All for Joomla The Word of Web Design
নারী নির্যাতন

গর্ভবতী সাফুরার বন্দিত্ব নিয়ে সোচ্চার সোশ্যাল মিডিয়া

দিল্লী হিংসা: জামিয়া মিল্লিয়ার গর্ভবতী ছাত্রী সফুরার জামিনের আবেদন খারিজ

কয়েক সপ্তাহ আগেই জানতে পেরেছেন- মা হতে চলেছেন তিনি। আনন্দে উচ্ছ্বসিত ছিলেন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী। কিন্তু সেদিন দুপুরে আচমকা দরজায় টোকা পড়লো। আগন্তুকের দল জানালো, দিল্লি পুলিশের বিশেষ সন্ত্রাস-দমন শাখা থেকে এসেছে তারা।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী প্রতিবাদে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। দলটি তুলে নিয়ে যায় সাতাশ বছর বয়সী সাফুরা জারগারকে। সেদিনই, ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। মামলা করা হয় বেআইনি কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ আইনে (ইউএপিএ)। তখন থেকে দিল্লির তিহার জেলের ছোট্ট সেলে অন্য বন্দিদের সঙ্গে থাকছেন সাফুরা। বলছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সফুরার স্বামী।

সরকারি নির্দেশিকা যেখানে বলছে, গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি, সেখানে নিশ্চিত সংক্রমণের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে সফুরাকে!

ফেব্রুয়ারি মাসে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছেলিনে সফুরা। উস্কানিমূলক মন্তব্য করে দিল্লি হিংসায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে গত ১০ এপ্রিল গর্ভবতী অবস্থায় তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

স্বাস্থ্যজনিত কারণ দেখিয়ে সম্প্রতি পটিয়ালা হাউস কোর্টে জামিনের আবেদন করেন তিনি। কিন্তু অতিরিক্ত দায়রা বিচারক ধর্মেন্দ্র রাণা তাঁর আবেদন খারিজ করে দেন। আদালত জানায়, প্রত্যক্ষ ভাবে হিংসায় যোগ না দিলেও, উস্কানিমূলক মন্তব্য ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারেন না সফুরা।

বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ)-এ সফুরাকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল। অভিযোগে বলা হয়, ২৩ ফেব্রুয়ারি সিএএ বিক্ষোভে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তা থেকেই উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে হিংসা দেখা দেয়। বরাবর সেই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন সফুরা ও তাঁর আইনজীবী রীতেশ ধর দুবে ও ত্রিদীপ পাইস। কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরোধিতা করায় তাঁকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

২৩ মে সফুরা চাঁদবাগে জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়েছিলেন এমন অভিযোগ সফুরার বিরুদ্ধে। গতকাল সেই অভিযোগও অস্বীকার করেন সফুরার আইনজীবীরা। তাঁরা জানান, ওই দিন সফুরা চাঁদবাগে গিয়েছিলেন বটে। কিন্তু তখনও হিংসা শুরু হয় নি। সেখানে কোনও ভাষণ দেননি তিনি। বরং ওই দিন কৃষ্ণনগরের খুরেজিতে ভাষণ দেন সফুরা। কিন্তু সেখানে কোনও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন নি তিনি।

কিন্তু তাঁদের যুক্তিকে আমলে নেন নি বিচারক ধর্মেন্দ্র রাণা। তদন্তকারীদের পেশ করা কিছু হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের রেকর্ড ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান তুলে ধরে তিনি জানান, ‘‘আর যাই হোক না কেন, এটা প্রমাণিত যে চাকা জ্যাম করে রাস্তা অবরোধ করার ষড়যন্ত্র হয়েছিলো। আর ৩৩৯ ধারা অনুযায়ী, একজন ব্যক্তিও যদি অন্যায়ভাবে এ কাজ ঘটিয়ে থাকেন, তা অপরাধ। অপরাধ করার উদ্দেশ্য নিয়ে যদি পাঁচ জন অথবা তাঁর বেশি মানুষ একত্রিত হন, ১৪১ অনুচ্ছেদের ৩ নং উপধারা অনুযায়ী সেটাও অপরাধ।’’

