All for Joomla The Word of Web Design
উপন্যাস

ধারাবাহিক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস

ফ্লেউর ডে লিস (পর্ব : ২)

মাসউদ আহমাদ
(তরুণ লেখক)

মিলানের অনুভবশক্তি প্রবল। সে উঠে বসে পড়ল। অদ্ভুত ছিল বিষয়টা। দূর থেকে তার দিকে তাকিয়ে আছে হিলডা রাবিলেরো। মিলান দাঁড়িয়ে গেল। সে যেটাকে অদ্ভুত ভাবছিল, আসলে কি ব্যাপারটি তা-ই ছিল? আসলে অদ্ভুত বা, অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। এমন হতেই পারে। মাঝেমাঝে তো আমাদের মনে হয়, এই অমুক চিত্রটা কোথায় যেন দেখেছি! মানে, চারপাশে উপস্থিত থাকা কোনো কোনো পরিস্থিতিকে পরিচিত পরিচিত বলে মনে হয়। মনে হয়, হয়তো আমি এই অবস্থাটা কোনোদিন স্বপ্নে দেখেছি। আসলে হয়তো ব্যাপারটা তা না। আবার তা হতেও পারে। কিন্তু এতে চিন্তার কী আছে! আর যে জিনিসটা চিন্তার না, তাকে অযথাই অস্বাভাবিক ভেবে ফেলার মানে নেই। নাকি মানে আছে?

মিলানকে আবার মাহদির ডায়েরিটায় পেয়ে বসছে। মিলানের অবশ্যই এখন শান্ত হওয়া উচিত। মিলান এগিয়ে গেল হিলডা রাবিলেরোর দিকে। মাহদির ডায়েরিতে এমন সব কঠিন কঠিন নাম ছিল না। কী সব নাম যে রাখে এ দেশের মানুষ!… মিলান ভাবতে ভাবতে এগিয়ে গেল। হুট করে মিলানের একটা কথা মনে হলো।

-আবার কী?

আরে, তেমন কিছু না। মিলানের মনে হলো, তার নামটা অদ্ভুত।

-নামে সে অদ্ভুতের কী পেল?

মিলান ভাবছে, তার নামের সাথে হাবার যুক্ত করা হয়েছে, অথচ তার বোনের নামে হাবার নেই। মিলান হাবার, নামটি শুনলে মনে হয় হাবার হলো বংশের নাম বা এরকম কিছু। হিলডার কাছাকাছি যেতে সে মিলানকে জিজ্ঞেস করল, কী নিয়ে চিন্তা করছে। মিলান ভাবল, তার চিন্তা নিয়ে হিলডার কী। মিলান কিছু না বলে হিলডার পাশ দিয়ে রুমে ঢুকে গেল। হিলডা রাবিলেরো কিছু মনে করল না। সে জানে, মিলান এরকমই। মিলান আবার অফিসে ঢুকেছে। তার বাবার আরামকেদারায় বসে দুলছে। ‘আমার বাবা! অফিসেও আরামকেদারা রাখেন।’ ভাবল মিলান। এটা কি হাস্যকর, না মজার?… আসলে মিলান কেন এত ভাবে!

আজ এক মাস হয়েছে মিলান বাড়ি ফিরেছে। এই এক মাসের আগের জীবনে মিলানের সাথে অস্বাভাবিক কিছু ঘটেনি, মিলান তার মনে এ কথাই বসিয়ে দিতে চাইছে। সে হয়তো কিছুটা সফলও হয়েছে। বাকি, এটা পুরোপুরি না। কারণ সেই দিনগুলোর প্রভাবের কারণে সে এখনো একঘেয়ে সময় পার করছে। এমনকি তার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে আমারও একঘেয়ে লাগছে। একদম সহজ, স্বাভাবিক বর্ণনা… ওহ, আমার হুট করে হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের কথা মনে পড়ল। সহজ, স্বাভাবিক বর্ণনা… কিন্তু কত রহস্য! কত অস্বাভাবিকতা!
আবার রকিব হাসানের কথাও মনে পড়ছে। অধুনা দিনগুলোর ভেতরেই কত রোমাঞ্চ আর রহস্যের জীবন! আমাজনের গহীনে… দক্ষিণের দ্বীপে…। এগুলোই ভালো ছিল। হাভানার এই সরল জীবনের মানে হয়?

