All for Joomla The Word of Web Design
আন্তর্জাতিক

লকডাউনে যাচ্ছে গাজীপুর সিটি, প্রস্তুত মেয়র জাহাঙ্গীর

কঠোর লকডাউনে যাচ্ছে সমগ্র গাজীপুর। আগামী শনিবার থেকে একযোগে ৫৭টি ওয়ার্ড লকডাউন করা হবে। লকডাউনে নাগরিকদের যাবতীয় সেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম।

করোনাভাইরাসের ভয়াল সংক্রমণ ঠেকাতে সমগ্র গাজীপুরকে কঠোর লকডাউনের আওতায় আনতে বারবার বলে আসছিলেন মেয়র জাহাঙ্গীর। অবশেষে সরকার তার দাবি যৌক্তিক মেনে নিয়ে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়।

দেশের সবচেয়ে বড় এই সিটি করপোরেশনে অধিক ঘনত্বের কারণে লকডাউন কার্যকরে হিমশিম অবস্থা সৃষ্টির আশংকা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছেন মেয়র। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনগণের শতভাগ সুবিধা নিশ্চিত করতে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন তিনি।

এর আগে লকডাউন বাস্তবায়নের দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের হাতে থাকলেও এবার সিটি করপোরেশনের কাছে যাচ্ছে এই ক্ষমতা। লকডাউন সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মেয়র।

এদিকে, লকডাউনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষদের সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে দরিদ্র মানুষদের তালিকা তৈরি এবং জরুরি সেবার জন্য অনেকগুলো টিম প্রস্তুত রেখেছেন জাহাঙ্গীর আলম। করোনা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় লকডাউন কার্যকর করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন তিনি।

জানা গেছে, লকডাউন বাস্তবায়ন করতে ইতিমধ্যে ৫৭ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের নিয়ে সভা করেছেন মেয়র। এ ছাড়াও সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ওয়ার্ড পর্যায়ে একটি কমিটি গঠন করে লকডাউন কার্যকর করা হবে। তবে ওয়ার্ড পর্যায়ে লকডাউন বাস্তবায়নের কাজটি সমন্বয় করবেন স্থানীয় কাউন্সিলর। ইতিমধ্যে হতদরিদ্র, শ্রমিক এবং পোষাকার কারখানায় কর্মরতদের তালিকা শেষ করেছেন জাহাঙ্গীর আলম।

এ ছাড়াও মেয়রের উদ্যোগে গঠন করা ‘হ্যালো ছাত্রলীগ’ প্লাটফর্মের মাধ্যমে একটি বিশেষ টিম সহযোগিতা ও ত্রাণ পৌঁছে দিতে কাজ করবে। ২৪ ঘন্টা এই টিমের সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

মেয়র বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় শ্রমিক ও ভ্রাম্যমান মানুষ বেশি। তাই এখনি ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।’

জাহাঙ্গীর আলম আরো বলেন, ‘লকডাউন কার্যকরের আগে জীবন ও জীবিকা দুটি বিষয় নিয়ে বিস্তর কাজ হয়েছে। জরুরী সেবা নিশ্চিত করতে গাড়ী, চিকিৎসক এবং সেচ্ছসেবীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গাজীপুরের সব নাগরিকদের অনুরোধ জানাই ঘরে থাকার জন্য। কারণ কয়েকদিনের কষ্ট অনেকগুলো মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারে। বেঁচে থাকলে আমরা ঘুরতে পারবো, বেড়াতে পারবো। কিন্তু আপনজন হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়া যাবে না। কয়েকদিন কষ্ট স্বীকার করে এই যুদ্ধ জয়ের পর আমরা আনন্দ উৎসব করবো।’

জানা গেছে, মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিবেচনায় সারাদেশকে এলাকাভিত্তিক সরকার লাল, হলুদ ও সবুজ জোনে ভাগ করে লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে। লকডাউন পরিস্থিতিতে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সার্বিক কার্যক্রমের সমন্বয়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল জেলা প্রশাসনের। ফলে নগর প্রধান হয়েও মেয়রদের অনেক সময় জনসেবামূলক কার্যক্রম গ্রহণে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

