জিম, সেলুন ও যা যা খোলা হবে !   ❖   রাস্তার ছেলে   ❖   সাধারণ রোগীরা কি চিকিৎসা পাচ্ছে?   ❖   বাজেট দিয়ে কী হবে?   ❖   তুরষ্ক পাঠ্যবইয়ে জিহাদ ঢুকিয়েছে, বের করেছে বিবর্তনবাদ   ❖   আরব আমিরাতের করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় ভাইস প্রেসিডেন্টের অনলাইন বৈঠক !   ❖   চার্জ ফ্রি রেমিট্যান্স প্রেরণ সুবিধা চালু করল ব্যাংক এশিয়া   ❖   তিনি কত দয়ালু এবং ক্ষমাশীল   ❖   খিদমাহ ফাউন্ডেশনের চান্দিনায় ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ   ❖   সম্পত্তির লোভে বাবাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত