All for Joomla The Word of Web Design
ধর্ম-দর্শন

র‍্যাগ ডে: বিজাতীয় সংস্কৃতির নতুন উম্মাদনা

ফারজানা আফরিন আমাতুল্লাহ
লেখিকা, মাই নিউজ।

র‍্যাগ ডে। যারা কলেজ ইউনিভার্সিটিতে পড়েন তারা খুব ভালো ভাবেই এই বিশেষ দিনটির সাথে পরিচিত। এইটা আজকের নব্য জাহেলিয়াতের এর আরেক নাম। বিজাতীয় সংস্কৃতি হোলির একাডেমিক মডার্ন ভার্সন। যেখানে স্টুডেন্ট সব রঙ সেজে সঙ্গ মেতে উঠে শারীরিক উন্মাদনায়। মজার আর ইউনিক ব্যাপার হলো এর উপকরণ হিসেবে থাকে হিন্দি গান, (বালাম পিচকারী), পাঁচ আঙুলে পাঁচমিশালী রং যা শুষ্ক দেহভোগে কাজে লাগে, নাচা-গান আর আয়েশের খাশিয়াত। আরেকটা ব্যাপার হলো এইখানে সবাই সবাইকে গালে মুখে শরীরে রং লাগাতে পারে, কেউ নিষেধ করতে পারে না, কেননা এর মূল কথা হচ্ছে হোলিকে মানা করা যাবেনা, করলে অশুভ হয় আগামী বছর।

ভেবে দেখুন খুব নেকীর কাজ তাই না! আমাদের ছেলে মেয়েদের অভিভাবকরা সকালে খাইয়ে পাঠিয়ে দেওয়া পর্যন্ত শেষ, খোজ নেয়ার প্রয়োজন নাই তার আদরের দুলাল দুলালীরা কোথায় অবকাশ যাপন করছে অভিভাবকদের কোন ভাবনা-ই নেই, যেন দায়িত্ব শেষ। আর যাদের কাধে কর্তৃত্ব দিচ্ছেন তারা সময়ের ভারে নুয়ে গেছে। শিক্ষকরা তাদের অ্যাপ্লিকেশন sing করে অনুমতি দিচ্ছেন। বলি ওহে শিক্ষাগুরু! এ কী করলেন শুরু? আপনারা কোনকিছুই থামাতে পারেননা দেখছি। না পারেন প্রশ্নপত্র ফাঁস থামাতে, না পারেন ফিতনা থামাতে, না পারেন জ্বিনা-ব্যভিচারের দ্বার বন্ধ করতে, শুধু পারেন বিবাহকে বাল্যবিবাহ বলে ভালো একটা কাজ থামিয়ে দিতে। আর আজকাল বোরখা পড়া নিকাব পড়া নিয়ে মন্তব্য করছেন। যেনো ছাত্রীর মুখ দেখে পড়া বলে শিখানো যাবে। অথচ ব্যাভিচারকে এরাই উন্মুক্ত করে দিয়েছে। স্বাধীনতার নাম ভাঙিয়ে বিশেষ সুবিধা দিয়ে নারীদের ভোগ্য পণ্য বানিয়ে সাজাচ্ছে বিশ্ব মহলে। তারা ভুলে গেছে যে, যা কিছুই মানুষকে ব্যভিচারের দিকে প্রলুব্ধ ও উদ্যোগী করতে পারে, তার সবগুলোকেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে কুরআনের নিম্নলিখিত আয়াতের দ্বারা: “তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। অবশ্যই এটা অশ্লীল কাজ ও নিকৃষ্ট পন্থা।” [সূরা বনী ইসরাঈল: ৩২]

আরো আফসোসের কথা হচ্ছে উপজেলা পর্যায়ের সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও বাদ যায়নি এই বিজাতীয় আগ্রাসন থেকে। স্কুল যেখানে বাচ্চাদের নাক টিপলে দুধের ঘ্রাণ যায়নাই। তারা কিনা এই দিন পালনে ব্যস্ত, তাদের আবার ফেসবুক পোস্ট দেখে বুঝা যায় কতটা আনন্দ ফিল করতে পারে। আস্তাগফিরুল্লাহ! কিছুদিন আগেই দেখলাম সাদা ড্রেসে সার্ফ এক্সেলে ধোয়ার যোগ্য পাঁচমিশালী রং মেখে ভীড়ে মিলেমিশে যাচ্ছে যুবক-যুবতীরা। এদের মাঝে তখন ধর্ষনের কোনো ভঁয় থাকেনা কারণ হোলি মনে একটু ছোয়া। তাদের চোখেমুখে নানা ঢং, সেজেছে জংলী সং, লাগিয়েছে যেন হোলির রং। নিজেদের তারা ওই মুহূর্তে সর্গের অধিবাসী মনে করেন। এর মধ্যে চলে নানান কোমল পানীয় পান। আস্তাগফিরুল্লাহ!

