All for Joomla The Word of Web Design
উপ-সম্পাদকীয়

কৃতজ্ঞতা মানে দেশ বিক্রি নয়

ফুয়াদ মাকসুদ
অতিথি লেখক, মাই নিউজ

আজ যারা মনে করে, ভারত বাংলাদেশ স্বাধীনতার সময় এগার দিন সহযোগিতা করার কারণে আমাদের সবকিছু তাদের কাছে বিক্রি করে দিতে হবে! তারা যদি রাশিয়া এবং পশ্চিমা বিশ্বের দিকে একটু তাকায়, আশা করি তারা অন্তত বুঝতে সক্ষম হবে যে, কৃতজ্ঞতা মানে দেশ বিক্রি করে দেয়া নয় ৷

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পুঁজিবাদী দেশগুলো কী বলেছিল, রাশিয়ার ঋণ শোধ করতে হবে? ইতিহাস সম্পর্কে যারা ধারণা রাখেন, তারা এটি সকলেই জানেন যে হিটলারের পতন হয়েছিল রাশিয়ার যুদ্ধে জড়ানোর কারণে। রাশিয়ায় ব্যাপক গণহত্যা চালানোর পর যখন তীব্র শীত এসে উপস্থিত হয়, তখন সেখানে অবস্থানরত জার্মান বাহিনী চরম বেকায়দায় পড়ে। এই সুযোগে সোভিয়েত সৈন্যরা শীতে কাবু জার্মানদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে তাদের পরাস্ত করে। নিজ দেশে জার্মানদের পরাস্ত করে সোভিয়েত সৈন্যবাহিনী ট্যাঙ্ক ও অস্ত্রশস্ত্রসহ এগিয়ে যায় জার্মানির দিকে। তখন হিটলারের সামনে দুটি ফ্রন্ট এসে উপস্থিত হয়, ইস্টার্ন ফ্রন্ট এবং ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট। পশ্চিমে ছিল আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স, আজকের বিশ্বের পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলো। এই পশ্চিম ফ্রন্ট কিছুতেই হিটলারকে পরাস্ত করতে পারত না, যদি না পূর্বদিক দিয়ে রাশিয়া এসে আক্রমণ না করত। রাশিয়ার সেনারাই জার্মানির রাজধানী বার্লিনের পতন ঘটিয়েছিল, আমেরিকা-ব্রিটেন এদের সেনারা কিন্তু বার্লিনের পতন ঘটায়নি।

আমাদের দেশে অনেকেই বলে থাকে যে, ভারতের প্রতি নাকি ‘আজীবন’ কৃতজ্ঞ থাকতে হবে একাত্তরের যুদ্ধের জন্য। সেক্ষেত্রে বলতে হয়, কমিউনিস্টরা না এগিয়ে আসলে পুঁজিবাদী সব দেশগুলো যে হিটলারের পেটে যেত, এতে কোন সন্দেহ নেই!  হয়তো আমেরিকাকে পর্যন্ত তার স্বাধীনতা হারাতে হতো। একাত্তরের যুদ্ধে ভারতের বলা চলে তেমন কোন ক্ষতিই হয়নি, রাশিয়ার সাথে তুলনা করলে তো নয়ই। যুদ্ধে ভারতকে তার কোন সিভিলিয়ান হারাতে হয়নি, বিপরীতে শীত আসার আগে রাশিয়ার অভ্যন্তরে লক্ষ লক্ষ মানুষ মেরেছিল জার্মান সেনাবাহিনী। ভারত পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্যবাহিনী পাঠিয়েছিল ৩ই ডিসেম্বর, বিজয়ের মাত্র ১১ দিন আগে। বিপরীতে রাশিয়া জার্মানির সাথে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল সালে যুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত।

এতোকিছুর পরও পুঁজিবাদীরা কমিউনিস্টদের সাথে শত্রুতা পোষণ করেছে ৷ কৃতজ্ঞতা পোষণ তো দূরে বন্ধু বলেও স্বীকার করেনি! বিপরীতে ভারতীয় সেনাদের মাত্র ১১ দিন অবস্থানের উছিলায় নাকি আমাদেরকে ভারতের কাছে মাথা বেচে দিতে হবে! এমনকি কাশ্মীরে ভারতীয়দের অন্যায় আগ্রাসনকেও সমর্থন দিতে হবে। অথচ বঙ্গবন্ধুর চেতনায় বিশ্বাসী, যারা কৃতজ্ঞতা দেখাতে গিয়ে মাথা বেচে দেয়, তাদের মনে রাখা উচিত! বঙ্গবন্ধু এরকম মাথা বেঁচে দেয়ার নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না ৷ যুদ্ধের পর তিনি পাকিস্তানে গিয়েছেন ওআইসি সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য। কারণ আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি অন্য জাতির সাহায্য নিতে পারে, কিন্তু ‘ঋণ শোধ’ করার নামে নিজের আদর্শ ত্যাগ করে নয়।

বঙ্গবন্ধুকে অনেকেই বলেছিল যে, ‘ভারতের ঋণ’ শোধ করার জন্য ওআইসিতে যোগদান করা যাবে না, পাকিস্তানে যাওয়া যাবে না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তা শোনেননি। কারণ পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ হতে পারে, সেই যুদ্ধে ভারত সাহায্য করতেও পারে, কিন্তু আদর্শগতভাবে আমরা অবশ্যই ভারতের বিরোধী ও পাকিস্তানের বন্ধু। কারণ আমরা হলাম মুসলমান। এই কথা যারা মানতে চায় না, তাদের মুখ বন্ধ করার উত্তম উদাহরণ হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উপরোক্ত ইতিহাসটি!

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   মানুষ কি ‘বিবেকবান প্রাণী’?   ❖   তদবির ও ভিপি নুরের টাকা লেনদেনের ফোনালাপ ফাঁস (অডিও)   ❖   নেদারল্যান্ডসকে প্রধানমন্ত্রী: মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করুন   ❖   নান্দনিক এক মসজিদ উপহার   ❖   ‘মজলিসে দাওয়াতুল হক’-এর ইজতেমায় আমন্ত্রণ   ❖   আব্বু, আমিও পড়ব   ❖   ডিএমপি’র ১৮ পুলিশ পরিদর্শককে বদলি   ❖   ওবায়দুল কাদেরকে পুলিশ ছাড়া রাজপথে নামার চ্যালেঞ্জ   ❖   ধনেপাতা ইনসুলিন, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণসহ ৭ রোগের মহৌষধ   ❖   আবারো সেই হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু!