All for Joomla The Word of Web Design
বাছাই খবর

পেঁয়াজ নিয়ে যত তুঘলকি কাণ্ড

১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নূরুল আমিন। জনশ্রুতি আছে- তার আমলে নাকি লবণের দাম বেড়ে ১৬ টাকা সের হয়ে যায়। সে যুগে এটি ছিল অভাবিত ব্যাপার। এ কারণে মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিনের নাম নাকি ষোলো টাকার নূরুল আমিন হয়ে গিয়েছিল। জানি না কথাটা কতটা সত্য।

ইতিহাসের বই থেকে জোরালো সাক্ষ্য পাইনি; কিন্তু এবারে বাংলাদেশে পেঁয়াজকাণ্ড নিশ্চয়ই ইতিহাসে জায়গা করে নেবে। পেঁয়াজের দাম গেল সপ্তাহে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বেড়েছে। অভাবিত! দাম বাড়ার ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা নানা রকম যুক্তি দেখান।

প্রধান যুক্তি চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম; কিন্তু আমাদের গোবর মাথায় কুলোয় না যে, তাহলেও ঘণ্টায় বিশ থেকে চল্লিশ টাকা কেজিতে বেড়ে যায় কীভাবে! কদিন আগে যুগান্তরে প্রকাশিত রিপোর্টে একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপন্ন হয় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন।

বাকি ৮ থেকে ৯ লাখ টন আমদানি করতে হয়। গেল অর্থবছরে ১২ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। তাই হিসাবমতো পেঁয়াজের ঘাটতি থাকার কথা নয়। সব ঠিকঠাকই চলছিল। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাথায় হয়তো ততটা দুর্বুদ্ধি হতো না যদি সেপ্টেম্বরে ভারত হঠাৎ করে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে না দিত।

সুযোগের সদ্ব্যবহার করে দাম বাড়ানোর দক্ষতা এ দেশের ব্যবসায়ীদের মতো আর কোনো দেশে আছে কি না জানি না। তারা রোজা এলে দাম বাড়ায়, কোনো পর্বে বৃষ্টিতে, খরায়- নানা অসিলায়ই দাম বাড়ায়। এ অভ্যাস অনেক পুরনো।

আমি এক সময় ছড়া লেখার চেষ্টা করতাম। ১৯৭৭-৭৮ সালে একবার এখনকার মতো না হলেও লাগামহীন দাম বেড়েছিল পেঁয়াজ এবং মরিচের। তখন কাগজে প্রকাশিত আমার একটি ছড়া বেশ পাঠক-প্রিয়তা পেয়েছিল। ছড়াটি উল্লেখ না করলে কথার যোগসূত্র পাওয়া যাবে না। কারণ ছড়াটি যেন এ সময়েও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। পাঠকের কাছে ক্ষমা চেয়েই ছড়াটি এখানে যুক্ত করলাম।

পেঁয়াজ মশাই চাঁদে গেছেন
মরিচ সাহেব মঙ্গলে
কেউ বা বলেন লাশ হয়ে সব
আছে পরে জঙ্গলে

এসব দেখে আমলারা কন
ব্যাপারখানা মন্দরে
ঋণের টাকায় বস্তা পচা
আনেন আবার বন্দরে।

কিন্তু কথা হচ্ছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ ব্যর্থতা ঢাকব কেমন করে। এটি নতুন নয় যে নতুন পেঁয়াজ ওঠার আগে একটি সাময়িক সংকট তৈরি হয়। ধরে নিচ্ছি এসব ভেবেই আমদানি করা হয়েছিল আগেভাগেই। এ দেশের ব্যবসায়ীদের চরিত্র তো জানাই আছে। সুযোগ পেলেই দাম বাড়াবে।

