All for Joomla The Word of Web Design
আন্তর্জাতিক

আমিরাত ইসরাইল চুক্তি: কে বেশি লাভবান?

সংযুক্ত আরব আমিরাত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনের দাবি নিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে চুক্তি করলেও ইসরাইল এখনও গাজার ফিলিস্তিনিদের ওপর বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে। পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে ইহুদি বসতি স্থাপনের কাজও জারি রেখেছে। এমনকি যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে সেদিনও ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ওপর বোমা হামলা চালিয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের শান্তির কথা বলে আরব আমিরাত যে চুক্তি সম্পন্ন করেছে তার আসল উদ্দেশ্য কী ছিল? এতে কে কতটুকু লাভবান হয়েছে?

১. আমিরাত  মধ্যপ্রাচ্যে ভবিষ্যতে ইসরাইলের পথে হাটবে।
২. আমিরাতের পরে বাহরাইন, ওমান ও সৌদি আরবও একই পথে এগুবে বলে ইসরাইলি মিডিয়াতে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
৩. এটিকে ক্যাম্পডেভিড চুক্তির পর ইসরাইলের জন্য সবচেয়ে বড় সফলতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
৪. আর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে এটিকে।
৫. আরব বিশ্বে প্রচলিত প্রায় একটি ধর্মীয় প্রজ্ঞা ছিল যে ১৯৬৭ সালের পূর্বের সীমান্তের মধ্যে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জনের আগে ইসরাইলের সাথে কোনো সাধারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা (পড়ুন স্বীকৃতি) করা যাবে না। ২০২০ সালের ১৩ আগস্ট ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক সংযুক্ত আরব আমিরাত-ইসরাইল ঐতিহাসিক চুক্তি এটিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।
৬. ইহুদি রাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘকালীন গোপনীয় সম্পর্কের আবরণ তুলে নিয়ে আনুষ্ঠানিকতা প্রদান করেছে।
৭. বাহরাইন আর ওমানের মতো মিসরের আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি আরব আমিরাতের ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবার চুক্তিকে এই অঞ্চল ও শান্তির পক্ষে মঙ্গলজনক বলে অনুমোদন করেছে।

৮. ১৯৬৭-এর ইসরাইল-আরব যুদ্ধের পর চুক্তি ছিল, যুদ্ধের সময় দখল করা সব অঞ্চল ইসরাইল ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ফিরিয়ে দেবে। ইসরাইল এই অঞ্চলগুলোকে সমর্পণ না করা পর্যন্ত আরব লীগ একমত হয়েছিল যে ইসরাইল রাষ্ট্রের সাথে শান্তি প্রতিষ্ঠা, স্বীকৃতি দান বা সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। তবে মিসর ও জর্দান ১৯৭৭ এবং ১৯৯৪ সালে ইসরাইলের সাথে আলোচনা এবং পরে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে দেশটির সাথে আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। আর এখন যোগ হলো আরব আমিরাত।
৯. ২০২০ সালের ১৩ আগস্ট ইসরাইলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত তৃতীয় আরব দেশ হিসেবে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে আরব লীগের সদস্য রাষ্ট্রের এই সর্বশেষ পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের লড়াইয়ে আরেকটি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করল এবং আরব লীগকে এটি নিঃসন্দেহে আরো দুর্বল করে দেবে।
১০. ফিলিস্তিনিদের সাথে সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধানে ইসরাইলকে চাপ দেয়া এখন আরো কঠিন হবে।
১১. আরব লিগের অন্যতম উচ্চাকাক্সক্ষা ছিল আরব দেশগুলোর মধ্যে একটি সুসঙ্গত আঞ্চলিক পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা করা। এই প্ল্যাটফর্মে ঐকমত্য হয় কম। এখন বিভাজনটা আরো বেড়ে গেল।
১৩. ইসরাইল এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য ইস্যুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাম্প্রতিক বিদেশী নীতি অন্য কয়েকটি দেশ সম্ভবত অনুসরণ করার ক্ষেত্রে আদর্শ হয়ে উঠবে। সৌদি আরব ইতোমধ্যে ইসরাইলের সাথে নিয়মিত সংযোগ বজায় রাখার মধ্য দিয়ে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
১৪. জেরুসালেমের আল-আকসা কম্পাউন্ডে ইসলামিক ওয়াকফ কাউন্সিলের সৌদি প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ইসরাইল ও সৌদি আরব গত ডিসেম্বরের পর থেকে গোপন বৈঠক করেছে।
১৫. দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ বা যোগাযোগের অর্থ হলো ফিলিস্তিনের ওপর অব্যাহত বোমা হামলা ও অবরোধকে সমর্থন করা।
১৬. প্রথমত, সংযুক্ত আরব আমিরাত মনে হচ্ছে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু উভয়েরই হাতে খেলছে। উভয় নেতা তাদের দেশে কোভিড-১৯ এর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যর্থ হওয়ার পরে তাদের নিজের দেশে রাজনৈতিকভাবে বেঁচে থাকার লড়াই করছেন। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় ট্রাম্পের অক্ষমতা আমেরিকার অর্থনীতি এবং বেকারত্ব পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক সৃষ্টির বিষয়ে রাজি হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু উভয়েরই রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে একটি লাইফলাইন দেয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
১৭. দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু উভয়ই ‘শতাব্দীর চুক্তির’ অংশ হিসেবে পশ্চিম তীরের ইসরাইলভুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করার কারণে বিব্রত অবস্থা থেকে তাদের বাঁচানোর চেষ্টাও এর মধ্যে থাকতে পারে।
১৮. সম্ভবত সংযুক্ত আরব আমিরাতকে এই অঞ্চলে আরো বৃহত্তর ভূমিকার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এটি আরব লীগ এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিল (জিসিসি) উভয়েরই ভূমিকাকে ছাড়িয়ে যাবে। আর এটি যে ইসরাইলের জন্য সম্পূরক ভূমিকা হবে সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।

