All for Joomla The Word of Web Design
ইসলামী জীবন

নবজাতক জন্ম-পরবর্তী করণীয় সম্পর্কিত ইসলামি নির্দেশনা

— মাহদী হাসানাত খান।
(সহযোগী সম্পাদক)


নিঃসন্দেহে ইসলামি শরিয়তই মানবজীবনের জন্য পূর্ণাঙ্গ বিধি-বিধান। এতে কম-বেশি করার কোনো সুযোগ নেই। কেননা এতে ক্ষতি বৈ আর কিছুই হতে পারে না। পবিত্র কোরআন এবং হাদিসই প্রতিটি মুমিনের পাথেয়। যা পালন করা অবশ্যকর্তব্য। এর মাঝেই সমূহ কল্যাণ নিহিত। একজন মানুষ জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে একেবারে মৃত্যু পর্যন্ত সমৃদ্ধ বিধি-বিধান বাতলে দিয়েছে ইসলামি শরিয়ত। সেই ধারাবাহিকতায় নবজাতক জন্ম-পরবর্তী করণীয় সম্পর্কিত ইসলামি নির্দেশনা অনুযায়ী সন্তান জন্মের ৭ম দিনে অভিভাবকের ওপর দায়িত্ব হলো— সন্তানের আকিকা করা, মাথার চুল মুণ্ডন করা এবং তার মার্জিত অর্থবহ সুন্দর নাম রাখা।

হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “সন্তান আকিকার সাথে দায়বদ্ধ থাকে। তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে পশু জবাই করবে, নাম রাখবে ও মাথা মুণ্ডন করে দেবে।”— (জামে তিরমিজি, হাদিস ১৫২২)

সপ্তম দিনে আকিকা করা, মাথা মুণ্ডন করা এবং সুন্দর অর্থবহ  নাম রাখা মুস্তাহাব। তবে এ তিনটির কোনোটি অপরটি সাথে শর্তযুক্ত নয়। তাই কারও আর্থিক সমস্যার দরুন যদি ৭ম দিনে সন্তানের আকিকা করতে না পারে তাহলেও ওই দিন সন্তানের মাথা মুণ্ডন করে দেবে এবং সুন্দর অর্থবহ নামও রাখবে। আকিকা করতে বিলম্ব হলেও এসব কাজে বিলম্ব করবে না। সামর্থ্যবান হলে, তখন আকিকা করা আবশ্যক। অনেকের ধারণা, পঞ্চম দিনে মাথা মুণ্ডন করতে হয়। ধারণাটি সঠিক নয়। হাদিস শরিফে যেহেতু সপ্তম দিনে মাথা মুণ্ডন করতে বলা হয়েছে, সেহেতু সপ্তম দিনের আগে মুণ্ডন না করাই উচিত। মাথা মুণ্ডন করার পর চুলের ওজন পরিমাণ রূপা বা স্বর্ণ কিংবা সামর্থ্য অনুযায়ী স্বর্ণ বা রূপা থেকে যেকোনো একটির সমপরিমাণ মূল্য দান-সদকা করা মুস্তাহাব।

হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান (রা.)-এর আকিকা দিয়ে ফাতেমা (রা.)-কে বললেন, “তার মাথা মুণ্ডন করে দাও এবং চুলের ওজন পরিমাণ রূপা সদকা করে দাও।”— (জামে তিরমিজি, হাদিস ১৫১৯)

অপর এক হাদিসে রূপা বা স্বর্ণ সদকা করার কথাও এসেছে।— (আলমুজামুল আওসাত, হাদিস ৫৫৮; মাজমাউজ জাওয়াইদ, হাদিস ৬২০৪; ইলাউস সুনান ১৭/১১৯)

রূপা বা স্বর্ণ সদকা করার হেকমত সম্পর্কে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। তো এ ব্যাপারে প্রথম কথা হলো, উক্ত সদকার হেকমত সম্পর্কে হাদিস শরিফে যেহেতু কিছু বলা হয়নি তাই এর রহস্য বা হেকমত অনুসন্ধানের পেছনে না পড়াই ভালো। বান্দার কাজ হলো, বিধি-বিধানের হেকমতের পেছনে না পড়ে শরিয়তের হুকুম একনিষ্ঠভাবে পালন করে যাওয়া। অবশ্য শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলবি (রহ.)-এর একটি কারণ এই লিখেছেন যে, “সন্তান যে চুলসহ ভূমিষ্ট হয়েছিল তা কেটে ফেলার মাধ্যমে সন্তান একটি অবস্থানে পদার্পণ করে। তাই এর শুকরিয়াস্বরূপ ওই চুলের বিনিময়ে সদকা করার হুকুম দেওয়া হয়েছে।”— (হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা ২/১৪৫)।

আর কোনো কারণবশত বাচ্চার চুল যদি সপ্তম দিনে কাটা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে সপ্তম দিনের চুলের ওজন অনুমানে রূপা বা স্বর্ণ সদকা করে দেবে। 

মহান আল্লাহ আমাদের সহিহ-শুদ্ধ আমল করার তাওফিক দান করুন, আমিন। 

মাই নিউজ/মাহদী

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   বাসচাপায় প্রাণ হারালেন মামা-ভাগনে   ❖   ‘দৈনিক বিশ্ব ইজতেমা’— দেশজুড়ে ইজতেমার ধ্বনি   ❖   ২০২১ সালে বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের তারিখ নির্ধারণ   ❖   আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা ২০২০   ❖   বিমান বিধ্বস্ত নিয়ে মিথ্যাচার: খামেনির পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ   ❖   প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে মুনাজাতে অংশ নেন   ❖   মোদি-অমিত বলেছেন, কাশ্মীর ইস্যুকে সমর্থন করলে মামলা তুলে নিবে:‌ জাকির নায়েক   ❖   প্রথমবারের মত ইরান সফরে কাতারের আমির   ❖   যুগে যুগে তাবলিগ   ❖   ইজতেমা—ইমান জাগার সম্মেলন