নাগরিকদের সেবার মান বৃদ্ধি করতে গাজীপুর সিটি মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন বিভিন্ন ফোরামে এ বিষয়ে বলে আসছিলেন। তার দাবি ছিল সিটির প্রধান যেহেতু মেয়র সেহেতু মূল দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের থাকলে কাজে সমন্বর করতে সুবিধা হয় বেশি। জনগণও বেশি সুফল পাবেন।

অবশেষে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত আসলো সিটি কর্পোরেশন এলাকায় জোনভিত্তিক লকডাইনের নিয়ন্ত্রণ কার্য্ক্রম বাস্তবায়ন করবে সিটি কর্পোরেশন। ফলে দেশের সকল সিটি কর্পোরেশন এই ক্ষমতা পেল। সোমবার এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আর সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে জেলা প্রশাসন সার্বিক সমন্বয় করবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা/উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দফতর সমূহ সমন্বিতভাবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

এ বিষয়ে সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সিটি কর্পোরেশনের অভিভাবক হিসাবে জনগণের সকল দায়িত্ব মেয়রের ওপর বর্তায়। বিশেষ করে করোনা ভাইরাসের মতো নেতিবাচক পরিস্থিতিতে জনগণের প্রত্যাশা মেয়রের ওপর বেশি থাকে। জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বয় একটি বড় বিষয়। এজন্য আমি প্রথম থেকেই সিটির আওতায় সমন্বয়কের প্রধান দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের প্রয়োজন এমন দাবি করে আসছিলাম।

এতে সিটির আওতায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দফতর থাকলে সমন্বয়ে সুবিধা। কাজের গতি বৃদ্ধি পায়। জনগণও বেশি সুফল পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার আমাদের দাবি মেনে সিদ্ধান্ত দেওয়ায় আমি খুশি। দোয়া করবেন যেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করে জনগণকে প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা দিতে পারি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশে বলা হয়েছে, লাল অঞ্চলে (অতি ঝুঁকিপূর্ণ) অবস্থিত সামরিক বা অসামরিক সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি দপ্তরগুলো এবং এই দুই ধরনের এলাকায় বসবাসকারী ওই সব দপ্তরের চাকরিজীবীরা সাধারণ ছুটির আওতায় থাকবে।

আর হলুদ এবং সবুজ (নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ) এলাকায় অফিসগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে চলবে। ঝুঁকিপূর্ণ, অসুস্থ কর্মচারী, সন্তান সম্ভাব্য নারীরা কর্মস্থলে আসবেন না। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক ১২ দফা নির্দেশনা মানতে হবে। জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় বিষয় ক্ষেত্র ছাড়া সব সভা ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে করতে হবে।

আদেশে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন অনুযায়ী এখতিয়ারভুক্ত কর্তৃপক্ষ (মূলত স্বাস্থ্য বিভাগ) লাল, হলুদ ও সবুজ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। এর মধ্যে লাল এলাকায় চলাচল ও জীবনযাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   কাল থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে আরব আমিরাতের মসজিদ   ❖   এডিআইও আবুধাবিতে স্টার্টআপের তহবিলের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর জন্য শোরুক পার্টনার্স বেদায়া তহবিলে বিনিয়োগ করেছে   ❖   বাইতুল মোকাররমের খতিব হতে পারেন মাওলানা হাসান জামিল সাহেব!   ❖   ভারতীয় একজন কিডনী ব্যর্থতায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, তুমি নিরাপদ হাতে রয়েছ   ❖   উচ্চ আদালতের স্থিতিবস্থা জারির পরও ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে রাজধানীর একটি মসজিদ   ❖   করোনাকালে ক্বওমী মাদরাসাগুলোর ১২ চ্যালেঞ্জ   ❖   চাকরিচ্যুৎ সেই ইমামকে স্বপদে বহাল করতে লিগ্যাল নোটিস   ❖   আজারবাইজানকে ১১ টন চিকিত্সা সহায়তা পাঠিয়েছে আমিরাত   ❖   রাতে নৌকার ছাদে জানাজা পড়ে লাশ ফেলা হতো সাগরে : খোদেজা বেগমের দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রা   ❖   স্বেচ্ছাচার, স্বজনপ্রীতি ও স্বৈরাচার