১৯.এই মাসের শুরুর দিকে, দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক শত্রু ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবসহ বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় এবং আঞ্চলিক বিষয়ে বিরল আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি ইরানের সাথে একটি চুক্তি করতে প্রস্তুত এবং সম্ভবত ইরান ও আমেরিকার মধ্যে একটি চুক্তি প্রত্যক্ষ করবে বিশ্ব। আশ্চর্যজনকভাবে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন ও মিসর মে ২০১৬ সালে কাতার অবরোধ করেছিল কাতারের ইরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করা, কাতার থেকে ইরানের সামরিক প্রতিনিধিদের বহিষ্কার করা এবং অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সীমাবদ্ধ করার দাবিতে। শেষ অবধি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পারমাণবিক শক্তি ক্লাবে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত করার বিষয়টি এবং ইসরাইলের সাথে সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ হতে পারে খেলার মাঠের প্রস্তুতি।

২০. আমিরাত এই মাসের শুরুর দিকে ঘোষণা করে যে, তারা বারাকাহ পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র সফলভাবে শুরু করেছে। এটি আরব বিশ্বে প্রথম এবং পারমাণবিক বিদ্যুতের লক্ষ্য অর্জনে দেশটির লক্ষণীয় পদক্ষেপ। এর সাথে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দানের সম্পর্ক থাকতে পারে।

২১. আরব দেশগুলো দ্রুত অমুসলিম পাশ্চাত্যের জিম্মায় নিয়ে চলে যাচ্ছে, জড়িয়ে পড়েছে আরো বেশি পশ্চিমা নিরাপত্তা সুরক্ষায়, আরো বেশি নির্ভরশীল সম্পর্ক তৈরি করছে তাদের সাথে।

২২. আরব দেশগুলো উম্মাহর দাবি ও উত্তরাধিকার থেকে নিজেদের ক্রমাগতভাবে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এটি হচ্ছে ফিলিস্তিন কাশ্মির রোহিঙ্গা ইত্যাদি ইস্যুতে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বাধীন নতুন ফ্রন্ট এটি স্পষ্টভাবে করছে এবং প্রকাশ্যে ইসলামী রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে পরিত্যাগ বা প্রত্যাখ্যান করছে।

২৩. একসময়, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়া সোভিয়েত কমিউনিজমের বিরুদ্ধে ‘দক্ষিণ অঞ্চল’ গঠন করেছিল এবং পশ্চিমাদের স্বার্থ রক্ষা করেছিল। এই তিনটি দেশ তখন থেকেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে। এখন এই দেশগুলো নিজস্ব একটি অবস্থান নির্মাণ করতে চাইছে।

২৪. যে দেশগুলোকে আমেরিকা, ইউরোপ এবং ইসরাইল হুমকিস্বরূপ মনে করে, তাদের বিরুদ্ধে আরব দেশগুলো, বিশেষত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর নিজেদের ঐক্যবদ্ধ করছে। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তারা পশ্চিমা শক্তির সুরক্ষা বলয় তৈরি করতে চাইছে এবং অন্যদের প্রতি হুমকিপূর্ণ বার্তা প্রেরণ করছে।