মিলান আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে চাইছে। কিন্তু অফিসের জানালা নেই। এখন আবার বাইরে যেতে চাইলে লজ্জায় পড়তে হবে। সে নিশ্চিত, কাছাকাছিই হিলডা কোথাও দাঁড়িয়ে আছে।

হিলডাকে মিলানের সেক্রেটারি মানিয়ে নিলে কেমন হয়? আর মিলান না-হয় তার আব্বুর ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়ে গেল! WHAT’S WRONG WITH SECRETARY KIM ড্রামাটির মতো। ধুর! মিলান পাগল হয়ে যাবে! তার অন্তত হিলডার কথা একদমই ভাবা উচিত না। ভাবা দূরে থাক, তার কথা মনে আসাও উচিত না। মনে আসা দূরে থাক, তার কথা… কী? উহ! মিলানের এখন শান্ত হওয়া উচিত।

মিলান তার মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বলতে লাগল, ‘মিলান, তোমার থামা উচিত… মিলান, তোমার থামা উচিত…।’ সে দরজার দিকে তাকিয়েই হা হয়ে গেল। হিলডা তার দিকে তাকিয়ে আছে! ‘এই পরিস্থিতিটা কীভাবে সামাল দেবে মিলান?’ সে মনে মনে বলল কথাটি। হিলডা বাইরে চলে গেল। ওহ! কিন্তু এটা কি স্বস্তির কিছু? মেয়েটা এখন কী ভাবছে তাকে নিয়ে!? না, মোটেই না, মিলান মোটেই পাগল হয়নি! মিলান এখন বাইরে গিয়ে মেয়েটার কান ধরবে নাকি! যখন তখন দরজা খুলে অফিসে ঢুকে যাবে সে?! কী আশ্চর্য! তার কোনো তোয়াক্কা নেই! ওহ! এটা কীভাবে মানা যায়! মিলান দাঁড়াতে গেল আর তখনই হিলডাকে নিয়ে অফিসে ঢুকলেন মিলানের আব্বু।

‘কী ব্যাপার মিলান?’

কী ব্যাপার মানে! মিলানের মাথায় ভূত ঢুকে গেল। ছোকরিটা আব্বুর কানে কিছু ঢুকিয়েছে নাকি!

‘কী হলো তোমার?’ (মিলানের আব্বু আবার প্রশ্ন করলেন। এবার তার দৃষ্টি একটু… মানে, তার চোখ একটু কুঁচকানো।)

‘কই, না তো! আমার কী হবে!… ইয়ে, হিলডা কিছু কি বলেছে তোমাকে?’

‘হিলডা? আমাকে? সে আমাকে কী বলবে?’ (হিলডার দিকে তাকালেন তিনি।) ‘তোমার কিছু বলার মতো ছিল নাকি?’

এই রে! মিলান তাড়াতাড়ি আরামকেদারা ছেড়ে দিল। ‘না, না… সত্যিই তো, কী বলার থাকবে।’ বলতে বলতে সে গিয়ে হিলডার হাত ধরল। তাকে নিয়ে অফিসের বাইরে পা বাড়াল সে।

এটা কী হলো?! হিলডার হাত ধরেছে মিলান?! কথাটা মনে আসতেই হতভম্ব হয়ে গেল সে। সে আসলে কী থেকে কী করছে। এবার হিলডাও মোটামুটি অবাক।

মিলান ছেড়ে দিল হিলডার হাত। এখন এই পরিস্থিতিটা কীভাবে মিলান সামলে ওঠবে? ‘হিলডা, এবার কোনো উপায় বের করো!’ বলে ফেলল কথাটি আর জিভ কাটল।

‘মানে?’ হিলডা জিজ্ঞেস করল।

মিলান হিলডার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। আবারো হতভম্ব লাগছে তার। কী হচ্ছে তার সাথে! এখন মিলান কী করবে? সে চোখও সরাতে পারছে না হিলডার মুখ থেকে। স্থবির মিলান। আহ, মিলানকে এখন কেউ বাঁচাক।

‘এই, হ্যালো!’ মিলানের চোখের সামনে হাত নাড়াতে লাগল হিলডা। মিলান বুঝতে পারছে না এখন তার কী করার আছে। ‘তুমি কি অসুস্থ?’ আবার হিলডার কণ্ঠে শুনতে পেল! মিলানের আত্মায় পানি এলো। সে খুব অসুস্থের ভান করে বলে ফেলল, ‘ওহ, হ্যাঁ, আমি সত্যি অসুস্থ অনুভব করছি! আমার ডাক্তার প্রয়োজন।’

