All for Joomla The Word of Web Design
বিশেষ কলাম

যুগে যুগে তাবলিগ

—উবায়দুল হক খান
(মুহাদ্দিস, জামিয়াতুর রহমাহ, গাজীপুর)


তাবলিগের কাজ প্রতি যুগেই চালু ছিল। এর কার্যক্রম কখনো বন্ধ হয়নি। তবে স্থান, কাল, পাত্র হিসেবে একেক দেশে, একেক যুগে একেকভাবে এর কাজ হয়েছে। যে দেশের জন্য যে যুগে যেভাবে মুনাসিব এবং যুক্তিযুক্ত সেভাবেই আল্লাহ তাআলা স্বীয় প্রিয় বান্দাদের দ্বারা এ কাজ করে নিয়েছেন। এ যুগের আলেমদের অন্তরে আল্লাহ তাআলা কাজের পদ্ধতি ও নকশাকে ইলহাম করেছেন ফলে তাঁরা সেভাবেই তাবলিগের কাজকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

সর্বশেষ ভারতবর্ষে ইংরেজদের আগ্রাসনে যখন অগণিত মসজিদ-মাদরাসা ক্ষতিগ্রস্ত হলো এবং অসংখ্য উলামায়ে কেরামকে ফাঁসি দেওয়া হলো, কিংবা মাল্টা আর কালাপানিতে নির্বাসন দেওয়া হলো, তখন ইসলামের তাবলিগ কীভাবে করলে সর্বসাধারণের জন্য উপকারী হবে তার একটা নকশা আল্লাহ তাআলা এদেশের উলামায়ে কেরামের অন্তরে ঢেলে দিলেন। উলামায়ে কেরাম যখন সে নকশা অনুযায়ী তাবলিগের মেহনত শুরু করলেন। তখন সত্যিই জনগণের মধ্যে অভূতপূর্ব পরিবর্তন পরিলক্ষিত হতে লাগল।
বুঝা গেল, এ যুগের জন্য এভাবেই তাবলিগের মেহনতের মধ্যে সফলতা নিহিত আছে, বিধায় আল্লাহ তাআলা এ পদ্ধতি স্বীয় প্রিয় বান্দাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং কেউ যদি প্রশ্ন করে, ১৪০০ বছর আগে তো এ তাবলিগ ছিল না, এখন এ তাবলিগ কোথায় থেকে আসল? তাহলে তার এ প্রশ্ন হবে মূর্খতার পরিচায়ক। কেননা তাবলিগ তো সব সময়েই ছিল। শুধু সিস্টেমের পরিবর্তন হয়েছে। তাছাড়া এখন যে পদ্ধতিতে তাবলিগের মেহনত হচ্ছে তার সবই যে নতুন তাও নয়; বরং এর অনেক কিছুই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সুপ্রমাণিত। এক চিল্লা, তিন চিল্লা, উমুমি গাশত, খুসুসি গাশত, জামাআত পাঠানো, তাদের একজনকে আমির বানানো, জামাত ফিরে আসার পর তাদের নিকট থেকে আবার কারগুজারি শোনা; এসবই নবিজির আমল দ্বারা প্রমাণিত।
কিছু লোক আছে, যারা বর্তমান তাবলিগের নামই শুনতে পারে না। যাঁরা তাবলিগ করে তাঁদের ভালো চোখে দেখে না। এমনকি তাদেরকে মসজিদেও থাকতে দেয় না। তারা বলে, এ তাবলিগের কোনো দরকার নেই। এ তাবলিগ রাসুলের যুগে ছিল না। তাবলিগিরা মসজিদে থাকে, খায়, ঘুমায়! তারা মসজিদকে অপবিত্র করে। ঘর-বাড়ি, বিবি-বাচ্চা ছেড়ে এভাবে মসজিদে মসজিদে ঘুরার কী দরকার আছে? এসব তো তারা নিজের বাড়িতে বসেই করতে পারে। এ ধরনের আরও শত শত প্রশ্ন তাদের মনে ভীড় করে, তাই তারা তাবলিগের ধারে কাছেও ঘেঁষে না। এতে তারা নিজেদের খুব বুদ্ধিমান মনে করে। তাবলিগিদের মসজিদ থেকে তাড়াতে পারলেই মনে মনে খুব খুশি হয়, বিরাট সওয়াবের কাজ করে ফেলেছি। আল্লাহর ঘরকে অপবিত্র হওয়া থেকে হেফাজত করেছি, নাউজুবিল্লাহ।
যারা আজ তাবলিগের বিরোধিতা করেন তারা মূলত দুটি কারণে বিরোধিতা করেন। একটি কারণ হচ্ছে, তারা অতি নিকট থেকে এ কাজকে না দেখার কারণে এবং সরাসরি এ কাজে জড়িত না হওয়ার কারণে এ কাজ সম্পর্কে বিভিন্ন সন্দেহ তাদের মনে দানা বেঁধে আছে। তারা যদি প্রতি মাসে তিন দিন করে এতে সময় লাগাতেন এবং সক্রিয়ভাবে জড়িত হতেন তাহলে তাদের আপত্তি আরও বিরূপভাব অনেকটাই দূর হয়ে যেত।
দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, তাবলিগের মেহনতের সাথে জড়িত কিছু ভাইয়ের ব্যক্তিগত আচার-আচরণে তাঁরা ক্ষুব্ধ। তাবলিগের সাথে জড়িত হওয়ার পরেও তারা যেহেতু কিছুটা আপত্তিকর কাজ করে থাকেন তাই ওইসব ভাইরা পুরো তাবলিগকেই বাঁকা চোখে দেখে থাকেন। অথচ এটা যে একটা ভুল থিউরি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কেননা, দু এক জনের ব্যক্তিগত আমলের কারণে পুরো কাজটাকেই তো আর খারাপ বলা যায় না। তাছাড়া তাবলিগের মেহনতের কারণে সারা বিশ্বব্যাপী আজ পরিবর্তনের যে ঢেউ লেগেছে, তা যদি জানা থাকত তাহলে কখনো তারা তাবলিগের বিরুদ্ধাচরণ করত না।
আমাদরে সমাজের চারপাশে আমরা যদি একটু গভীরভাবে দৃষ্টি বুলাই তাহলে আমরা অতি সহজেই উপলদ্ধি করতে পারব, দাওয়াত ও তাবলিগের এ মেহনতের কারণে লাখো-কোটি অবুঝ, বদদীন, ইংরেজি শিক্ষিত মডার্ন লোক, এমনকি দীনের নাম শুনতে অপ্রস্তুত এমন লোকেরাও দীনের আহকামসমূহ পুরোপুরি গ্রহণ করে দীনদারীর সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নিচ্ছেন। তারা পেছনের জিন্দেগীর ওপর অনুতপ্ত হয়ে পূর্ণ দীনদারীর ওপর চলার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। নিজেদের ছেলে-মেয়েকে দুনিয়াবী পেটভোজী শিক্ষায় শিক্ষিত না করে আল্লাহ ও তার রাসুলের কালাম শিক্ষার জন্য কওমি মাদরাসায় হক্কানি আলেম বানিয়ে দীনের খেদমতের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন।
ইউরোপ-আমেরিকায় লাখ লাখ মানুষের জীবনে এ তাবলিগের মেহনতের কারণে আমূল পরিবর্তন এসেছে। হাজার হাজার ইহুদি-খ্রিষ্টান ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হয়েছে। তারা অভিযোগ করে বলছে, হে মুসলমানরা! তোমরা যদি আরো ১০-২০ বছর আগে আমাদের দেশে এ মেহনত নিয়ে আসতে তাহলে হয় তো আমাদের মা-বাবাও ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হতো। তোমরা না আসায় তারা বেদীন হয়ে মারা গেছে। কেয়ামতের দিন তোমাদের বিরুদ্ধে আমরা আল্লাহ তাআলার দরবারে বিচার দায়ের করব, ইসলামের মতো মহা দৌলত লাভ করা সত্ত্বেও তোমরা তা নিয়ে নিজেদের দেশে বসেছিলে। অথচ মানবকল্যাণে আমরা যত নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করেছি তা তোমাদের কাছে তখনই পৌঁছে দিয়েছি।
আপনিই বলুন, তাবলিগের এ মেহনতের আপনার কি কোন ক্ষতি হয়েছে? আপনার মসজিদে জামাত আসলে আপনি হয় তো নারাজ হোন, তাঁদের ভুল ধরতে আপনি উঠে-পড়ে লাগেন। মসজিদের বেআদবি হচ্ছে বলে আপনি শোরগোল করতে থাকেন। মসজিদের জন্য আপনার বড়ই দরদ, কিন্তু সমজিদে তো আল্লাহর ঘর। এ ঘরের যদি কোনো বেআদবী হয় তাহলে আল্লাহ তাআলা সেটা মাফ করে দিতে পারেন। পক্ষান্তরে একটা মানুষ যদি বে-নামাজি হয়ে, বে-ইমান হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে যায় তাহলে তাকে কি আল্লাহ তাআলা মাফ করবেন? কখনো নয়। আল্লাহ আমাদের সহিহ বুঝ দান করুন, আমিন।