২৫. অ-আরব মুসলিম দেশগুলো বিদেশী আক্রমণ মোকাবেলার প্রয়াস চালাচ্ছে আর আরব মুসলিম দেশগুলো তাদের অঞ্চলের মধ্যে লড়াই করছে আর এটি করার সময় তারা পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তা চাচ্ছে।
২৬. অ-আরব মুসলিম দেশগুলো যখন ভেতরে ও বাইরে শক্তি সংগ্রহ করছে, লড়াই করছে, তাদের নিজস্ব শক্তি সক্রিয় করছে তখন আরব মুসলিম দেশগুলো বাইরে থেকে এ শক্তির ওপর আক্রমণ করছে, বিদেশী শক্তির সাথে মিলে তারা নিজেদের মধ্যে সঙ্ঘাত জোরালো করে তুলছে।

২৭. আরব প্রশাসন পশ্চিমাদের সাথে যে একতরফা নির্ভরশীল সম্পর্ক তৈরি করে সেটিই এর কারণ। এই সম্পর্ক প্রায় সবসময়ই আরব জনগণ এবং তাদের দেশগুলোর স্বার্থের বিরুদ্ধে ছিল।

২৮.নির্ভরতার সম্পর্কটি এখন নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে এবং এটি আরো ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠছে। এর নেতৃত্ব এখন মোহাম্মদ বিন জায়েদ (সংযুক্ত আরব আমিরাত), মোহাম্মদ বিন সালমান (সৌদি আরব) এবং সিসি (মিসর) দিচ্ছেন।

২৯. পশ্চিমারা প্রথম দিকে ইরানের বিরুদ্ধে আরব সরকারগুলোকে ব্যবহার করেছিল। এই রূপটি তাদের আগ্রহের ভিত্তিতে নয়, বরং ইসরাইলের অগ্রাধিকার এবং মার্কিন পরিকল্পনার ভিত্তিতে ছিল। তারা তিন দশক ধরে এই প্রসঙ্গে লড়াই করে আসছে এবং সর্বদা হেরে গেছে। কারণ তাদের পরাজয়কে অনিবার্য করা হয়েছে। তারা ইরাক ও সিরিয়াকে হারিয়েছে এবং তারা এখন লেবানন ও ইয়েমেনকে হারাতে চলেছে।

৩০. এবার প্রায় একই মানসিকতা নিয়ে তুরস্কের বিরুদ্ধে আরব শক্তিকে সক্রিয় করা হচ্ছে। তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, উপসাগরীয় দেশ এবং সিসির মিসরের সমন্বয়ে একটি ‘তুরস্ক-বিরোধী ফ্রন্ট’ প্রতিষ্ঠা করেছে।

এই মোর্চা আফ্রিকা থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসবাদী সংগঠন পরিচালনা, অর্থনৈতিক আক্রমণ, হত্যা ও মৃত্যুদ- কার্যকর করা- ইত্যাদির মাধ্যমে তুরস্ককে প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
তারা তুরস্কের সাথে লিবিয়ায়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে, ককেশাসে, পারস্য উপসাগরে, লোহিত সাগরের আশপাশে এবং মধ্য আফ্রিকায় অঘোষিত যুদ্ধ চালাচ্ছে। এসব করতে গিয়ে তারা ইসরাইল, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ তথা বাস্তবে গ্রিস এবং গ্রিক সাইপ্রিয়ট প্রশাসনের সাথে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে।

৩১. পরের টার্গেট পাকিস্তান
এটা বেশ মজার বিষয় যে, একই ফ্রন্টটি সম্প্রতি পাকিস্তানকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে। সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারতের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে পাকিস্তানকে লক্ষ্যবস্তু করতে শুরু করে।
পাকিস্তানে তাদের বিনিয়োগ বাতিল করা হচ্ছে, প্রদত্ত সহায়তা প্রত্যাহার করা হচ্ছে, এবং কাশ্মীর সম্পর্কিত ভারতের পরিকল্পনাগুলোকে সুস্পষ্ট সমর্থন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে। কাশ্মীর ইস্যুতে ওআইসিকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। কাশ্মীরে ভারতীয় নিয়ন্ত্রণকে গভীরে নিয়ে যেতে ইসরাইলি ভূমিকায় সহায়তা দিতে কাজ করছে তারা। কাশ্মীরের মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসনের অবশিষ্টটুকু সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যখন ছিনিয়ে নেয়া হয় ঠিক তখনই বাহরাইন, আমিরাতে ভারতের নেতৃত্বকে সংবর্ধিত করা হয়েছে।
প্রশ্ন হলো, তুরস্কের পরে এই আরব দেশগুলো কি পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও ব্যবহার হতে চলেছে? এই প্রশ্নের জবাব সম্ভবত হ্যাঁ। এরপর কোন দেশ আসবে? খুব সম্ভবত শক্তিমত্তায় উদীয়মান মুসলিম শক্তি ইন্দোনেশিয়া।