তাই ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করলে সঙ্গে সঙ্গে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা যেত। মজুদদারদের মজুদ থেকে টেনে বের করা যেত পেঁয়াজের বস্তা। এতে আখেরে ব্যবসায়ীদেরই উপকার হতো। কারণ কাগজে দেখলাম পচনশীল পেঁয়াজ মজুদ করতে গিয়ে এখন খাতুনগঞ্জের অনেক ব্যবসায়ীর পেঁয়াজ পচে গেছে।

ফেলে দিতে হচ্ছে চাকতাই খাল আর কর্ণফুলী নদীতে। নিন্দুকরা বলে, এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে নাকি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যবসায়ীরা রয়েছেন। তাই একদিকে বড়বড় শুদ্ধি অভিযান চললেও এখানে ব্যর্থ সরকারি প্রশাসন। সংকট তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি পদক্ষেপও ছিল। মিয়ানমার, মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ এসেছে।

ভারতও কিছুটা দিয়েছে। তবুও অবস্থা উন্নতির বদলে অবনতিই হচ্ছে দিন দিন। জানা গেল, মিসরের পেঁয়াজ নাকি কেনা পড়েছে ২২-২৩ টাকা কেজি দরে। সে পেঁয়াজ কোন যুক্তিতে ২০০ টাকার বেশি কেজি দরে বিক্রি হবে? তাহলে কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্যের রসদ কার কার পকেটে যাচ্ছে তা অনুসন্ধান জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ লেখাটি যখন তৈরি করছি তখন অনলাইন কাগজে দেখলাম, খুলনায় পেঁয়াজের দাম ৩০০ টাকায় পৌঁছে গেছে। দু’দিন আগে একটি জাতীয় দৈনিকে পেঁয়াজ নিয়ে সচিত্র রিপোর্ট দেখলাম। পেঁয়াজ বিক্রেতা কাগজ সেঁটে দিয়েছেন ‘পেঁয়াজের হালি ২০ টাকা’। এখন বোধহয় ২০ টাকায়ও কুলোবে না, মূল্যবৃদ্ধির নতুন সাইনবোর্ড টানাতে হবে।

আশঙ্কা হচ্ছে পেঁয়াজ না আবার জাদুঘরে প্রদর্শনীর বস্তুতে পরিণত হয়। একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে- ‘এমনিতেই নাচুনি বুড়ি/তার মধ্যে ঢোলের বাড়ি।’ একদিকে মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে প্রচুর পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে।

বন্দরেও একে একে ভিড়ছে জাহাজ। অথচ মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী মহোদয় জানালেন পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকার নিচে নামবে না। এ ঢোলের বাড়ির পর অসাধু ব্যবসায়ীদের ঘণ্টায় ঘণ্টায় দাম বাড়িয়ে রেকর্ড সৃষ্টিতে আর কোনো দ্বিধা থাকেনি।

আমাদের মাননীয় মন্ত্রীদের অনেকে দফায় দফায় আশ্বস্ত করছেন আর ক’দিনের মধ্যেই পেঁয়াজের দাম কমে যাবে; কিন্তু এ ক’দিনের সীমা-পরিসীমা নেই। অনেকটা বিএনপির কথিত আন্দোলনের মতো। বিএনপি নেতারা দু’বছর ধরেই বলে যাচ্ছেন তাদের ‘দেশনেত্রী’কে মুক্ত করতে আন্দোলন গড়ে তুলবেন। এখনও তারা একই কথাই বলছেন।

বাস্তবে তাদের ‘আন্দোলন’ একটি কান-সওয়া শব্দে পরিণত হয়েছে! তবে পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার কিছুটা ব্যবস্থা নিয়েছে। সংকট মেটাতে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ এনে টেকনাফের ঘাটে ভিড়ল। স্থলবন্দর দিয়ে আংশিক পেঁয়াজ এলো ভারত থেকে। মিসর, চীন থেকে পেঁয়াজ এসে নামল সমুদ্রবন্দরে।

এরপরও মূল্য কমা তো দূরের কথা- বাড়তে থাকল ধাপে ধাপে। সংকটে পড়লে টিসিবির মাধ্যমে ট্রাকে ট্রাকে সস্তায় দ্রব্য বিক্রির রেওয়াজ আমাদের। এর উদ্দেশ্য কী আমি জানি না। এতে কখনও কি বাজার নিয়ন্ত্রণ করা গেছে? কেমন করে যাবে! দেশের কত শতাংশ মানুষ এর সুবিধা পায়? এ অণুবীক্ষণিক সংখ্যায় বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নেই!

