All for Joomla The Word of Web Design
পাঠকের কলাম

ইজতেমা—ইমান জাগার সম্মেলন

—আব্দুল্লাহ খান
(শিক্ষার্থী : জামিয়া শারইয়্যা মালিবাগ, ঢাকা।)


‘তাবলিগ’ শব্দের অর্থ ‘পৌঁছিয়ে দেওয়া’। এ শব্দটি কোনো কিছুকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছানোর অর্থে ব্যবহারিত হলেও এখন ইসলামি পয়গাম পৌঁছানোকেই বুঝানো হয়। যা আমাদের সমাজে দাওয়াত ও তাবলিগ নামে পরিচিত।

যুগে যুগে যত আম্বিয়ায়ে কেরাম এসেছেন সকলেই এই তাবলিগ করেছেন। আল্লাহভোলা মানুষকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিয়েছেন। ইসলাম সম্পর্কে জানিয়েছেন।

নবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম হলেন আদম (আ.) এবং সর্বশেষ হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এখন আর কোনো নবি আসবেন না। নবুওয়াতের দরজা বন্ধ। শেষ নবি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবলিগের কাজকে তার উম্মতের ওপর ন্যস্ত করে গেছেন। এখন আমাদের দায়িত্ব হলো, মানুষের নিকট পৌঁছিয়ে দেওয়া। আর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী— ‘আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও পৌঁছিয়ে দাও।’ একটি বাণী পৌঁছানোর বিভিন্ন পন্থা হতে পারে— কোরআন-হাদিসের দরসের মাধ্যমে বা ওয়াজ-নসিহত অথবা মানুষের কাছে কাছে গিয়ে। কিন্তু সমাজের মানুষ তাবলিগ বলতে হজরত ইলিয়াস (রহ.)-এর বাতলে যাওয়া পদ্ধতিকেই বুঝে। এই পন্থা ভুল না হলেও মানুষের ধারণা ভুল। কেননা তিনি এ পন্থার কোনো নাম রাখেননি। আর এই তাবলিগের কাজ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জামানা থেকেই চলে আসছিল।
১৭৫৬ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এদেশে ইংরেজ বেনিয়ারা শোষন করেছিল। জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়নের দরুন মুসলমানদের কোমড় ভেঙে যায়। ইংরেজদের বন্দি কারাগার থেকে একসময় মুসলমানগণ মুক্তি লাভ করে।
প্রতিষ্ঠিত হয় দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসা। আবারও প্রসারিত হতে থাকে ইসলাম। কিন্তু জনসাধারণ ইসলামের সুুভাস থেকে বঞ্চিত থাকে। দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসার সূর্য সন্তান ইলিয়াস (রহ.) ভাবলেন, কীভাবে এই জনসাধারণের নিকট ইসলামি পয়গাম পৌঁছানো যায়। অতঃপর তিনি ছয় উসুলের ওপর ভিত্তি করে একটি পদ্ধতি বের করেন। তাঁর এই পদ্ধতিকে সকল ওলামায়ে কেরাম সাদরে গ্রহণ করেন। বিশ্বব্যাপী শুরু হয়ে যায় এই ছয় উসুলের দাওয়াত।

এই দাওয়াতের কাজ কীভাবে প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় এবং এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতি বছর বাংলাদেশের টঙ্গীর তুরাগ নদীর পাড়ে আয়োজন করা হয় ‘ইজতেমা’।

এখানে প্রায় ৩০/৪০টি দেশের মানুষের সমাগম ঘটে। কথিত আছে, এই ইজতেমার জন্য সাত বার লটারি হয় এবং প্রতিবারই বাংলাদেশের নাম ওঠে!
আল্লাহ, আল্লাহ ধ্বনিতে মুখরিত হয় তুরাগ পাড়। মানুষের মাঝে দেখা যায় ইমানের সজীবতা, ফিরে পায় হারানো ইমান ও আমল।

যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বাড়িতে থেকে আদায় করত না সেও জামাতের সাথে নামাজ আদায় করতে পারে। তাহাজ্জুদ, ইশরাক, আওয়াবিন নামাজও পড়েন। অজু, গোসল ও খাওয়া-দাওয়ার ইসলাম সম্মত নিয়মকানুন জানেন। নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি করার জন্য এক প্লেটে কয়েকজন মিলে খাওয়া হয়। সবচেয়ে অভাবনীয় বিষয় হলো, বাংলাদেশের মাটিতে আরবিয় কোনো লোকের গড়াগড়ি করা। এখান থেকে অনেক মানুষ চলে যায় চিল্লা বা সালের জন্য। আল্লাহর রহম ও ফজলে তৈরি হয় একজন আদর্শবান মানুষ। ফিরে পায় ইসলাম সম্মত ও ইমান দ্বীপ্ত জীবন। ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অপূরণীয় অংশই পূরণ করছে এই তাবলিগ কাজ। বিশ্ব ইজতেমায় যা উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে আমাদের সামনে।

মাই নিউজ/মাহদী

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   কাল থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে আরব আমিরাতের মসজিদ   ❖   এডিআইও আবুধাবিতে স্টার্টআপের তহবিলের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর জন্য শোরুক পার্টনার্স বেদায়া তহবিলে বিনিয়োগ করেছে   ❖   বাইতুল মোকাররমের খতিব হতে পারেন মাওলানা হাসান জামিল সাহেব!   ❖   ভারতীয় একজন কিডনী ব্যর্থতায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, তুমি নিরাপদ হাতে রয়েছ   ❖   উচ্চ আদালতের স্থিতিবস্থা জারির পরও ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে রাজধানীর একটি মসজিদ   ❖   করোনাকালে ক্বওমী মাদরাসাগুলোর ১২ চ্যালেঞ্জ   ❖   চাকরিচ্যুৎ সেই ইমামকে স্বপদে বহাল করতে লিগ্যাল নোটিস   ❖   আজারবাইজানকে ১১ টন চিকিত্সা সহায়তা পাঠিয়েছে আমিরাত   ❖   রাতে নৌকার ছাদে জানাজা পড়ে লাশ ফেলা হতো সাগরে : খোদেজা বেগমের দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রা   ❖   স্বেচ্ছাচার, স্বজনপ্রীতি ও স্বৈরাচার