হিলডা কাছ থেকেই একটি চেয়ার টেনে মিলানকে বসতে দিয়ে দ্রুত ডাক্তার ডাকতে চলে গেল।

মিলান এখনো পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে। এর মাঝে বিশটি সেকেন্ড কেটে গেল। তারপর বসে পড়ল মিলান।

সে এই দশ মিনিটের মধ্যে গুরুতর কয়েকটা ভুল করে ফেলেছে। এভাবে ভুল করতে থাকলে… সে ভাবছে, অন্তত সেক্রেটারি কিম, ওহ, হিলডার সাথে যেন ভুল না-হয়।

‘ডাক্তার নেই।’ এখন হিলডা এসে যদি এ কথা বলত! মিলান যেহেতু এটা কামনা করছে, তাই আজ ডাক্তার আছেই। এমন অনেক হয়েছে। এটা হতে পারে, এটা হতে পারে, এটা হতে পারে… এভাবে সে বেশকিছু বিকল্পই ভেবেছে, কিন্তু সেগুলোর একটাও না হয়ে সে যা ভাবতে পারেনি তা-ই ঘটেছে। এবারও ঠিক তা-ই হলো। হিলডা ডাক্তারের সরঞ্জাম নিয়ে হাজির!

‘তুমি কি ডাক্তারিও জানো নাকি?’ কথাটা বলে ফেলতে পারত মিলান, কিন্তু নিজেকে সামলে নিলো। আর ভুল করা যাবে না। হিলডার এক হাতে থাকা পানির গ্লাসটি নিলো সে। ভাবছে, এখন এমন কিছু একটা বলতে হবেই, যাতে হিলডা তাকে পরীক্ষানিরীক্ষা না করতে চায়। কারণ তাতে বেশ ঝামেলায় পড়ে যাবে মিলান। এখনই ঝামেলা যথেষ্ট হয়েছে।
‘একটু সুস্থ মনে হচ্ছে?’ হিলডা জিজ্ঞেস করল।

‘উম।’ হালকা স্বরে শব্দটি উচ্চারণ করে সে মনে মনে বলল, ‘এই প্রশ্নটির জন্য তোমাকে অনেক ধন্যবাদ!’

‘তবু, আমি একটু চেক করে দেখি।’

ভেতরে ভেতরে আঁতকে উঠে না-শোনার ভান করে বলে উঠল, ‘হুম। একটু সুস্থ বোধ করছি… তোমাকে ধন্যবাদ পানির জন্য।’ মিলান দাঁড়িয়ে গেল। গ্লাসটা হিলডাকে ধরিয়ে দিলো সে।

মিলান মাঠে বেরিয়ে গেল। তার আর পেছন ফিরে তাকানোর প্রয়োজন নেই। একদমই নেই। তার সোজা হাঁটা উচিত। না, না, সোজা কেন। তার এখন ডানদিকের বাগানের দিকে যাওয়া উচিত।… (চলবে) ●

মাই নিউজ/মাহদী

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   ব্রেকিং: বরাকাহ পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের ইউনিট 1 এর নিরাপদ স্টার্ট-আপ সফলতা অর্জন করেছে   ❖   এবার হুয়াওয়েকে নিষিদ্ধ করল যুক্তরাজ্য   ❖   রিজেন্টর চেয়ারম্যান সাহেদ গ্রেফতার   ❖   কাল থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে আরব আমিরাতের মসজিদ   ❖   এডিআইও আবুধাবিতে স্টার্টআপের তহবিলের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর জন্য শোরুক পার্টনার্স বেদায়া তহবিলে বিনিয়োগ করেছে   ❖   বাইতুল মোকাররমের খতিব হতে পারেন মাওলানা হাসান জামিল সাহেব!   ❖   ভারতীয় একজন কিডনী ব্যর্থতায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, তুমি নিরাপদ হাতে রয়েছ   ❖   উচ্চ আদালতের স্থিতিবস্থা জারির পরও ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে রাজধানীর একটি মসজিদ   ❖   করোনাকালে ক্বওমী মাদরাসাগুলোর ১২ চ্যালেঞ্জ   ❖   চাকরিচ্যুৎ সেই ইমামকে স্বপদে বহাল করতে লিগ্যাল নোটিস