All for Joomla The Word of Web Design
ধর্ম-দর্শন

কোরবানী: তাকওয়া অর্জনের অন্নতম একটি মাধ্যম

উম্মে হাবীবা
নিয়মিত লেখিকা, মাই নিউজ।

যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান সত্তার যিনি আমার ও আপনার রব। তিঁনি তাঁর বান্দাদের দান করেছেন অসংখ্য নিয়ামতরাজি যেগুলোর কখনো কোনোদিনও পরিপূর্ন হিসাব দেওয়া সম্ভব নয়। অসংখ্য দরুদ ও সালাম পেশ করছি প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর। আল্লাহ্‌ আমাদের দুইটি উৎসব-ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা নিয়ামত হিসেবে দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ্‌। এই উৎসবগুলোতে যেমন আনন্দ করার অনুমতি আছে ঠিক তেমনি কিছু নির্দিষ্ট ইবাদাহ ও আছে করার জন্য। ঈদুল ফিতরের বিষয়ে অন্য একদিন জানবো ইন শা আল্লাহ্‌। আজকে উযহিয়্যাহ বা কোরবানী সম্পর্কে কিছু জানব ইন শা আল্লাহ্‌।

কোরবানীর প্রচলন হয়েছিলো আমাদের পিতা আদম আলাইহিস সালামের পুত্রদ্বয়ের মাধ্যমে। এছাড়াও ইবরাহীম আলাইহিস সালামের এক অপূর্ব ঘটনার মধ্য দিয়ে এর মাহাত্ম্য বুঝতে পারি। ঘটনাটা আমরা সবাই কম বেশি জানি। কীভাবে তিনি স্বীয় পুত্র ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে আল্লাহর জন্য কুরবান করতে চেয়েছিলেন। পুত্র ও পিতার সিধান্তে একমত ছিলেন, অনড় ছিলেন।

فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ ٱلسَّعْىَ قَالَ يَٰبُنَىَّ إِنِّىٓ أَرَىٰ فِى ٱلْمَنَامِ أَنِّىٓ أَذْبَحُكَ فَٱنظُرْ مَاذَا تَرَىٰۚ قَالَ يَٰٓأَبَتِ ٱفْعَلْ مَا تُؤْمَرُۖ سَتَجِدُنِىٓ إِن شَآءَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلصَّٰبِرِينَ

অতঃপর সে যখন তার পিতার সাথে কাজ করার মত বয়সে উপনীত হল তখন ইবরাহীম বললঃ বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে আমি যবাহ করছি, এখন তোমার অভিমত কি, বল। সে বললঃ হে আমার পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তাই করুন। আল্লাহ ইচ্ছা করলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন।{সূরা আস-সাফফাত:১০২}

কতটা ইখলাস, কতটা ঈমান, কতটা আন্তরিকতা থাকলে একজন মানুষ পারে সুবহানআল্লাহ! উনাদের(আলাইহিমুস সালাম) ঘটনা পড়লেই কিছুটা হলেও আঁচ করা যায়। অপরদিকে মহান রব তিনি তো রহমানুর রহীম তিঁনি তাঁর বান্দাদের সাময়িক সময়ের জন্য পরীক্ষা করেন আর এর বিনিময়ে অসংখ্য নি’য়ামতসমূহ দান করেন। তিঁনি ইসমাঈল আলাইহিস সালাম এর পরিবর্তে একটি পশুকে স্থলাভিষিক্ত করে দিলেন আর এরপর থেকেই আমাদের জন্য কোরবানী আবশ্যক করা হলো আলহামদুলিল্লাহ্‌। প্রতি বছর কোরবানী আসে যাতে আমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারি। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গরু, ছাগল, উট,দুম্বা, ভেড়া ইত্যাদি কুরবানী করে থাকে আলহামদুলিল্লাহ্‌।

মহান আল্লাহ বলেন, অর্থাৎ, আল্লাহর কাছে কখনোও ওগুলির গোশত পৌঁছে না এবং রক্তও না; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া (সংযমশীলতা); {সূরা হাজ্জ:৩৭}

আচ্ছা কখনো কি ভেবেছেন? এত কষ্টের টাকাগুলো দিয়ে কোরবানী দেওয়ার পরেও সেটা সঠিকভাবে সম্পন্ন হলো না কিংবা আল্লাহ আদৌ কবুল করলেন কিনা? আল্লাহ্‌ কবুল করবেন নাকি করবেন না এটা সম্পূর্ণ গায়েবী বিষয় তবে কিছু কর্মকান্ডের দ্বারা হয়তো কিছুটা আঁচ করা যেতেই পারে। কয়েকটা ঘটনা জেনে নেই যেগুলো প্রতি কোরবানীতে অহরহ হয়ে থাকে-

১. প্রায়ই দেখা যায় কোরবানীর পশুর দাম নিয়ে কথা বলা হয়। হারা-জিতা নিয়ে তর্ক বিতর্ক হয়। জিতেছেন, ঠকেছেন শুনতে শুনতে মনক্ষুন্নও হয় আবার বিরক্তবোধ ও হয়। আচ্ছা একজন মুমিন তো আল্লাহর উপর,তাকদীরের উপর ভরসা করে। তার কাছে কুরবানীর কবুলিয়াত ই হচ্ছে প্রকৃত জয়। এই সাধারণ বিষয়টা তো আমাদের জানাটা আবশ্যক।

