All for Joomla The Word of Web Design
ইসলামী জীবন

ইসলাম প্রচারে তাবলিগ

—উবায়দুল হক খান
(মুহাদ্দিস, জামিয়াতুর রহমাহ গাজীপুর)


তাবলিগ অর্থ প্রচার, দীনের প্রতি আহ্বান। তাকে ইসলামের সাথে যোগ করলে অর্থ দাঁড়ায়— ইসলাম প্রচার। আল্লাহ তাআলা সমস্ত নবি-রাসুলকে ইসলাম প্রচারের জন্যই দুনিয়াতে প্রেরণ করেছিলেন। তাঁরা যদি নবুওয়াত লাভ করার পর তাবলিগ তথা এর প্রচার-প্রসারে আত্মনিয়োগ না করতেন তাহলে মানুষ কীভাবে দীনের সন্ধান পেত? কীভাবে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক কায়েম করত? কথায় বলে প্রচারেই প্রসার। প্রচার না করলে সে জিনিসের প্রসার হয় না।

ইসলামের তাবলিগ যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আস্তে আস্তে ইসলাম মানুষের অন্তর থেকে মুছে যাবে। পরিণতিতে মানুষের মধ্যে গোমরাহি ছড়িয়ে পড়বে। মানুষ দীন থেকে দূরে সরে যাবে। আমাদের নবি হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ নবি। তাঁর পর আর কোনো নবির আগমন ঘটবে না। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা জীবন মানুষের মধ্যে দীন প্রচারের কাজে ব্যয় করেছেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে যাঁরা মুসলমান হয়েছিলেন তাঁরাও এ দায়িত্ব নিজের জিম্মাদারী মনে করে দাওয়াতের ময়দানে ছড়িয়ে পড়েছেন। মুসলমান হওয়ার পর পরই তাঁরা কাফেরদের দ্বারে দ্বারে যেয়ে তাদের দীনের সুশীতল ছায়ার দিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এ দাওয়াত দিতে যেয়ে তাঁদের নির্মম অত্যাচারও সহ্য করতে হয়েছে। সেসব অত্যাচারের কথা কল্পনা করলে শরীর শিউরে ওঠে।
আমাদের নবি যেহেতু সর্বশেষ নবি, তাই তাঁর পর দীনের এ দাওয়াত চালু রাখার দায়িত্ব উম্মতের ওপর সোপর্দ করা হয়েছে। যে-ই নিজেকে শেষ নবির উম্মত বলে দাবি করবে তার ওপরই জিম্মাদারী চলে আসবে— অন্যকে দীনের দিকে আহ্বান করার এবং আল্লাহভোলা মানুষকে আল্লাহর সাথে জুড়ে দেওয়ার। উম্মতের জন্য নবিজির অন্তরে যে ব্যথা-দরদ ছিল সে ব্যথা-দরদ নিজেদের মধ্যে অনুভব না করা পর্যন্ত কেউ পরিপূর্ণ মুসলমান হতে পারবে না।
আর যখন কারও অন্তরে সে ব্যথা পয়দা হবে তখন সে উম্মতের দুর্দশা দেখে মোটেও নিশ্চুপ থাকতে পারবে না। নিজের নামাজকেই সে যথেষ্ট মনে করবে না। নিজের ইবাদত-বন্দেগিতে সে পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট হতে পারবে না। মুসলিম উম্মাহর জন্য কাঁদবে। মুসলিম উম্মাহকে কীভাবে পরিপূর্ণ দীনের ওপর আনা যায়—সে জন্য সে নিজের জান-মাল খরচ করবে, তার মধ্যে ইশকে রাসুলের বীজ অঙ্কুরিত হতে শুরু করে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং দীনের দাওয়াত দিতে যেয়ে কত কষ্ট সহ্য করেছেন তা আমরা কল্পনা করতে পারব না। আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করলে তাঁর প্রিয় হাবিবকে এত শত দুঃখ-কষ্টে নিপতিত না করে এমনিতেই সকলকে হেদায়াত দিতে পারতেন। কিন্তু এটি তার কানুনের খেলাফ। দুনিয়ার সবকিছুই তিনি আসবাবের সাথে জুড়ে দিয়েছেন। আসবাব অবলম্বন করে আল্লাহর ওপর ভরসা করলে তিনি তার ফল দ্রুত দান করবেন। এ জন্যই তিনি স্বীয় হাবিব দ্বারা এত কষ্ট করিয়েছেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্বের সময় কেয়ামত পর্যন্ত আগত সকল উম্মতকে দায়িত্ব প্রদান করে গেছেন তাঁর এ মিশনকে নিজের মিশন বানানোর জন্য এবং তাঁর এ দাওয়াতকে বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য। তাই দেখা যায়, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সোয়া লাখ সাহাবিগণের মধ্যে মাত্র দশ হাজার সাহাবির কবর মক্কা-মদিনায় আছে। অবশিষ্ট এক লাখ পনের হাজার সাহাবির কবর বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে।