মাই নিউজ/মাহদী

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   কাল থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে আরব আমিরাতের মসজিদ   ❖   এডিআইও আবুধাবিতে স্টার্টআপের তহবিলের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর জন্য শোরুক পার্টনার্স বেদায়া তহবিলে বিনিয়োগ করেছে   ❖   বাইতুল মোকাররমের খতিব হতে পারেন মাওলানা হাসান জামিল সাহেব!   ❖   ভারতীয় একজন কিডনী ব্যর্থতায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, তুমি নিরাপদ হাতে রয়েছ   ❖   উচ্চ আদালতের স্থিতিবস্থা জারির পরও ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে রাজধানীর একটি মসজিদ   ❖   করোনাকালে ক্বওমী মাদরাসাগুলোর ১২ চ্যালেঞ্জ   ❖   চাকরিচ্যুৎ সেই ইমামকে স্বপদে বহাল করতে লিগ্যাল নোটিস   ❖   আজারবাইজানকে ১১ টন চিকিত্সা সহায়তা পাঠিয়েছে আমিরাত   ❖   রাতে নৌকার ছাদে জানাজা পড়ে লাশ ফেলা হতো সাগরে : খোদেজা বেগমের দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রা   ❖   স্বেচ্ছাচার, স্বজনপ্রীতি ও স্বৈরাচার