All for Joomla The Word of Web Design
জাতীয়

আল্লামা আহমদ শফী’র ওপর আমাদের রাগ ছিল, বিদ্বেষ নয়

সৈয়দ শামছুল হুদা
আলহামদুলিল্লাহ, হাটহাজারী মাদ্রাসার সুন্দর সমাধান হয়েছে। শেষ সময়ে হলেও আল্লামা আহমদ শফী দা.বা. বুঝতে পেরেছেন যে, তিনি কোন ভুলের মধ্যে ছিলেন। গত রাতে চূড়ান্ত সমাধানের আগে তাঁর খাদেম শফি যে সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তা দেয়, তখনই বুঝে গিয়েছিলাম যে, সুন্দর সমাধান আসছে। কিন্তু বাহিরের পুলিশের রণপ্রস্ততি এবং তথাকথিত সাজানো সার্কূলারের কারণে কিছুটা ভয় কাজ করছিল। মানুষ হিসেবে আল্লামা আহমদ শফী দা.বা. এর ভুল থাকতেই পারে। এটা স্বীকার করার মধ্যে কোন লজ্জা নেই। জড়তা নেই। তারপরও আমার কাছে মনে হয়েছে যে, অযোগ্য, অথর্ব, অতি তেল খাওয়া সন্তান আনাস হুজুরকে বিভ্রান্ত করে রেখেছিল। সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে সবারই চেষ্টা থাকে। কিন্তু আনাস যে, হুজুরকে এতটা বিভ্রান্ত করে রেখেছে তা তিনি নির্দিষ্ট বলয়ের ভিতর থাকায় বুঝতে পারেননি। এবং আমাদের বড়রা বেআদবির ভয়ে হুজুরকে এসব বিষয়ে সাহস করে কেউ সত্য বলেছেন বলেও মনে হয়নি। সর্বশেষ হুজুরের হাত ধরেই কওমী মাদ্রাসার ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা বড় ধরণের রক্তপাতমুক্তভাবে সমাধান হয়েছে তার জন্য শুকরিয়া আদায় করি।
ছাত্রদের দেওয়া সকল দাবী বিনাশর্তে মেনে নিয়ে তিনি আবারও নজির সৃষ্টি করলেন। উনি যদি গতরাতে সামান্য ইঙ্গিত প্রশাসনকে দিতেন তাহলে বড় ধরণের ক্ষতি হয়ে যেত কওমী অঙ্গনের। বিশেষকরে হাটহাজারী মাদ্রাসার। তিনি কোন হটকারী সিদ্ধান্ত দেননি। দালালদের খপ্পর থেকে তিনি গতকাল মুক্ত ছিলেন। আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী দা.বা. এর দীর্ঘ ১৫বছর পর শুরা মিটিং এ উপস্থিতি ছিল সত্যিকার অর্থেই সাহস যোগানো ঘটনা। আল্লামা আহমদ শফী দা.বা. যে ভুলটি করেছিলেন সেটা হলো, তাঁর প্রকৃত হিতাকাঙ্খীদের বিতাড়িত করে এমন সব লোকদের শুরা কমিটিতে জায়গা দিয়েছিলেন যারা তাঁর প্রকৃত হিতাকাঙ্খী নয়। এরা ছিল একটি স্বার্থান্বেষী মহল। এরা আল্লামা আহমদ শফী দা.বা. এর ভাবমূর্তিকে বিক্রি করে খেয়েছে। আনাস সেই দলের লিয়াজো ম্যান হয়ে উঠেছিল। শুধুমাত্র আনাস এর কারণে আজকে হুজুরকে এই পরিণতি বরণ করতে হলো।