২. অনেক সময় কুরবানীর পশুর শারীরিক দুর্বলতা দেখার পরেও কম দামে পাওয়া যাচ্ছে বিধায় অনেকে কিনে ফেলছেন।আপনি জানেন কি?কুরবানীর পশু একদম সুস্থ সবল হতে হবে। (ক) এক চোখে স্পষ্ট অন্ধত্ব। (খ) স্পষ্ট ব্যাধি। (গ) স্পষ্ট খঞ্জতা। (ঘ) অন্তিম বার্ধক্য। এ ব্যাপারে আল্লাহর রসূল (সা.) বলেন, ‘‘চার রকমের পশু কুরবানী বৈধ বা সিদ্ধ হবে না; (এক চক্ষে) স্পষ্ট অন্ধত্বে অন্ধ, স্পষ্ট রোগা, স্পষ্ট খঞ্জতায় খঞ্জ এবং দুরারোগ্য ভগ্নপদ।’’ [1] অতত্রব এই চারের কোন এক ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারা কুরবানী সিদ্ধ হয় না।

ইবনে কুদামাহ (রহ.) বলেন, ‘এ বিষয়ে কোন মতভেদ আমরা জানি না।’ [2] {1(আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ) [2] (মুগনী ১৩/৩৬৯)} এই বিষয়টুকু তো ভাবনার নদীতে ঢেউ তুলতে সক্ষম যে কুরবানী আমরা এমন এক সত্তার সন্তুষ্টির জন্য দিচ্ছি যিঁনি সমগ্র বিশ্বজাহানের রব, যাঁর কোনো কিছুর কমতি নেই। তাঁর জন্য তো সবচাইতে ভালো জিনিসটাই তো উৎসর্গ করা উচিত আমাদের।হায় আফসোস কবে বুঝবো আমরা।

৩. রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদাত একটি ভয়ঙ্কর জিনিস। অনেকে মনে করে কোরবানী না দিলে তাদের মান, সম্মান, ইজ্জত চলে যাবে তাই বাধ্য হয়েই কুরবানী দেয়। এখানে সে আল্লাহ্কে ভয় করলে না কিংবা তাঁর সন্তুষ্টির জন্যও কোরবানী করলো না বরং মানুষকে ভয়ের জন্য বা দেখানোর জন্য করলো। এই কোরবানী কি সত্যিই আল্লাহর কাছে গ্রহনযোগ্য? ভাবার চিন্তা আপনার।

৪. যারা কেবল বেশী করে গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে কোরবানী দেয় অথবা লোক সমাজে নাম কুড়াবার উদ্দেশ্যে মোটা-তাজা অতিরিক্ত মূল্যের পশু ক্রয় করে এবং তা প্রদর্শন ও প্রচার করে থাকে তাদের কুরবানী যে ইবাদত নয় -তা বলাই বাহুল্য।

৫. আবার অনেকে আছে যাদের গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্য থাকে বলেই লোকে একই মূল্যের একটি গোটা কোরবানী না দিয়ে একটি ভাগ দিয়ে থাকে। বলে, একটি ছাগল দিলে দু’দিনেই শেষ হয়ে যাবে। লোকের ছেলে-মেয়েরা খাবে, আর আমার ছেলে-মেয়েরা তাকিয়ে দেখবে? উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট। এমন আরো অনেক ঘটনা আছে যেগুলো প্রতিনিয়ত হয়ে থাকে কিন্তু এই কথাগুলোর জন্য আমাদের নিয়্যাতে যে কতবড় পরিবর্তন হচ্ছে তা যদি জানতাম! অবস্থা এমন হয়েছে যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানী না দিয়ে নিজের খায়েশাতকে প্রাধান্য দিচ্ছি আমরা। বস্তুত তাকওয়া -আল্লাহ ভীতি অর্জনের জন্যই এই কোরবানী। হারাম খাদ্য, হারাম টাকা দিয়ে দিব্যি সবচেয়ে বড় পশুটা কিনে লোকদের দেখিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে ভাবছি আমাদের কোরবানী তো কবুল হয়ে গিয়েছে। কুরআনটা কবে খুলে দেখবো আল্লাহ্‌ কি বলেছেন?

আল্লাহ্‌ রাব্বুল আ’লামীন বলেন- আল্লাহ তো মুত্তাক্বী (পরহেযগার ও সংযমী) দের কোরবানীই কবুল করে থাকেন। {সূরা মায়িদাহ ২৭ আয়াত}

হায় আমরা কবে বুঝবো? সময় যে আর বেশি নেই! হয়তো কাল হাশরের মাঠে দেখা যাবে শূন্য হাতে এসে দাঁড়িয়েছি রবের সামনে! কি জবাব হবে সেদিন? পরিশেষে ইখলাসের সহিত, তাকদীরের উপর বিশ্বাস রেখে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই যেন আমাদের সকল কোরবানী, ত্যাগ গুলো হয়। আল্লাহ্‌ আমাদের সকলের কোরবানী কবুল করুন। আমীন।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   নবজাতক জন্ম—পরবর্তী করণীয় সম্পর্কিত ইসলামি নির্দেশনা   ❖   বাংলাদেশি বশির মালয়েশিয়ার মাহসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি   ❖   ৫০ হাজার ধার দিয়ে লিখে নেন আড়াই কোটি টাকার চেক   ❖   একই পরিবারের ৩ জনের লাশ উদ্ধার বরিশালে   ❖   রুম্পার সারা শরীরের হাড় ভাঙ্গা   ❖   দেশের সব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেবে সরকার   ❖   মানুষের মতো বাচ্চা জন্ম দিল ছাগল!   ❖   নারীদের গণপরিবহনে চলাচল: পুলিশের ৯ পরামর্শ   ❖   “কুরআন-সুন্নাহর আলোকে মাযহাব” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন   ❖   বিএনপি যে ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে, তা ক্ষমার অযোগ্য