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বরাবরের মতো আর কদিন অপেক্ষা করতে বলেছেন। তার মতো সবাই জানেন এখন নতুন পেঁয়াজ নামবে। সুতরাং স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম কমতে থাকবে। এতে সরকারের কৃতিত্বের কিছু নেই।

তবে সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কুলোতে না পেরে এবার জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে। কার্গো বিমানে করে মিসর আর তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আসছে। এতে হয়তো কিছুটা সুফল মিলতে পারে। তবে মূল্যবৃদ্ধির পাহাড় থেকে পেঁয়াজ যে মাটিতে নেমে আসবে এমনটা বোধ হয় না। টিভিতে দেখলাম কোথাও কোথাও নতুন পেঁয়াজ নেমেছে।

এ সময় বরাবর আমরা দেখেছি পুরনো পেঁয়াজের দাম হয়ে যায় ৩০-৪০ টাকা আর আর নতুন পেঁয়াজ হয় ৫০-৬০ টাকা। আর বর্তমান বাস্তবতায় স্বাভাবিকভাবেই যেন এখন নতুন পেঁয়াজের দাম হাঁকা হচ্ছে ১৪০-১৮০ টাকা কেজি। এ দেশে দাম যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। এই যেমন সাম্প্রতিক চালের বাজারের অস্থিরতা।

নতুন চাল নামছে। এখন চালের দর নেমে যাওয়ার কথা। অন্তত সরকার কৃষকের কাছ থেকে যে দরে ধান কিনছে এর সঙ্গে দামের সমন্বয় থাকার কথা; কিন্তু হঠাৎ করে কমার বদলে কেজি প্রতি ৬-৮ টাকা বেড়ে গেল।

এর কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। আর এখন তো কেজিতে আটআনা-এক টাকা বাড়ে না। পাঁচ টাকা ১০ টাকা বেড়ে যায়। কারণ রাষ্ট্রের কোনো শাসন নেই। রয়েছে প্রভাবশালীদের ক্ষমতা।

আমার মনে হয়, চালের চালবাজির পেছনে পেঁয়াজের ভূমিকা রয়েছে। চাল ব্যবসায়ী তথা মিলাররা যখন দেখল পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের বন্ধুরা আকাশচুম্বী দাম বাড়িয়েও বহাল তবিয়তে আছে, তাহলে তাদের আর রোখে কে! তাই টিভি সংবাদে দেখছি একদিকে নতুন ধান উঠছে, মাড়াই হচ্ছে, অন্যদিকে চালের বাজার উত্তপ্ত হচ্ছে। আসলে এ দেশে অর্থনীতির কোনো সূত্রই কার্যকর থাকে না।

এতদিন ভাবতাম সরকারের চেয়ে শক্তিমান পরিবহন শ্রমিক আর মালিকরা। পরিবহন চালকরা আসুরিক দাপট দেখিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষ খুন করবে আর তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করলে বা আইন পাস করলে তারা গাড়ি-ঘোড়া বন্ধ করে সড়ক অবরোধ করবে।

মানুষের অবর্ণনীয় কষ্ট হবে। তখন অনন্যোপায় সরকার নতি স্বীকার করে আপস করবে; বা করতে বাধ্য হবে। এখন তো দেখছি তাদের চেয়েও কম শক্তিমান নন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। সরকার ঘর্মাক্ত হয়ে যাচ্ছে; কিন্তু তেমন সুফল আসছে না। বরঞ্চ নিয়ন্ত্রণের লাগাম আরও হাতছাড়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক দৈন্যের কারণে অনেকদিন থেকেই এ দেশের রাজনীতিতে রাজনীতিকদের বদলে ব্যবসায়ী আর আমলারা সবল হচ্ছেন। নানা প্রণোদনা পেয়ে শক্তিমান হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। রাজনীতিতে আছেন- মন্ত্রিত্বেও আছেন; কিন্তু সংকটে তারা কি সরকারকে সহায়তা দিচ্ছেন?