সুদূর রাশিয়া আর চীনের মতো দুর্গম এলাকায়ও তাঁদের কবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর কারণ কী? এর কারণ হচ্ছে, নবিজির সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজেরদের জিম্মাদারী পালনের জন্য বাড়ি-ঘর আর দেশ মাতৃভূমি ছেড়ে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছেন, যাতে দীন ইসলামের দাওয়াত সকলের কর্ণকুহরে পৌঁছে দেওয়া যায়। তাঁদের সে অক্লান্ত পরিশ্রম আর কুরবানির কারণে এ উপমহাদেশে ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়েছে এবং আমি-আপনি মুসলমান হতে পেরেছি। আল্লাহ না করুন— তাঁরা যদি আমাদের মতো বিবি-বাচ্চা আর সংসার আঁকড়ে ধরে স্ব স্ব এলাকায় পড়ে থাকতেন আর নিজেদের নামাজ-কালাম নিয়েই আত্মতুষ্টিতে ভুগতেন তাহলে আজ আমাদের পরিচয় কী হতো? আমরা কি ইসলামের সন্ধান পেতাম?
আজকের বিশ্বে সাড়ে ছয় শত কোটি মানুষের মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা সর্বোচ্চ দেড়শত কোটি। অবশিষ্ট ৫০০ কোটি মানুষ অমুসলিম। তাঁরা আল্লাহকে চেনে না, নবিকে মানে না, ইসলাম সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। অনেকে বাপ-দাদার পুরাতন ধর্ম আঁকড়ে আছে। অথচ আল্লাহ তাআলার স্পষ্ট ঘোষণা হচ্ছে, বান্দার কাছ থেকে তিনি ইসলাম ছাড়া আর কোনো ধর্ম গ্রহণ করবে না। অন্য কোনো ধর্মের অনুসরণ করলে আখেরাতে তার মুক্তি নেই।
এমতাবস্থায় আমরা-আপনি যদি তাদের নিকট দীনের দাওয়াত নিয়ে না যাই, তাহলে তাদের মুক্তির কী উপায় হবে? নবি তো আর আসবেন না, নবির জিম্মাদারী এ উম্মতকে সোপর্দ করা হয়েছে। সে উম্মত এখন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। নিজে কোনো রকমে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে পারলেই সেটাকেই মুক্তির জন্য যথেষ্ট মনে করছে। এভাবে কি হাশরের ময়দানের নবিজির শাফা‘আত লাভের আশা করা যায়?
আল্লাহ তাআলা কুরআন মজিদে ইরশাদ করেছেন— তোমাদের মধ্যে এমন একটি জামাত থাকা জরুরি, যারা মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে। আর তারা সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। তারাই হচ্ছে প্রকৃত সফলকাম জামাত। (সুরা আল ইমরান : ১০৪)
সুতরাং তাবলিগ করা কুরআনি নির্দেশ। আল্লাহ তাআলার আদেশ। নবি-রাসুলের কাজ। এর মাধ্যমে ইসলামের প্রচার-প্রসার হয়। মহান আল্লাহ আমাদের তাবলিগের জন্য কবুল করুন, আমিন।

মাই নিউজ/মাহদী

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   বাসচাপায় প্রাণ হারালেন মামা-ভাগনে   ❖   ‘দৈনিক বিশ্ব ইজতেমা’— দেশজুড়ে ইজতেমার ধ্বনি   ❖   ২০২১ সালে বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের তারিখ নির্ধারণ   ❖   আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা ২০২০   ❖   বিমান বিধ্বস্ত নিয়ে মিথ্যাচার: খামেনির পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ   ❖   প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে মুনাজাতে অংশ নেন   ❖   মোদি-অমিত বলেছেন, কাশ্মীর ইস্যুকে সমর্থন করলে মামলা তুলে নিবে:‌ জাকির নায়েক   ❖   প্রথমবারের মত ইরান সফরে কাতারের আমির   ❖   যুগে যুগে তাবলিগ   ❖   ইজতেমা—ইমান জাগার সম্মেলন