কিন্তু সফুরার উপর ঘটনাস্থলে উপস্থিতি সকলের কাজের দায় চাপানো হবে কেনো, পাল্টা প্রশ্ন তোলেন তাঁর আইনজীবীরা। জবাবে বিচারক ধর্মেন্দ্র রাণা বলেন, ‘‘আমার মতে তদন্তে যদি ষড়যন্ত্রের কথা উঠে আসে, সে ক্ষেত্রে যড়যন্ত্রকারীদের একজনও যদি কোনও মন্তব্য করেন, তা সেখানে উপস্থিত সকলের বলে ধরে নেওয়া যায়। ’’

বিচারক ধর্মেন্দ্র রাণা আরও বলেন, ‘‘জ্বলন্ত কয়লা নিয়ে খেললে, হাওয়া লেগে আগুন ছড়াবেই। তার জন্য হওয়াকে দোষ দেওয়া যায় না। ষড়যন্ত্রকারীদের উস্কানিমূলক মন্তব্যের দায় অভিযুক্তের উপরও প্রযোজ্য।’’ এর পরই সফুরার জামিনের আর্জি খারিজ করেন বিচারক রাণা। তবে জেলের মধ্যে যাতে তাঁর খেয়াল রাখা হয়, তা নিশ্চিত করতেও নির্দেশ দেয়া হয় ।

কিন্তু আদালতের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে বিশিষ্ট মহলে। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় খোলাখুলি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকেই, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর, আলি ফজল, চিত্র পরিচালক হংসল মেহতা। টুইটারে স্বরা লেখেন, ‘‘লজ্জাজনক ঘটনা। এ ভাবে পড়ুয়াদের তাড়া করে বেড়ানো বন্ধ হোক।’’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশ্যে টুইটারে আলি ফজল লেখেন, ‘‘স্যার একজন গর্ভবতী মহিলা জেলে পড়ে রয়েছেন। তাঁর মধ্যে একটা প্রাণ বড় হচ্ছে। আপনার কাছে অনুরোধ, এই দুঃসময়ে তাঁর থাকার একটা ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক। তাঁকে কি আইসোলেশনে রেখা যায় না ? এতে অন্তত দেশের মায়েরা নিরাপত্তা বোধ করবেন।’’

হংসল মেহতা লেখেন, ‘‘সফুরা জেলে কেনো?’’

সফুরার বোন সামীয়া জানিয়েছেন আদালতের সিদ্ধান্তে তিনি একটুও অবাক হন নি। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘‘আজকাল কোনও কিছুতেই আর অবাক হই না। আবার চেষ্টা করবো। গত কয়েক বছর ধরে যা চলছে, তাতে ভারতীয় মুসলিম হিসেবে এ সব অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। তবে আশা করি, দেরিতে হলেও সুবিচার পাবো।’’

এর আগেও, দু’বার জামিনের আবেদন নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সফুরা। তাঁর উপর ইউএপিএ কার্যকর হওয়ার আগে গত ১৮ এপ্রিল প্রথম বার আদালতে আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। ২১ এপ্রিল সেটি খারিজ করে দেয় আদালত। ২ মে দ্বিতীয় বার  আবেদন করলে, তা-ও খারিজ হয়ে যায়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশ যখন সফুরার মুক্তির দাবিতে সরব, তখন বিজেপিপন্থী কিছু সংগঠন সোশ্যাল মিডিয়াতেই সফুরার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। চলছে কুৎসা। কুৎসা রটনাকারীদের বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন নেটিজেনরা।  একটা প্রশ্নই বার বার উঠে আসছে, করোনা সংক্রমণে সারা দেশ যখন ত্রস্ত, তখন এক গর্ভবতী মহিলাকে এভাবে আটকে রাখা কতটা সঙ্গত?

সূত্রঃ bbc.com/আনন্দবাজার।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে- প্রিন্সিপাল সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী   ❖   মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় আল্লামা বাবুনগরীর শোক: ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবী   ❖   কে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ?   ❖   ইসরায়েলকে বয়কট করার আইন বাতিল আমিরাতের   ❖   শারজাহ বিএনপি’র উদ্যোগে ৪২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন   ❖   মার্কিন-ইসরায়েলি প্রতিনিধি সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছেছেন   ❖   মোহাম্মদ বিন রাশিদ জ্বালানি, অবকাঠামো, আবাসন ও পরিবহন খাতে পরিচালনার রোডম্যাপ সম্পর্কে জানিয়েছেন   ❖   সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তা-জাহাজ ইয়েমেনের আল মুকাল্লা বন্দরে পৌঁছেছে   ❖   তিস্তায় চীনা বিনিয়োগ নিয়ে চাপের মুখে ভারত?   ❖   শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ানোর কথা ভাবছে সরকার