এ দেশে ব্রিটিশ সরকারের পরিকল্পনামাফিক ঔপনিবেশিক শাসন শুরু হয়নি। দৈবাৎ ঘটে গিয়েছিল। ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাণিজ্যের সুবাদে জড়িয়ে পড়ে বাংলার অশান্ত রাজনীতির মধ্যে। পলাশীর যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ঘটনাক্রমে ক্ষমতা চলে আসে তাদের হাতে। এরা রাজার জাত নয়- বণিক মাত্র।

চিন্তায় পড়ে যায় ইংল্যান্ডের প্রিভি কমিটি। উপনিবেশ স্থাপনের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ শাসকদের একটি নীতি ছিল। উপনিবেশগুলোতে তারা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে। মানুষকে খুশি রাখবে আর গোপনে সম্পদ পাচার করবে; কিন্তু এসব উপদেশ কোম্পানি শাসকরা ধারণ করতে পারেনি।

বণিক বুদ্ধির কারণে অতি মুনাফার লোভে একশ’ বছরে মানুষকে খ্যাপিয়ে তোলে। যার পরিণতিতে শুরু হয় স্বাধীনতার যুদ্ধ বা সিপাহি বিদ্রোহ। টনক নড়ে ব্রিটিশ শাসকদের। দ্রুত কোম্পানি শাসন বন্ধ করে দেয়। প্রতিষ্ঠিত হয় ব্রিটিশ শাসন।

ইতিহাস শিক্ষা দেয় বণিকের মাথায় হাত বুলিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। মধ্যযুগের ভারতে সুলতান আলাউদ্দিন খলজি এ সত্যটি ঠিক বুঝেছিলেন। হঠাৎ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ যখন বিপন্ন হচ্ছিল তখন সক্রিয় হন সুলতান।

মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেন। গোয়েন্দা ও সরকারযন্ত্র ছড়িয়ে পড়ে। কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এভাবে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় বাজার।

চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকারগুলোর এমন শক্ত অবস্থানে যাওয়া কঠিন। যাদের অর্থ সহায়তায় রাজনীতির ভিত্তি শক্ত রাখা হয়- নির্বাচনী বৈতরণী পাড়ি দেয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে শক্ত আইন প্রয়োগ কঠিন। এ জন্যই সুশাসন প্রতিষ্ঠার দৃঢ়তা দেখাতে পারেনি কোনো সরকার। যুগান্তর।

ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
shahnawaz7b@gmail.com

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   করোনা’য় ইকরামুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চলছে ‘সহায়তা বিতরণ কর্মসূচী’   ❖   মসজিদে পাঁচ জনের বেশি নয়, ঘরে নামাজ আদায়ের নির্দেশ   ❖   করোনায় নতুন আক্রান্ত ২৯ জন, সারা দেশে সর্বমোট ১১৭   ❖   করোনায় দুদকের পরিচালক জালালের মৃত্যু   ❖   ২০২০ সালের সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি   ❖   লকডাউন অমান্য করায় স্কটিশ প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পদত্যাগ   ❖   যে ১৮ দেশে করোনা নেই: জেনে নিন রহস্য কী   ❖   দেড় লাখ প্রবাসীকে ফেরত আনতে চিঠি   ❖   ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর   ❖   করোনাভাইরাস : ইকরামুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘সহায়তা তহবিল কর্মসূচী’