All for Joomla The Word of Web Design
ইদানিং ভাবনা

মানুষ কি মানুষের জন্য?!

ইয়াছিন আলী
তরুণ লেখক


ওগো! শুনছো? খুব শীত পড়েছে। বাচ্চাগুলো থরথর করে কাঁপছে। সাথে আমরাও। নেই কোনো গরম পোশাক। তেমন টাকা-পয়সাও নেই, যাতে গরম পোশাক কিনব। আমাদের কথা না হয় বাদই দিলাম। কষ্ট করে শীতটা কাটিয়ে নিতে পারব। কিন্তু বাচ্চাগুলোর কী হবে! ওরা তো ছোটো। শীত সহ্য করতে পারছে না। আবার ঠান্ডা লাগলে অসুস্থ হয়ে পড়বে। ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। সেখানেও টাকার প্রয়োজন। কমপক্ষে ওদের জন্য তো গরম পোশাক কেনা উচিত। আমার আর কিছুই ভাল্লাগে না। এখন কী করব আমরা? একটু বলো তো!

স্ত্রী’র কথা শুনে বিছানা থেকে টানা দিয়ে ওঠল করিম। বলল, চিন্তা করো না তুমি। আল্লাহ একটা ব্যবস্থা করবেন। করিম গ্রামের একজন কৃষক ছিল। মানুষের ক্ষেতে কাজ করে কিছু টাকা উপার্জন করত। আর তা দিয়ে মোটামুটি পরিবার চলত। মানুষের কাছে হাত পাততে হতো না তার। কিন্তু কয়েকমাস পূর্বে এক মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয় করিম। এতে তার এক হাত ও এক পা অকেজো হয়ে যায়। এখন সে আর উপার্জন করতে পারে না। তাই পরিবার খুব অভাবে পড়ে যায়। আর করিমকেও ঘুরতে হয় মানুষের দুয়ারে।

সন্তানদের কথা মাথায় রেখে, ওদের গরম পোশাক কিনে দেওয়ার আশায় বেড়িয়ে পড়ল করিম। ধনী লোকদের দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করল। যদি বড়ো অঙ্কের করে কিছু টাকা পেয়ে যায়। যদি তারা গরম পোশাকের ব্যবস্থা করে দেন—এই আশায়। কিন্তু সবই হলো এর উল্টো।
কেউ বুঝল না করিমের মনের ব্যথা। সবাই শুধু পাঁচ-দশ টাকা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। কী করবে করিম! চিন্তায় কিছুই ভাল্লাগছে না তার। যেই টাকা পাচ্ছে মানুষের কাছ থেকে, তা দিয়ে কী চাল-ডাল কিনবে, নাকি বাচ্চাদের গরম পোশাক কিনবে। অবশেষে ঘরের বাজারের বাজেট কমিয়ে ফেলল করিম। তিন বেলা বাদ দিয়ে এক বেলা খেতে শুরু করল স্বামী-স্ত্রী। তবে হ্যাঁ, সন্তানদের খাবার ঠিকই রেখেছে তারা। এভাবে কিছু টাকা জমাল। অতঃপর মার্কেটে গিয়ে গরম পোশাক কিনে আনল সন্তানদের জন্য। ওদের মুখে ফোটে ওঠল হাসি। এই হাসি দেখে খুবই আনন্দিত হলো বাবা-মা। শান্তি ফিরে এলো তাদের মনে।

হ্যাঁ, বন্ধুরা! এভাবেই চলছে গরিব-দুখীদের জীবন। তাঁরা কত কষ্ট করেন শীতে। অথচ আমাদের গরম পোশাকের অভাব নেই। আমাদের এই বিষয় চিন্তায় আসে না যে, আমার পড়শি গরিব। গরম পোশাক কেনার সামর্থ্য নেই। কত কষ্ট করেন শীতে। আমার তো অনেক পোশাক। আমার সন্তানদের তো দু’ তিনটা করে গরম পোশাক। এখান থেকে একটা দিয়ে দিই। অথবা মোটা অঙ্কের কিছু টাকা দিয়ে দিই। যাতে তাঁরা গরম পোশাক কিনতে পারেন। এই ভাবনা, এই চিন্তা আমাদের মাথায় নেই। ওরা যদি এসে হাত পাতে, তাহলে পাঁচ-দশ টাকা দিয়ে তাড়িয়ে দিই। কখনো আবার টাকার বদলে ধমক মেরে তাড়িয়ে দিই। এটার অর্থই কি— মানুষ মানুষের জন্য?!

মাই নিউজ/মাহদী

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   কাল থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে আরব আমিরাতের মসজিদ   ❖   এডিআইও আবুধাবিতে স্টার্টআপের তহবিলের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর জন্য শোরুক পার্টনার্স বেদায়া তহবিলে বিনিয়োগ করেছে   ❖   বাইতুল মোকাররমের খতিব হতে পারেন মাওলানা হাসান জামিল সাহেব!   ❖   ভারতীয় একজন কিডনী ব্যর্থতায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, তুমি নিরাপদ হাতে রয়েছ   ❖   উচ্চ আদালতের স্থিতিবস্থা জারির পরও ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে রাজধানীর একটি মসজিদ   ❖   করোনাকালে ক্বওমী মাদরাসাগুলোর ১২ চ্যালেঞ্জ   ❖   চাকরিচ্যুৎ সেই ইমামকে স্বপদে বহাল করতে লিগ্যাল নোটিস   ❖   আজারবাইজানকে ১১ টন চিকিত্সা সহায়তা পাঠিয়েছে আমিরাত   ❖   রাতে নৌকার ছাদে জানাজা পড়ে লাশ ফেলা হতো সাগরে : খোদেজা বেগমের দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রা   ❖   স্বেচ্ছাচার, স্বজনপ্রীতি ও স্বৈরাচার