শিয়া-সুন্নির পর সুন্নি গৃহযুদ্ধ এখন দিগন্তে!
‘সিভিল ডেমোক্রেটিক ইসলাম : পার্টনারস, রিসোর্সেস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিস’ শীর্ষক একটি প্রকল্পের বিষয় ২০০৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হয়েছিল। কীভাবে ‘ইসলামী গৃহযুদ্ধ’ আয়োজন করা যায় তার ব্যাখ্যা সেখানে করা হয়।

এর এক বছর পরে, ‘মুসলিম বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল’ শিরোনামে ৫৬৭ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনে ইসলামী গৃহযুদ্ধের বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। এ জন্য গঠিত ফ্রন্টগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো, শিয়া-সুন্নি যুদ্ধ এবং দ্বিতীয় ফ্রন্টটি আরব মুসলিম আর অ-আরব মুসলমানদের যুদ্ধ। প্রথম পর্বটি সম্ভবত শেষ করে আনা হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় পর্বের মঞ্চায়নের কাজ হবে। আর এতে ইউএই এবং এরপর বাহরাইন ওমান সৌদি আরব যোগ দিলে মিসরসহ তাদের দাঁড় করানো হবে তুরস্ক ও মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে। পেছনে থাকতে পারে ইসরাইল, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র। এই মেরুকরণটি ঠিক কী রূপ নেবে তা পরিষ্কারভাবে বলা কঠিন। তবে লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং সর্বশেষ লেবাননের বিস্ফোরণের ঘটনায় মনে হচ্ছে আয়োজন অনেক দূর এগিয়ে গেছে।

আরব রাস্তাগুলো কি জাগ্রত হবে!
কথিত ইসলামী গৃহযুদ্ধের যে আয়োজন হচ্ছে তা এই অঞ্চলের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং মিসর সরকারকে শিয়া-সুন্নি যুদ্ধের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। তাদের এখন সুন্নিদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের জন্য চালিত করা হচ্ছে। আর তুরস্ককে তাদের সামনে প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে হাজির করা হচ্ছে।

এই সরকারগুলো প্রতিটি যুদ্ধে এর আগে পরাজিত হয়েছিল এবং অঞ্চলটি এখন ধ্বংসের কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে। তারা পরের যুদ্ধেও হয়তো হারতে চলেছে। তবে আরব জনগণের জন্য তাদের রাষ্ট্রকে এদিকে নিয়ে যাওয়া আত্মহত্যার প্রস্তুতি ছাড়া অন্য কিছু নয়। তারা আরব দেশগুলোতে ফাঁদ পেতেছিল। এসব নেতা এবং তাদের শাসনব্যবস্থা আরব অঞ্চলকে ধ্বংসের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আরব মুসলিম দেশগুলো ক্রমাগত শক্তি হারাতে থাকার পর অ-আরব মুসলিম দেশগুলো কেন ক্ষমতা অর্জন করছে? এই উপলব্ধি গভীরভাবে করা প্রয়োজন। প্রশ্ন হতে পারে এ পরিস্থিতিতে বিকল্প কি? আরবদের এখনই জেগে উঠতে হবে! অবশ্যই নতুন উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে হবে! ইসরাইল ও তার মিত্রদের সিদ্ধান্তের ঘুঁটি হিসেবে জনগণের বিরুদ্ধে সরকারের শক্তি ব্যবহারের ব্যাপারে রুখে দাঁড়ানোর আর কোনো বিকল্প নেই।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে- প্রিন্সিপাল সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী   ❖   মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় আল্লামা বাবুনগরীর শোক: ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবী   ❖   কে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ?   ❖   ইসরায়েলকে বয়কট করার আইন বাতিল আমিরাতের   ❖   শারজাহ বিএনপি’র উদ্যোগে ৪২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন   ❖   মার্কিন-ইসরায়েলি প্রতিনিধি সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছেছেন   ❖   মোহাম্মদ বিন রাশিদ জ্বালানি, অবকাঠামো, আবাসন ও পরিবহন খাতে পরিচালনার রোডম্যাপ সম্পর্কে জানিয়েছেন   ❖   সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তা-জাহাজ ইয়েমেনের আল মুকাল্লা বন্দরে পৌঁছেছে   ❖   তিস্তায় চীনা বিনিয়োগ নিয়ে চাপের মুখে ভারত?   ❖   শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ানোর কথা ভাবছে সরকার