একটি কথা পরিস্কার করে বলতে চাই, আল্লামা আহমদ শফী যতই ভুল করুন না কেন, তাঁর হাত ধরেই কওমী মাদ্রাসার এক অসাধারণ স্বীকৃতি আদায় করা সম্ভব হয়েছে। আজকে যারা স্বীকৃতিকে বিকৃতি হিসেবে দেখছেন তাদের কাছে পরিস্কার বলতে চাই, এটা স্বীকৃতির কোন দোষ না। এটা আমাদের কিছু স্বার্থান্বেষী ভাইয়ের সীমাহীন লোভ, দুর্বৃত্তপনার ফল ছিল। বেফাককে একচ্ছত্র প্রাধান্য দিয়ে কওমী অঙ্গনের সর্বোচ্চ সনদের এমন সুন্দর স্বীকৃতি আদায় হল আল্লামা আহমদ শফী দা.বা. এর শ্রেষ্ঠ অবদান। যারা এখনো বুঝতে পারছেন না, যারা কখায় কথায় স্বীকৃতিকে দোষারূপ করছেন তারা মনে করি ভুলের মধ্যে আছেন। যখন নীরবে চিন্তা করবেন, আল্লামা আহমদ শফী দা.বা. এর ইন্তেকালের পরে বুঝতে পারবেন, কী সম্মান তিনি আমাদেরকে দিয়ে গিয়েছেন। শাপলার রক্তক্ষয়ের কারণে শেখ হাসিনা সরকার যে চাপের মধ্যে ছিল তার কিছুটা দায় তিনি এভাবে স্বীকৃতি দিয়ে শোধ করেছিলেন। কওমী হুজুরদেরকে খুশি করতে তিনি সচেষ্ট ছিলেন। কিন্তু আমাদের মধ্যে কিছু দালাল নিজেদের স্বার্থ আদায় করতে গিয়ে সরকারের কাছে নিজেদের ইজ্জত-সম্মান জ্বলাঞ্জলি দিয়ে বসেছিল।এ কারণে শুকরানা মাহফিলে কিছু ভুল হয়েছিল। সে ভুল থেকে আল্লামা আহমদ শফী সাহেবকে বের হতে দেয়নি কুচক্রী মহল। আমি মনে করি আজ তিনি সকল দায়মুক্ত। এসব কারণে উনার প্রতি যত রাগ, যত ক্ষোভ ছিল, সবকিছুই আজ ভুলে গিয়েছি।
আমি একজন কওমী সন্তান হিসেবে, আল্লামা আহমদ শফী দা.বা. এর একজন ছাত্র হিসেবে তাঁর প্রতি আমার সেই হারানো শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, সম্মান বিন্দুমাত্র কমে নাই। মনে রাখবেন, আল্লামা আহমদ শফী এর প্রতি আমাদের কোন বিদ্বেষ ছিল না। রাগ ছিল। কেন তিনি সত্যটা বুঝতে পারছেন না, জানতে পারছেন না এ জন্য খুব ক্ষোভ ছিল। এর বেশি কিছু নয়। কিছু মানুষ হুজুরকে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করে তৃপ্তি পায়। তাদের আইডিতে ঢুকে একবার তার অতীতটা একটু দেখি। সে কি কওমীর বন্ধু, নাকি প্রকৃত শত্রু সেটা বুঝতে চেষ্টা করি। দেখে হতাশ হই।কোন কওমীর প্রকৃত সন্তান একজন বয়োজ্যেষ্ট আলেমকে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করতে পারে না। যারা করেছে, এটা খোঁজ নিলে দেখা যাবে তারা আসলে কওমীর সন্তান নয়। অথবা তারা নিজেরাই এখন বিপথগামী।
কোন কোন ভাই আমাকে পল্টিবাজ বলছেন। আমাকেও গালি দিচ্ছেন। আমি জানি তাদের ক্ষোভের কারণ। যতক্ষণ অন্যায় ছিল, প্রতিবাদ করেছি। যখনই এর সমাধান হয়ে গিয়েছে, সাথে সাথে আমি পুর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছি। এখন যারা আল্লামা আহমদ শফী দা.বা. এর পদত্যাগ নিয়ে মস্করা করতে চান, তাকে গালিগালাজ করতে চান, তাকে গালি দিযে বিজয় উৎসব করতে চান তাদের দলে আমি নেই। আমি এখন আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনাকারীর দলে। হে আল্লাহ, আমার লেখায় যদি কেউ ভুল বুঝে থাকে, কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকে, কেউ যদি বড়দের প্রতি কোন প্রকার ঘৃনা সৃষ্টিতে প্রেরণা পেয়ে থাকে আমি সেই পাপের জন্য ক্ষমা চাই। আমি তাঁর এই পদত্যাগকে কষ্টের সাথে গ্রহন করছি। কারণ এ ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। অযোগ্য সন্তান এবং মতলববাজরা হুজুরের দুর্বলতাকে যেভাবে কাজে লাগাচ্ছিল সেটা বন্ধ করার কোন বিকল্প পথ ছিল না।