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “আমার উম্মাতের মধ্যে কিছু লোক হবে যারা ব্যভিচার, রেশমী বস্ত্র, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল বলে মনে করবে।” [বুখারী]

এই বিষয়ে বলতে গেলে বলা যায় যে বিজাতীয় যে কোনো কিছু যে ধ্বংসের মূল তা আর বলতে দ্বিধা নেই। -আবু দাঊদে একটা মাশহূর হাদীস রয়েছে। “মান তাশাব্বাহা বি-ক্বাউমিন ফা-হূয়া মিনহুম” “যে কোন জাতির অনুসরণ করল সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত”। ভাবতে অবাক হচ্ছি তবে সত্য যে ,কোন মুসলিম ঘরের সন্তানেরা এরুপ করতে পারেনা। পারেনা আল্লাহর রং বাদ দিয়ে গইরুল্লাহর রঙ গায়ে মনের আবেশে মাখতে। পারেনা অবাধে শুষ্ক উন্মাদনার স্বাদ নিতে, পারেনা গান বাজনা আর বাদ্যযন্ত্রের অমোঘ তালে শরীরের ভাঁজগুলিতে ঢেউ তুলে অবাধে কাউকে কাছে ডাকতে।

“(তোমরা বল) আমরা আল্লাহর রং গ্রহণ করেছি। আল্লাহর রং এর চাইতে উত্তম রং আর কার হতে পারে? আমরা তাঁরই এবাদত করি।” [সূরাহ আল বাক্বারাহ আয়াত : ১৩৮]

আল্লাহর রং হলো “মুসলিম”, এই রং উপেক্ষা আর কার রং উত্তম হতে পারে? আজকাল হিজাব করেও অনেক বোনকে দেখছি এই হোলিকে স্বাগতম জানাচ্ছে, বোন আজকে যে দ্বীনদারিতা আপনাকে আপনারই বিনোদনের নাম করে “জাস্ট ফান” নামক হাসি খুশি বাক্য সহ অশ্লীল মজা হতে নিরাপদ রাখতে পারে না, তাহলে বলবো সে দ্বীনদারিতাকে ইসলামের ‘দ্বীন’ শব্দ দ্বারা কলংকিত করবেন না। এক্ষেত্রে যার অন্তর দ্বীনের আলোয় আলোকিত থাকে, তার ভিতরের অবস্থা অশ্লীলতার অন্ধকার রাজ্যে কখনো এক চুল পরিমানও ঘেঁষতে পারে না আলহামদুলিল্লাহ।

বিখ্যাত মুসলিম পণ্ডিত ইমাম ইবনে তাইমিয়া এ সম্পর্কে বলেন: “উৎসব-অনুষ্ঠান ধর্মীয় বিধান, সুস্পষ্ট পথনির্দেশ এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেরই একটি অংশ, যা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: ‘তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই আমি একটি নির্দিষ্ট বিধান এবং সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করেছি।’ [আল-মায়িদাহ :৪৮]

‘প্রতিটি জাতির জন্য আমি ধর্মীয় উপলক্ষ নির্দিষ্ট করে দিয়েছি যা তাদেরকে পালন করতে হয়।’ [আল-হাজ্জ্ব :৬৭]

অপরদিকে জেনে রাখা উচিত মুসলিমদের উৎসব হচ্ছে ইবাদতের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। এই বিষয়টি বুঝতে হলে ইসলামের সার্বিকতাকে বুঝতে হবে। ইসলাম কেবল কিছু আচার-অনুষ্ঠানের সমষ্টি নয়, বরং তা মানুষের গোটা জীবনকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী বিন্যস্ত ও সজ্জিত করতে উদ্যোগী হয় ইসলাম। তাই একজন মুসলিমের জন্য জীবনের উদ্দেশ্যই হচ্ছে ইবাদত, যেমনটি কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা দিচ্ছেন: “আমি জ্বিন ও মানুষকে আমার ইবাদত করা ছাড়া অন্য কোন কারণে সৃষ্টি করিনি।” [সূরা যারিয়াত:৫৬]

এই সব আমাদের সংস্কৃতি হতে পারেনা, আর মুসলিমের তো কোনো মতেই হতে পারেনা, কেননা মুলিম মানে ই হলো আল্লাহভীরু। কোনো মুসলিম বিজাতীয় ও অনুষ্ঠানে সাহায্য সহযোগিতা করা জায়েজ মনে করেন না।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ ‘’তোমরা সৎ ও তাকওয়ার কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করো। এবং পাপ ও অন্যায় কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর’’ [মায়িদাহ:২]

আপনি হয়তো বলতে পারেন, শয়তান প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আমাদের বিপথে চালিত করতে, জি একদম সত্য, তাই হয় অনেক সময়। হ্যাঁ বলতেই পারেন শয়তান এর কবলে পড়ে কিছুটা হতে পারে তাই বলে সবসময়? শুধরানোর তো পথ আছে, তওবা করার তো উপায় আছে, ক্ষমার তো উছিলা আছে,তাহলে নিয়মিত অশ্লীলতার কাদা মাখামাখি কেনো করছেন? বিজাতীয় উৎসবের রঙে নিজেকে কেনো রঙ্গাচ্ছেন? আল্লাহর রং রেখে অন্য রঙে কেনো বুদ হচ্ছেন? উত্তর তো আপনাদের রেডি আছে তাই না!

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   মানুষ কি ‘বিবেকবান প্রাণী’?   ❖   তদবির ও ভিপি নুরের টাকা লেনদেনের ফোনালাপ ফাঁস (অডিও)   ❖   নেদারল্যান্ডসকে প্রধানমন্ত্রী: মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করুন   ❖   নান্দনিক এক মসজিদ উপহার   ❖   ‘মজলিসে দাওয়াতুল হক’-এর ইজতেমায় আমন্ত্রণ   ❖   আব্বু, আমিও পড়ব   ❖   ডিএমপি’র ১৮ পুলিশ পরিদর্শককে বদলি   ❖   ওবায়দুল কাদেরকে পুলিশ ছাড়া রাজপথে নামার চ্যালেঞ্জ   ❖   ধনেপাতা ইনসুলিন, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণসহ ৭ রোগের মহৌষধ   ❖   আবারো সেই হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু!