All for Joomla The Word of Web Design
ধর্ম-দর্শন

আয়েশা (রা.) কর্তৃক হাবশিদের খেলা দেখা বনাম প্রজেক্টর— কিছু কথা

—মুফতি রেজাউল কারীম আবরার
(মুহাদ্দিস, জামিয়া আবু বকর সিদ্দীক রা., যাত্রাবাড়ী, ঢাকা)


সম্প্রতি প্রজেক্টর নিয়ে আলোচনা এবং সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। কেউ বলছেন, প্রজেক্টরের মাধ্যমে বক্তার চেহারা দেখে মহিলারা বয়ান শোনা শতভাগ জায়েজ। আবার কেউ বলছেন, ফেতনার আশঙ্কা থাকার কারণে এ যুগে প্রজেক্টর ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।

যাঁরা প্রজেক্টরের পক্ষে কথা বলছেন, তাঁরা নিজেদের মতের পক্ষে কয়েকটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করছেন। এর মাঝে একটি হলো, আয়েশা (রা.)-এর হাদিস। হাদিসটি ইমাম বুখারি (রাহি.) সহ অধিকাংশ মুহাদ্দিস উল্লেখ করেছেন। আয়েশা রা. বর্ণনা করেন,
“একদিন আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার ঘরের দরজায় দেখলাম। তখন হাবশার অধিবাসী সাহাবারা মসজিদে খেলা করছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে চাদর দ্বারা ঢেকে নেন। আমি তাদের খেলা দেখি।” (বুখারি, হাদিস নং ৪৫৪)

এ হাদিসে সুস্পষ্টভাবে রয়েছে যে, আয়েশা (রা.) হাবশার অধিবাসী সাহাবাদের খেলা দেখেছেন। সুতরাং প্রজেক্টরের মাধ্যমে মহিলা পুরুষ বক্তাকে দেখতে সমস্যা কোথায়?

‘নস’ পেয়েই সেটা দ্বারা দলিল দিয়ে দেওয়া আহলে জাহেলদের কাজ। এরদ্বারা ভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রথমত, নসের প্রেক্ষাপট দেখতে হয়। এরপর দেখতে হয় সেটা বিশেষ কোন ঘটনার সাথে ‘খাস’ কি না? তৃতীয়ত, এ নসের বিপরীত কোনো নস থাকলে দেখতে হয় যে, ফুকাহায়ে কেরাম উভয় নসের মাঝে কীভাবে সামাঞ্জস্য বিধান করেছেন। তারপর আসে চূড়ান্ত ফতোয়া।

গায়রে মাহরাম তথা অপরিচিত পুরুষের দিকে না তাকানোর ব্যাপারে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এমনকি বিনা কারণে অন্ধ সাহাবির দিকে তাকাতেও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।

এবার আসি আয়েশা (রা.)-এর ঘটনায়। কারও কারও মতে ঘটনাটি পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে। মোল্লা আলি কারি হানাফি (রাহি.) সহ কেউ কেউ এ মত পোষণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে মুহাদ্দিসুল আসর আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরী (রাহি.)-এর বক্তব্য পাঠকের সামনে তুলে ধরছি। তিনি বলেন,
“যদি এ ঘটনা পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের হয়, তাহলে ব্যাপারটি একেবারে সুস্পষ্ট। যদি পর্দ‍ার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পরের ঘটনা হয়, তাহলে পর পুরুষের দিকে তাকানো জায়েজ আছে, তবে শর্ত হলো ফেতনার আশংকা না থাকা।” (ফায়জুল বারী, ২/৭৬, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বায়রুত)

আমরা ধরে নিলাম ঘটনাটি পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পর। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিশ্চিত ছিলেন যে, আয়েশা (রা.) ফেতনায় পড়বেন না। এজন্য খেলা দেখিয়েছেন। কিন্তু হাজার মহিলা বক্তাকে দেখলে ফেতনায় পতিত হবে না, তার গ্যারান্টি কোথায়? বক্তাদের পরোকিয়া, পি. এস-এর স্ত্রী নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার খরব তো মাঝে মাঝে পত্রিকায় আসে!

প্রশ্ন হলো, আয়েশা (রা.)কে কেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেলা দেখিয়েছিলেন? এখানে মুহাদ্দিসগণ বিভিন্ন ব্যাখ্যা করেছেন। কারও মতে আয়েশা (রা.) হাবশি সাহবাদের প্রতি লক্ষ করেননি। বরং তাঁর দৃষ্টি ছিল তাঁদের অস্ত্রের দিকে। শাফেয়ি মাজহাবের বিখ্যাত ফকিহ জাকারিয়া বিন মুহাম্মাদ আবু ইয়াহইয়া আল মিসরি (রাহি.) (মৃত্যু ৯২৬ হি.) বলেন,
“তুমি তাদের অস্ত্রের দিকে তাকাও। তাদের দিকে তাকাবে না। কারণ, অপরিচিত মহিলা অপরিচিত পুরুষের দিকে তাকানো হারাম।” (মিনহাতুল বারি, শরহে সাহিহিল বুখারি, ২/১৬৩)

ইমাম কাস্তাল্লানি (রাহি.) বুখারি শরিফের বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার। তিনি বলেন,
“তুমি তাদের খেলা এবং অস্ত্রের দিকে তাকাও। তাদের দিকে তাকাবে না। কারণ, অপরিচিতা মহিলাদের জন্য অপরিচিত পুরুষের দিকে তাকানো জায়েজ নেই।— এর দ্বারা বুঝা যায় যে, এ ঘটনাটি পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পর। সম্ভবত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে দিয়েছিলেন, যাতে তিনি অস্ত্র খেলা রপ্ত করতে পারেন এবং পরে শিক্ষা দিতে পারেন।” (ইরশাদুস সারি, ১/৫৫১)

চাইলে আরও অনেক ইমামের বক্তব্য তুলে দেওয়া যাবে। এ ধরনের হাদিস জনসাধারণের সামনে পেশ করার অর্থ হলো, শরিয়তের একটি বিধানের ব্যাপারে মানুষের অন্তরে উদাসীনতা তৈরি করা। অপরিচিতা মহিলা তখন পর পুরুষের দিকে তাকানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবে না।

ফেতনার আশংকা না থাকলে বিশেষ প্রয়োজনে শরিয়তে তাকানোর অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু প্রজেক্টরে বয়ান দেখা কোন হিসেবে বিশেষ প্রয়োজনের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়?! আবার ফিতনা থেকে বেঁচে যাওয়ার নিশ্চিয়তা কোথায়? আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন, আমিন।

মাই নিউজ/মাহদী

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   লেখক ফোরামের এবারের ভ্রমণ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ‘নুহাশ পল্লী’তে   ❖   বাসচাপায় প্রাণ হারালেন মামা-ভাগনে   ❖   ‘দৈনিক বিশ্ব ইজতেমা’— দেশজুড়ে ইজতেমার ধ্বনি   ❖   ২০২১ সালে বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের তারিখ নির্ধারণ   ❖   আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা ২০২০   ❖   বিমান বিধ্বস্ত নিয়ে মিথ্যাচার: খামেনির পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ   ❖   প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে মুনাজাতে অংশ নেন   ❖   মোদি-অমিত বলেছেন, কাশ্মীর ইস্যুকে সমর্থন করলে মামলা তুলে নিবে:‌ জাকির নায়েক   ❖   প্রথমবারের মত ইরান সফরে কাতারের আমির   ❖   যুগে যুগে তাবলিগ