আল্লাহ তায়ালা হুজুরকে বাকী জীবন শান্তির সাথে কাটানোর তৌফিক দান করুন। সম্মানের সাথে মৃত্যুবরণ করার তৌফিক দান করুন।
পরিশেষে হাটহাজারীর সকল ছাত্র ভাইযের প্রতি আবেদন, গৃহিত পদক্ষেপসমূহ সুন্দরভাবে বাস্তবায়নের পর আপনারা লেখাপড়ায় ফিরে যাবেন। ফেসবুকের উস্কানীতে, বিভ্রান্তিকর লেখালেখিতে আপনারা সতর্ক থাকবেন। খুব হিসাব করে পদক্ষেপ নিবেন। মনে রাখবেন, ফেসবুকের সবাই কিন্তু আপনাদের বন্ধু নয়। বন্ধুবেশি অনেক শয়তানও আছে। এরা চাইবে না, হাটহাজারী শান্ত হোক,
এরা চাইবে না কওমী অঙ্গনের সব সমস্যা মিটে যাক। কওমী আলেমরা এক হয়ে যাক। তারা চাইবে ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে দূরত্ব তৈরী করে রাখতে। তারা চাইবে, এক মাদ্রাসাকে আরেক মাদ্রাসার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে। সকলকে সতর্ক
থাকার, সচেতন থাকার, চৌকান্না থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। আর আপনাদের প্রতিবাদী আন্দোলনকেও মোবারকবাদ জানাই। আপনাদের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নেমে আসার কারণেই কওমীর জগদ্দল পাথর সরে গেছে।
জেনারেল সেক্রেটারী
বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট বিআইএম
18.09.2020

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   লালমনিরহাটের গণপিটুনি ও পুড়িয়ে হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে: ইশা ছাত্র আন্দোলন, ঢাবি শাখা   ❖   কওমী শিক্ষার্থীদের জাতির উন্নয়নের অগ্রদূত হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে হবে: মুফতি শেখ মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম   ❖   ‘হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর শিক্ষা সমগ্র মানব জাতির জন্য অনুসরণীয়’- রাষ্ট্রপতি   ❖   ফরাসিদের সাজা দেয়ার অধিকার মুসলমানদের আছে: মাহাথির   ❖   ফ্রান্স ইস্যুতে নিরপেক্ষ থাকবে বাংলাদেশ   ❖   ইসলাম অবমাননাকর কার্টুন প্রকাশে নিন্দা রাশিয়ার   ❖   অফিসে ধর্মীয় পোশাক, নোটিশ প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ   ❖   মাসে ৭০ হাজার টাকা ভাড়ায় অফিস নিল “গন অধিকার পরিষদ”   ❖   সিনামা-নাটকে বিয়ের দৃশ্যে ‘কবুল’ বলা যাবে না!   ❖   নারীদের হিজাব, পুরুষের টাকনুর ওপর পোশাক পরে অফিসে আসার নির্দেশ